IPS Ajay Pal Sharma: স্বস্তিতে উত্তরপ্রদেশের 'সিংঘম!' IPS অজয়ের বিরুদ্ধে মামলায় হস্তক্ষেপ করল না উচ্চ আদালত
IPS Ajay Pal Sharma: গত সোমবার একটি ভিডিও ভাইরাল হয় (যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা), যেখানে দেখা যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির সামনে পৌঁছে গিয়েছেন অজয় পাল শর্মা।
IPS Ajay Pal Sharma: কেউ বলছেন ‘দাবাং’, কেউ বলছেন ‘সিংঘম।' আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকে ভোটের আগে ফলতা, ডায়মন্ড হারবারের অলি গলিতে যে মেজাজে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে, তাতে এমন সব উপমাই দেওয়া হচ্ছে পুলিশ পর্যবেক্ষককে। এবার উত্তরপ্রদেশের এই ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ তথা দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় এখনই হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাইকোর্ট। ফলতার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে গিয়ে ‘হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে মঙ্গলবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। সেই আবহে এদিন এক আইনজীবী উচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে, হাইকোর্ট সাফ জানিয়ে দেয়-নির্বাচনের প্রক্রিয়ার মাঝে এখনই হস্তক্ষেপ করা হবে না।

কী ঘটেছিল ফলতায়?
ঘটনার সূত্রপাত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায়। গত সোমবার একটি ভিডিও ভাইরাল হয় (যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা), যেখানে দেখা যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির সামনে পৌঁছে গিয়েছেন অজয় পাল শর্মা। সেখানে প্রার্থীর পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে রীতিমতো ‘দাবাং’ স্টাইলে হুঁশিয়ারি দিতে শোনা যায় তাঁকে। তিনি বলেন, 'সবাই কান খুলে শুনে রাখুন, কোনও ঝামেলা করলে এমন চিকিৎসা করব না… ওকে (জাহাঙ্গির) বলে দেবেন, এসব করলে আমি কিন্তু সব খবর নেব। পরে কেঁদেকেটেও লাভ হবে না।' এই ঘটনার পরেই হইচই পড়ে যায় রাজনৈতিক মহলে। ভোটার ও প্রার্থীকে ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এক মামলাকারী। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে ওঠে সেই মামলা।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
মঙ্গলবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে বিষয়টি উঠলে আদালত স্পষ্ট জানায়, আগামী ২৯ এপ্রিল অর্থাৎ দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ পর্যন্ত আদালত এই বিষয়ে কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের দৈনন্দিন কাজে বাধা দেওয়া বা তাতে হস্তক্ষেপ করা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি। আদালত জানিয়েছে, যদি পর্যবেক্ষকের আচরণ নিয়ে কোনও অভিযোগ থাকে, তবে তা নির্বাচন কমিশনে জানানোই বিধিসম্মত। এছাড়া মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়ায় শুনানি হয়নি এদিন। ফলে, আপাতত কমিশনের এই ‘সিংঘম’ পর্যবেক্ষকের কাজে কোনও আইনি বাধা রইল না।
রণক্ষেত্র ফলতা
আদালতের রায়ের দিনই ফের রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ফলতা। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ফলতার বিভিন্ন এলাকায় টহল দিচ্ছিলেন পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা। সেই সূত্রেই তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের দলীয় কার্যালয়ের অদূরের একটি গ্রামে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে অজয় পাল শর্মা পৌঁছানো মাত্রই তাঁকে ঘিরে ধরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন তৃণমূল অনুগামীরা। অজয় পাল শর্মার গাড়ি এগিয়ে গেলেও, কনভয়ের পিছনে থাকা সিআরপিএফের কয়েকটি গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লাঠি উঁচিয়ে ভিড় সামলাতে হয়। কেউ কেউ সন্দেশখালির ঘটনার সঙ্গেও মিল খুঁজে পান এদিন। একদিকে আদালতের রক্ষাকবচ, অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থীর গড় হিসেবে পরিচিত ফলতায় এই পুলিশি তৎপরতা-সব মিলিয়ে শেষ দফার ভোটের আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার আবহাওয়া এখন রীতিমতো তপ্ত।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তৃণমূলের দাবি, জাহাঙ্গির খান বা দলের কেউ কাউকে ভয় দেখাননি, বরং পর্যবেক্ষক নিজেই ভয় দেখাচ্ছেন। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের কথায়, ‘পুলিশ পর্যবেক্ষক এ সব করতে পারেন না। কোথাও কোনও অভিযোগ উঠলে উনি স্থানীয় পুলিশ সুপারকে জানাবেন। উনি সিংঘম হতে পারেন, কিন্তু আমি পুষ্পা। আমরা মাথা নত করি শুধু সাধারণ মানুষের কাছে, গণদেবতার কাছে।’ তৃণমূল কর্মীদের কথায়, ‘এটা ফলতার মাটি, এখানে চমকানো যাবে না।’
E-Paper

