রাজনৈতিক উত্তাপ! বাংলায় ভোট ঘোষণার আগেই কমিশনকে চিঠি বাস মালিকদের সংগঠনের, কারণ কী?
সংগঠনের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, ওড়িশার মতো রাজ্যে যেখানে নির্বাচন কমিশন অনেক বেশি ভাড়ায় বাস নিচ্ছে, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এত কম ভাড়া কেন?
ভোটের নির্ঘণ্ট এখনও ঘোষণা হয়নি, কিন্তু তার আগেই বাংলার রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে। এসআইআর ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই এবার ভোটের কাজে বাস ও মিনিবাস ব্যবহার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে কড়া বার্তা দিল বাস মালিকদের সংগঠন। সেই চিঠিতে যেমন অভিযোগ জানানো হল। তেমনই একাধিক দাবিও জানাল বাস মালিকদের সংগঠন।

চিঠিতে কী কী দাবি জানানো হল?
এর আগের নির্বাচনে ভাড়া নিয়ে হয়েছিল বিবাদ। নির্বাচন কমিশন থেকে প্রতিশ্রুতি পেয়ে ভোটে গাড়ি দিয়েও সময় মাফিক এবং পর্যাপ্ত টাকা পাওয়া যায়নি। এমনই অভিযোগ বাস মালিকদের। এবার তাই নির্বাচনের নির্ঘণ্ট কবে প্রকাশ হবে, তার অপেক্ষায় না থেকে গাড়ি মালিকদের সংগঠনের তরফে নির্বাচন কমিশনকে ভাড়ার তালিকা দিয়ে চিঠি পাঠিয়ে দেওয়া হল। অল বেঙ্গল বাস-মিনিবাস সমন্বয় সমিতির তরফে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হল, ভাড়া না বাড়ানো হলে তারা বাস দিতে পারবে না।
১. চল্লিশের বেশি আসনযুক্ত বাস নিতে হলে দৈনিক ৪৫০০ টাকা ভাড়া দিতে হবে।
২. ৩০ থেকে ৪০টি আসন বিশিষ্ট বাস নিতে হলে দৈনিক ৪০০০ টাকা ভাড়া দিতে হবে।
৩. ৩০ আসনের মধ্যে থাকা বাস নিতে হলে দৈনিক ৩৫০০ টাকা ভাড়া দিতে হবে।
৪. বাতানুকূল (এসি) বাস নিতে হলে দৈনিক ৫৫০০ টাকা ভাড়া দিতে হবে।
এছাড়াও ভোটের কাজে বাস চালক ও বাসে থাকা কর্মীদের ভাড়ায় নিতে হলে, প্রতিদিন মাথাপিছু ৫০০ টাকা করে দিতে হবে বলে দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনের স্পষ্ট বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন যদি এই শর্ত ও ভাড়ার হার মেনে নেয়, তবেই ভোটের কাজে বাস ছাড়া হবে।
আগের ভোটে ভাড়া নিয়ে অভিজ্ঞতা
বাস মালিকদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাস পিছু ভাড়া ছিল মাত্র ২০০০ থেকে ২৩০০ টাকা। অথচ সেই নির্বাচনের পর বিল জমা দেওয়া হলেও এখনও বহু জেলার বাস মালিকরা তাঁদের প্রাপ্য টাকার অর্ধেকের বেশি পাননি। এই অভিজ্ঞতার কারণেই এবার আগেভাগেই কড়া অবস্থান নিয়েছে বাস মালিকদের সংগঠন। এছাড়াও সংগঠনের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, ওড়িশার মতো রাজ্যে যেখানে নির্বাচন কমিশন অনেক বেশি ভাড়ায় বাস নিচ্ছে, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এত কম ভাড়া কেন? এই বৈষম্য মানা হবে না বলেই এবার আগাম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই প্রসঙ্গে অল বেঙ্গল বাস-মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'নির্বাচনের জন্য কমিশন বাস নিতেই পারে। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ভোট শেষ হওয়ার পর বিল দেওয়ার পরও বহু জেলার বাস মালিকরা এখনও টাকা পাননি। তাছাড়া এই রাজ্যে বাস ভাড়ার হার খুব কম। সেটা বাড়াতেই হবে।' এই চিঠি পাঠানো হয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে।
E-Paper

