সরকারি জমিতে মেসি-মারাদোনার মূর্তি? রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব কলকাতা হাইকোর্টের
আবেদনকারীর বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে সরকারি জমিতে কোনও মূর্তি বা স্থাপত্য নির্মাণ করা যায় না।
যুবভারতীকাণ্ডে ‘লিওনেল মেসি গোট ট্যুর’-এর আয়োজক শতদ্রু দত্তের জামিন মঞ্জুর হওয়ার দিনই নতুন করে বিতর্কে উঠে এল লিওনেল মেসি ও দিয়েগো মারাদোনার মূর্তি। লেকটাউন এই দুই ফুটবল কিংবদন্তির মূর্তি সরকারি জমিতে তৈরি হয়েছে কিনা, তা নিয়ে রাজ্য সরকার ও দমদম পুরসভাকে তিন সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

লেকটাউনের শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় মেসি ও মারাদোনার মূর্তি বসানো নিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন স্বদেশ মজুমদার। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, তিন সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য আদালতে জমা দিতে হবে। রিপোর্টে জানাতে হবে, মূর্তিগুলি সরকারি জমিতে স্থাপিত কিনা এবং তার জন্য নিয়ম মেনে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কিনা। আবেদনকারীর বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে সরকারি জমিতে কোনও মূর্তি বা স্থাপত্য নির্মাণ করা যায় না। এই বিষয়টি এর আগেও যুবভারতী সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টে উঠে এসেছিল। তখন বিচারপতি পার্থসারথী সেন প্রশ্ন তুলেছিলেন, সংশ্লিষ্ট মূর্তিগুলি সরকারি জমিতে বসানো হয়েছে নাকি ব্যক্তিগত জমিতে। একই সঙ্গে আদালতের প্রশ্ন ছিল, সরকারি জমিতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই ধরনের নির্মাণ আদৌ সম্ভব কিনা।
সেই শুনানিতে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী আদালতে জানান, এই প্রকল্পের জন্য আগেই প্রায় ৬৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। তাতে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, এত বড় অঙ্কের অর্থ কীভাবে বরাদ্দ করা হল, কারা তৎকালীন ডিরেক্টর ছিলেন এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না। সেই সূত্র ধরেই মামলায় 'মানি ট্রেলের' প্রসঙ্গও উঠে আসে। শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আরও বলেন, রাস্তার ধারে মূর্তি নির্মাণ করা হয়েছে এবং শাসকদলের সঙ্গে যুক্ত নেতা কীভাবে এই উদ্যোগ নিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এই সব অভিযোগ ও যুক্তি শুনেই কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দেয়, সরকারি জমিতে মেসি ও মারাদোনার মূর্তি বসানো হয়েছে কিনা, তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দমদম পুরসভা ও রাজ্য সরকারকে আদালতে জমা দিতেই হবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১১ ডিসেম্বর কলকাতায় ১২ ফুটের ব্রোঞ্জের মারাদোনার মূর্তির উদ্বোধন করা হয়েছিল। কলকাতার লেকটাউনের শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব প্রাঙ্গণে এই মূর্তিটি তৈরি হয়। পরে ২০২৫ সালে লেকটাউন এলাকায় লিওনেল মেসির মূর্তি বসানো হয়। ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, আইনি বৈধতা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছে।
E-Paper











