BSF Jawans Protest against Indian Railway: বাথরুমে জল নেই, এসিও বন্ধ! বর্ধমানে ট্রেন থেকে নেমে বিক্ষোভ জওয়ানদের
নিউ জলপাইগুড়ি থেকে একটি স্পেশাল ট্রেন ছেড়েছিল। সেই ট্রেনেই উত্তরবঙ্গ থেকে বিএসএফ জওয়ানদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল দক্ষিণ ভারতে। সোমবার সন্ধ্যায় ট্রেনটি যাত্রা শুরু করে। মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ২৭ মিনিট নাগাদ সেটি বর্ধমান স্টেশনের পাঁচ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পৌঁছয়।
বর্ধমান স্টেশনে হঠাৎই থেমে গেল ট্রেন। নামলেন একের পর এক বিএসএফ জওয়ান। কারও হাতে বালতি। কারও হাতে বোতল। কেউ আবার জগ নিয়ে স্টেশনে ছুটছেন জল খুঁজতে। রেলের পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ তখন চরমে। অভিযোগ, ট্রেনে জল নেই। বাথরুমে জল নেই। দীর্ঘক্ষণ ধরে এসিও কাজ করছে না। তার উপর কামরায় বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোন পর্যন্ত চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, পরিষেবা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ট্রেন ছাড়তে দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন জওয়ানদের একাংশ।

ঘটনাটি মঙ্গলবার বিকেলের। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে একটি স্পেশাল ট্রেন ছেড়েছিল। সেই ট্রেনেই উত্তরবঙ্গ থেকে বিএসএফ জওয়ানদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল দক্ষিণ ভারতে। সোমবার সন্ধ্যায় ট্রেনটি যাত্রা শুরু করে। মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ২৭ মিনিট নাগাদ সেটি বর্ধমান স্টেশনের পাঁচ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পৌঁছয়। ট্রেন থামতেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন জওয়ানরা।
জওয়ানদের অভিযোগ, ট্রেন ছাড়ার পর থেকেই একাধিক সমস্যা দেখা দেয়। কামরার এসি দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। গরমে অস্বস্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। তার সঙ্গে দেখা দেয় জলের সমস্যা। পর্যাপ্ত জল ছিল না কামরায়। এমনকি বাথরুমেও জল পাওয়া যায়নি। ফলে দীর্ঘ যাত্রায় বিপাকে পড়েন জওয়ানরা। কামরার বিদ্যুৎ পরিষেবাও ঠিক ছিল না বলে অভিযোগ। তাই মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার উপায়ও ছিল না। বিষয়টি রেল কর্তৃপক্ষকে একাধিক বার জানানো হলেও সঙ্গে সঙ্গে কোনও সমাধান হয়নি বলে দাবি তাঁদের।
বর্ধমান স্টেশনে ট্রেন দাঁড়াতেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বেশ কয়েক জন জওয়ান ট্রেন থেকে নেমে পড়েন। শুরু হয় জলের খোঁজ। স্টেশন থেকে জল সংগ্রহ করতে দেখা যায় তাঁদের। অনেকের হাতেই তখন বালতি, জগ, মগ কিংবা বোতল। দীর্ঘ সময় ধরে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
এর পর বিষয়টি নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়। জওয়ানদের তরফেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পরিস্থিতির কথা জানানো হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে টানাপোড়েন। শেষ পর্যন্ত রেলের পক্ষ থেকে পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। সেই আশ্বাস পাওয়ার পর ফের ট্রেনে ওঠেন জওয়ানরা। পরে ট্রেনটি দক্ষিণ ভারতের উদ্দেশে রওনা দেয়।
রেলের পক্ষ থেকেও সমস্যার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানান, এসি কাজ না করার খবর পাওয়ার পর ইঞ্জিনিয়ারেরা ট্রেন পরীক্ষা করেন। তাঁদের ব্যাখ্যা, ট্রেন চলার সময় ব্যাটারি চার্জ হয়। কিন্তু পথে অল্প দূরত্বে বার বার থামতে হওয়ায় ব্যাটারি যথেষ্ট চার্জ পায়নি। সেই কারণেই এসি কাজ করেনি। ট্রেন একটানা চলতে শুরু করলে সমস্যা কেটে যাবে বলে জানানো হয়।
জলের সমস্যার ক্ষেত্রেও রেলের বক্তব্য রয়েছে। আধিকারিক জানান, অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে ট্রেনের জল শেষ হয়ে গিয়েছিল। বর্ধমান স্টেশনে জল ভরার ব্যবস্থা না থাকায় তখনই তা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। পরে খড়গপুরে ট্রেনে জল ভরার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়।
তবে ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়। বিএসএফের মতো একটি নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানদের নিয়ে যাওয়া বিশেষ ট্রেনেই যদি জল, বিদ্যুৎ এবং এসির মতো ন্যূনতম পরিষেবা নিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা হলে সাধারণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে ছবিটা কী? রেলের পরিষেবা নিয়ে নতুন করে সেই প্রশ্নই তুলছে বর্ধমানের ঘটনা।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


