Nandigram bypoll: উপনির্বাচনের আগে বড় স্বস্তি! নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে অন্তর্বর্তী জামিন হাইকোর্টের
Calcutta High Court: প্রায় ১৯ বছর আগের একটি পুরোনো ঘটনার প্রেক্ষাপটে পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
Calcutta High Court: আসন্ন উপনির্বাচনে লড়াই করার জন্য বড়সড়ো স্বস্তি পেলেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী (Congress Candidate) মিলন প্রধান (Milan Pradhan)। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ছ’টি মামলাতেই তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন (Interim Bail) মঞ্জুর করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। মঙ্গলবার উচ্চ আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামী তিন সপ্তাহের জন্য এই জামিন বহাল থাকবে। এর ফলে জেলের বাইরে থেকেই নির্বাচনি প্রচার ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন তিনি। আগামী ২১ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে আদালতে।

এদিন বিচারপতি তির্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। বিচারপতি কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের আবেদন শুনে ২০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেন। তবে জামিনের এই আদেশের ক্ষেত্রে বেশ কিছু কড়া শর্ত আরোপ করেছে বিচারপতির বেঞ্চ। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী, জামিন পেলেও কংগ্রেস প্রার্থীর ফোন নম্বর জমা দিতে হবে নন্দীগ্রাম ও খেজুরি থানার আইও-র কাছে। এই অন্তর্বর্তী মেয়াদে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে অর্থাৎ সকাল সাড়ে আটটা ও সন্ধ্যা সাড়ে ন’টায় স্থানীয় থানায় ফোন করে তদন্তকারী আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে তাঁকে। পাশাপাশি, নির্বাচনি প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট হলদিয়া আদালতে তাঁকে ফের আত্মসমর্পণ করতে হবে।
খেজুরি থানার দু’টি এবং নন্দীগ্রাম থানার চারটি মামলায় মিলন প্রধানকে এই অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার আইনজীবীদের মাধ্যমে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে দ্রুত শুনানির আবেদন জানান মিলন প্রধান। তাঁর আইনি প্রতিনিধিরা আদালতে জানিয়েছেন, উপনির্বাচনের প্রার্থী হওয়ার কারণে জামিন প্রয়োজন এবং দ্রুত শুনানির প্রয়োজন রয়েছে। বৃহস্পতিবার শুনানিতে বিচারপতি তির্থঙ্কর ঘোষ জানিয়েছিলেন, মিলন প্রধানের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার রয়েছে এবং মামলার ভবিষ্যৎ তার নিজস্ব গতিতে চলবে। তবে পরবর্তী সময়ে ছ’টি মামলার মধ্যে চারটির শুনানি হলেও বাকি দু’টির শুনানি না হওয়ায় চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া যায়নি। সোমবার সেই শুনানিও পিছিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রায় ১৯ বছর আগের একটি পুরোনো ঘটনার প্রেক্ষাপটে পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ২০০৭ সালের জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলিতে নন্দীগ্রাম ও খেজুরি থানায় তাঁর বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, জটলা এবং ভাঙচুর চালানোর মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে মোট ছ’টি মামলা রুজু করা হয়েছিল। যদিও শুরু থেকেই এই গ্রেফতারির নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার তত্ত্ব খাঁড়া করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে কংগ্রেস। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আরও কয়েকটি পুরনো মামলা নিয়েও কলকাতা হাইকোর্টে শুনানি হয়। রাজ্যের তরফে আদালতকে জানানো হয়েছিল, ছ’টি মামলার মধ্যে পাঁচটি আগের সরকারের সময়ে প্রত্যাহার করা হয়েছিল এবং একটি মামলার এফআইআরে মিলন প্রধানের নাম অভিযুক্ত হিসেবে ছিল না। ওই মামলাগুলিতে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে পদক্ষেপ না করার বিষয়টি নিয়েও আদালতে শুনানি হয়েছিল।
আপাতত জেল থেকে বেরিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হল মিলন প্রধানের সামনে।
E-Paper

