Calcutta Stock Exchange: ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জকে পুনরুজ্জীবিত করার ঘোষণা, আর্থিক ক্ষেত্রে বড় বার্তা রাজ্য বাজেটে
১৯০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থা এশিয়ার প্রাচীনতম স্টক এক্সচেঞ্জগুলির মধ্যে অন্যতম। স্বাধীনতার আগে এবং পরবর্তী কয়েক দশক ধরে পূর্ব ভারতের ব্যবসা-বাণিজ্য ও পুঁজিবাজারের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই প্রতিষ্ঠান। কলকাতার বহু শিল্পগোষ্ঠী এবং ব্যবসায়িক সংস্থা ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করত।
রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে শিল্প ও আর্থিক খাতের উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করতে গিয়ে তিনি জানান, ঐতিহ্যবাহী ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-কে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে রাজ্যের আর্থিক পরিকাঠামোকে নতুন করে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একসময় দেশের আর্থিক জগতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ছিল ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ। ১৯০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থা এশিয়ার প্রাচীনতম স্টক এক্সচেঞ্জগুলির মধ্যে অন্যতম। স্বাধীনতার আগে এবং পরবর্তী কয়েক দশক ধরে পূর্ব ভারতের ব্যবসা-বাণিজ্য ও পুঁজিবাজারের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই প্রতিষ্ঠান। কলকাতার বহু শিল্পগোষ্ঠী এবং ব্যবসায়িক সংস্থা ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করত।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, বাজারের কেন্দ্রীকরণ এবং জাতীয় স্তরে অন্যান্য বৃহৎ স্টক এক্সচেঞ্জের উত্থানের ফলে ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম ক্রমশ সীমিত হয়ে পড়ে। একসময় যে প্রতিষ্ঠান দেশের অন্যতম প্রধান পুঁজিবাজার ছিল, তা ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারাতে থাকে। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানকে নতুনভাবে সক্রিয় করার দাবি উঠছিল।
বাজেটে অর্থমন্ত্রীর ঘোষণার পর শিল্পমহল এবং ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। সরকারের মতে, ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জকে পুনরুজ্জীবিত করা গেলে রাজ্যে বিনিয়োগ আকর্ষণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য মূলধন সংগ্রহ এবং আর্থিক পরিষেবার সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে পূর্ব ভারতের ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে কলকাতার ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
যদিও পুনরুজ্জীবনের জন্য কী ধরনের রূপরেখা গ্রহণ করা হবে, তা বাজেট বক্তৃতায় বিস্তারিতভাবে জানানো হয়নি। তবে আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি, ডিজিটাল ট্রেডিং পরিকাঠামো এবং নতুন বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে সিএসই-কে আবার কার্যকর করে তোলা সম্ভব।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন সরকার শুধু সামাজিক প্রকল্প বা পরিকাঠামো উন্নয়নেই নয়, শিল্প ও আর্থিক খাতকেও সমান গুরুত্ব দিতে চাইছে। ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জকে পুনরুজ্জীবিত করার ঘোষণা সেই বৃহত্তর অর্থনৈতিক ভাবনারই প্রতিফলন। সব মিলিয়ে, বাজেটে ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জকে পুনরুজ্জীবিত করার ঘোষণা রাজ্যের আর্থিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে নতুন করে জীবন্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


