Abhishek Banerjee: সই জাল-কাণ্ডে বড় স্বস্তি অভিষেকের! রক্ষাকবচের মেয়াদ বৃদ্ধি হাইকোর্টের, তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ

Abhishek Banerjee: গত ৩০ মে তদন্তকারীরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনেও পৌঁছন। এরপর তাঁকে ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়ার নোটিস পাঠানো হলেও নির্ধারিত দিনে তিনি উপস্থিত হননি। তদন্তকারী সংস্থার কাছে সময় চেয়ে পরে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এবং অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচের আবেদন করেন।

Published on: Jul 3, 2026, 19:45:24 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Abhishek Banerjee: বিধানসভায় শাসক দলের বিধায়কদের সই জাল সংক্রান্ত মামলায় বড়সড় স্বস্তি পেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই হাইপ্রোফাইল মামলায় তাঁর অন্তর্বর্তী আইনি সুরক্ষার তথা রক্ষাকবচের মেয়াদ আরও বৃদ্ধি করল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের জরুরি বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী ১৭ জুলাই পর্যন্ত তৃণমূল সাংসদের রক্ষাকবচ থাকবে। তবে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার শর্ত আগের মতোই কার্যকর থাকবে।

সই জাল-কাণ্ডে বড় স্বস্তি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (PTI)
সই জাল-কাণ্ডে বড় স্বস্তি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (PTI)

এই মামলাটি সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে যথেষ্ট আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এই মামলার সূত্রপাত বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ও অন্যান্য পরিষদীয় পদে মনোনয়ন সংক্রান্ত একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত করে তৃণমূলের তরফে জমা দেওয়া ওই চিঠিতে কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষরে অসঙ্গতি রয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই তদন্তভার রাজ্য সরকার তুলে দেয় সিআইডি-র হাতে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যে বৈঠকে বিধায়কদের সই সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেটা হয়েছিল কালীঘাটে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে।

তদন্তের স্বার্থে সিআইডি ইতিমধ্যেই কালীঘাটে তৃণমূল নেত্রীর বাড়ির লাগোয়া দলীয় কার্যালয়ে যায়। পরে গত ৩০ মে তদন্তকারীরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনেও পৌঁছন। এরপর তাঁকে ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়ার নোটিস পাঠানো হলেও নির্ধারিত দিনে তিনি উপস্থিত হননি। তদন্তকারী সংস্থার কাছে সময় চেয়ে পরে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এবং অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচের আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করলেও তদন্তে সহযোগিতার শর্ত আরোপ করে।

কী এই সই-কাণ্ড?

৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ৬ মে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে জয়ী বিধায়কদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে পরিষদীয় দলের নেতা, উপদলনেতা ও মুখ্যসচেতক নির্বাচন করার দায়িত্ব দলনেত্রীর উপর ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাবে বিধায়কেরা সম্মতি দেন বলে দাবি করা হয়। পরে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিধানসভায় একটি চিঠি পাঠানো হয়, যাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর ছিল। কিন্তু বিধানসভার তরফে সেই চিঠি গ্রহণ করা হয়নি। পরিষদীয় নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পদাধিকারীদের নির্বাচন পরিষদীয় দলের বৈঠকেই হতে হয় বলে জানানো হয়। এরপর ১৯ মে ফের বৈঠক ডেকে বিধায়কদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। অভিযোগ, ওই স্বাক্ষরগুলি ৬ মে-র কার্যবিবরণীর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। কয়েকজন বিধায়ক দাবি করেন, তাঁদের এমন নথিতে সই করানো হয়েছে যা ৬ মে-র বৈঠকের রেকর্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই অভিযোগ থেকেই সই জালিয়াতি নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত এবং বর্তমানে সেই ঘটনাই সিআইডি তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু। আপাতত ১৭ জুলাই পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি সুরক্ষা বহাল থাকলেও মামলার পরবর্তী শুনানি ও তদন্তের অগ্রগতির দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।