Camac Street Row Update: ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে থানায় ডেরেক, আজ হাজিরা সুমিতেরও! প্রশ্নমালা তৈরি পুলিশের

ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে অবশেষে শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের কার্যালয়ের বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন আগে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পুলিশ এবং পুরকর্মীদের সঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। 

Published on: Sep 2, 2026, 11:14:47 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে অবশেষে শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। বুধবার সকাল ১০টা বেজে ১ মিনিটে নিজেই গাড়ি চালিয়ে থানায় পৌঁছন তিনি। তাঁর জন্য আগে থেকেই প্রশ্নমালা তৈরি রেখেছিল পুলিশ।

ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে অবশেষে শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। (Sansad TV/ANI Video Grab)
ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে অবশেষে শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। (Sansad TV/ANI Video Grab)

ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের কার্যালয়ের বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন আগে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পুলিশ এবং পুরকর্মীদের সঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং পুলিশকে আক্রমণের অভিযোগও সামনে আসে।

এই ঘটনায় একাধিক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর আপ্ত সহায়ক সুমিত রায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। মোট তিনটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এই মামলাতেই মঙ্গলবার শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁর সামনে ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনার একাধিক ভিডিও ফুটেজও তুলে ধরা হয় বলে জানা গিয়েছে।

পুলিশের দাবি, ফুটেজে অভিষেকের উপস্থিতি স্পষ্ট। এরপর তাঁকে একাধিক প্রশ্ন করা হয়। পুলিশের অন্যতম প্রশ্ন ছিল, ওই অফিস আর তৃণমূলের ভাড়া নেওয়া জায়গা না হওয়া সত্ত্বেও কেন সেখানে পুলিশ এবং পুরকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছিল?

পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। একই সঙ্গে মহিলা পুলিশকর্মীদের উপর হামলা এবং তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ সম্পর্কেও জানতে চাওয়া হয়। ঘটনায় ‘শ্লীলতাহানি’র অভিযোগও উঠেছে। সেই বিষয়েও অভিষেকের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয় বলে সূত্রের খবর।

অভিযোগ উঠেছে, সরকারি কর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এমনকি তাঁদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। কেন এমন হুমকি দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এবার একই মামলায় ডেরেক ও’ব্রায়েনের পালা। তাঁকে প্রথমে সোমবার থানায় হাজিরার জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছিল। তবে ডেরেক জানিয়েছিলেন, নোটিস পাওয়ার পর হাজিরার সময়ের ব্যবধান খুব কম। তাই তিনি ওই দিন থানায় যাননি। অতিরিক্ত সাত দিন সময়ও চেয়েছিলেন।

কিন্তু পুলিশ সেই সময় দেয়নি। এরপর সোমবারই ফের একটি নোটিস পাঠানো হয়। সেখানে বুধবার হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ মেনেই বুধবার সকালে থানায় পৌঁছে যান ডেরেক।

জানা গিয়েছে, ডেরেককে ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনার বিষয়ে একাধিক প্রশ্ন করা হতে পারে। ঘটনার সময় তাঁর ভূমিকা কী ছিল, কার নির্দেশে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছিল এবং পুলিশ ও পুরকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা কীভাবে ঘটল—এসব বিষয় নিয়েই জানতে চাইতে পারে পুলিশ।

এদিনই দুপুর ১২টার সময় থানায় হাজিরা দেওয়ার কথা অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের। ফলে একই মামলায় পরপর তিন গুরুত্বপূর্ণ তৃণমূল নেতার পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা করা হচ্ছে। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত এগোচ্ছে।

এখন নজর পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। ডেরেক ও সুমিতের জিজ্ঞাসাবাদে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, সেটাই দেখার। পাশাপাশি ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনার তদন্ত কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More