Calcutta High Court: আধার কার্ড থাকলেই বাসস্থানের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, উচ্ছেদ মামলায় বড় রায় কলকাতা হাই কোর্টের
বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে। এই রায়কে ভবিষ্যতে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলাগুলির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Calcutta High Court on Aadhaar: অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় বড় রায় দিল কলকাতা হাই কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আধার কার্ড কোনও ব্যক্তির বাসস্থানের প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হলেও, সেটি কোনওভাবেই চূড়ান্ত বা একমাত্র প্রমাণ নয়। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, কাউকে অবৈধ দখলদার ঘোষণা করে উচ্ছেদ করার আগে অবশ্যই আইন মেনে নোটিস দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজের বক্তব্য ও প্রমাণ পেশ করার সুযোগ দিতে হবে।
বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে। এই রায়কে ভবিষ্যতে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলাগুলির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আদালত জানিয়েছে, কোনও ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট ঠিকানায় বসবাস করছেন কি না, তা বোঝার জন্য আধার কার্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ আধার তৈরির আগে আবেদনকারীর ঠিকানার তথ্য যাচাই করা হয়। তাই এটি প্রাথমিকভাবে বসবাসের একটি প্রমাণ হিসেবে ধরা যেতে পারে। তবে শুধুমাত্র আধার কার্ড দেখিয়ে কোনও ব্যক্তি কোনও সম্পত্তির উপর বৈধ অধিকার দাবি করতে পারবেন না।
ডিভিশন বেঞ্চ আরও জানিয়েছে, কেন্দ্র সরকার এবং সুপ্রিম কোর্ট একাধিকবার স্পষ্ট করেছে যে আধার কার্ড নাগরিকত্ব বা মালিকানার প্রমাণ নয়। এটি মূলত একটি পরিচয়পত্র। একইভাবে ভোটার কার্ড, গ্যাসের বিল বা অন্যান্য সরকারি নথিও কোনও ব্যক্তির নির্দিষ্ট ঠিকানায় বসবাসের প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, কিন্তু সেগুলিও চূড়ান্ত আইনি প্রমাণ নয়।
এই মামলার সূত্রপাত কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে। বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, ক্যালকাটা ডক লেবার বোর্ড এবং ক্যালকাটা পোর্ট ট্রাস্টের প্রায় ৫০০টিরও বেশি আবাসিক কোয়ার্টার দীর্ঘদিন ধরে বেআইনিভাবে দখল করে রাখা হয়েছে। তাই ওই কোয়ার্টারগুলি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ওই আবাসনগুলিতে বসবাসকারী প্রায় ৮ হাজার মানুষের অভিযোগ ছিল, কোনও নোটিস না দিয়েই এবং নিজেদের বক্তব্য জানানোর সুযোগ না দিয়েই উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, এভাবে উচ্ছেদ করা আইনসঙ্গত নয়।
প্রথমে মামলাটি হাই কোর্টের একক বেঞ্চে ওঠে। সেখানে আদালত জানায়, আবেদনকারীরা কীভাবে ওই কোয়ার্টারে বসবাস শুরু করেছেন, তার পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। শুধু আধার কার্ড বা ভোটার কার্ড দেখে তাঁদের বৈধ বাসিন্দা বলা যায় না। এরপর একক বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেন বাসিন্দারা।
শুনানিতে বন্দর কর্তৃপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, শুধুমাত্র আধার বা ভোটার কার্ড দেখিয়ে কোনও ব্যক্তি সরকারি আবাসনে থাকার বৈধ অধিকার দাবি করতে পারেন না। তবে ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, কাউকে অবৈধ দখলদার ঘোষণা করার আগে প্রশাসনকে নির্দিষ্ট কারণ জানিয়ে নোটিস দিতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যেক বাসিন্দাকে নিজের দাবি ও প্রমাণ পেশ করার সুযোগ দিতে হবে।
আদালত আরও স্পষ্ট করেছে, সব দিক খতিয়ে দেখে, প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষ করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য শোনার পরই উচ্ছেদ বা ভাঙার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে। আইন মেনে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করাই প্রশাসনের দায়িত্ব।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায়ে একদিকে যেমন আধার কার্ডের আইনি গুরুত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তেমনই উচ্ছেদের আগে প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি মেনে প্রত্যেক নাগরিককে শুনানির সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও ফের একবার গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে কলকাতা হাই কোর্ট।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


