Indranil Sen: পুজোর পাস বিলিতেও দুর্নীতি! প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের আগাম জামিনের আর্জি খারিজ হাইকোর্টের

Indranil Sen: বিষয়টি নিয়ে প্রথম সরব হন জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে তাঁর দায়ের করা বিস্তারিত অভিযোগের ওপর ভিত্তি করেই তড়িঘড়ি তদন্তে নামে মধ্য কলকাতার বৌবাজার থানার পুলিশ এবং লিখিত এফআইআর (FIR) রুজু করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

Published on: Oct 15, 2026, 22:43:48 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Indranil Sen: দুর্গাপুজোর পাস বিলি দুর্নীতির মামলায় আগাম জামিন পেলেন না রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen)। ইউনেস্কোর (UNESCO) নাম ভাঙিয়ে চড়া দামে পুজোর পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আদায়ের মামলায় বৃহস্পতিবার তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। যা নিঃসন্দেহে চাপে ফেলবে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীকে। এমনকী আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়া তাঁকে গ্রেফতারের ক্ষেত্রেও কোনও বাধা থাকল না।

প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের আগাম জামিনের আর্জি খারিজ কলকাতা হাইকোর্টের (সৌজন্যে এক্স )
প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের আগাম জামিনের আর্জি খারিজ কলকাতা হাইকোর্টের (সৌজন্যে এক্স )

বিষয়টি নিয়ে প্রথম সরব হন জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে তাঁর দায়ের করা বিস্তারিত অভিযোগের ওপর ভিত্তি করেই তড়িঘড়ি তদন্তে নামে মধ্য কলকাতার বৌবাজার থানার পুলিশ এবং লিখিত এফআইআর (FIR) রুজু করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ বা কার্নিভালের ভিআইপি পাস বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। ইউনেস্কোর নাম অপব্যবহার করে উৎসবের ভিআইপি পাস ও টিকিট চড়া দামে বিক্রি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, চলচ্চিত্র উৎসব ও কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় আর্থিক তছরুপ এবং নিজের অতি ঘনিষ্ঠ সংস্থাকে বেআইনিভাবে সরকারি টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

কেবল রাজ্য পুলিশি তদন্তই নয়, এই দুর্গাপুজোর পাস সংক্রান্ত প্রতারণা ও 'মাস আর্ট' মামলার পাশাপাশি প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আরও একাধিক আর্থিক তছরুপের অভিযোগ এনে সমান্তরাল তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। প্রাথমিক তদন্তের পর ইডি আধিকারিকদের অনুমান, প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার দুর্নীতি হতে পারে। মামলার তদন্তের স্বার্থে এর আগে ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাড়ি ও সিঙ্গুরের বাগানবাড়ি-সহ একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। পাশাপাশি, সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে অবস্থিত কেন্দ্রীয় সংস্থার দফতরে ডেকে পাঠিয়ে তাঁকে দু’দফা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। তবে এবার নিম্ন আদালতের পর কলকাতা হাইকোর্টে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা চন্দননগরের প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় তদন্তের পরিধি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, শিক্ষা নিয়োগ ও রেশন দুর্নীতির কারণে গত সরকারের আমলে গ্রেফতার হয়েছিলেন তৎকালীন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকেও আর্থিক তছরুপের মামলায় গ্রেফতার করে ইডি। রাজ্যে পালাবদলের পর সেটাই ছিল প্রথম গ্রেফতারি। গ্রেফতার হয়েছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহ। তাহলে কী এবার সেই তালিকায় ইন্দ্রনীল সেন? রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় জল্পনা রাজনৈতিক মহলে।