বাঙালির প্রিয় পানীয় দিয়েই শরীরে ঢুকছে 'নিপা!' কী কী খেলে ছড়াবে বাদুড়ে ভাইরাস? জানুন বিস্তারিত

শীতের সকালে এক গ্লাস কাঁচা রস নিঃসন্দেহে নস্টালজিয়ার অংশ। কিন্তু প্রশ্নটা হল- স্বাদের লোভে কী অজান্তেই মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে নিচ্ছেন?

Published on: Jan 13, 2026 10:48 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

শীত এলেই গ্রামবাংলার মাঠে মাঠে খেজুর গাছগুলোতে চোখে পড়ে রসের হাড়ি। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে নামানো রস, কেউ খাচ্ছেন কাঁচা, কেউ বানাচ্ছেন পিঠে বা গুড়। কিন্তু এই চিরচেনা শীতের স্বাদই কী অজান্তে ডেকে আনছে মারাত্মক বিপদ?

বাঙালির প্রিয় পানীয় দিয়েই শরীরে ঢুকছে 'নিপা!'
বাঙালির প্রিয় পানীয় দিয়েই শরীরে ঢুকছে 'নিপা!'

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বঙ্গে শীতকালে নিপা ভাইরাস সংক্রমণের সঙ্গে খেজুরের রস খাওয়ার সম্পর্ক বারবার উঠে আসছে। ২০০১ সালের পর বাংলায় ফের নিপা ভাইরাস আক্রান্তের হদিশ মিলেছে। তাও আবার কলকাতার একেবারে কাছেই। সোমবারই সাংবাদিক বৈঠক করে বাংলায় দু’জন স্বাস্থ্যকর্মীর নিপা আক্রান্ত হওয়ার খবর জানিয়েছেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী ও স্বাস্থ্য সচিব স্বরূপ নিগম। তাঁরা জানিয়েছেন, চিকিৎসা চলছে। কল্যাণী এইমস-এর ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে তাঁদের শরীরে নিপা ভাইরাস চিহ্নিত করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার জন্য পুনেতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকতে বলেছে প্রশাসন। বাদুড় যা কিছু খায়, এমন ধরনের ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব স্বরূপ নিগম।

এবার প্রশ্ন হল কী ধরনের ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে? বাদুড় তো কত কিছুই খেতে পারে, সাধারণ মানুষ বুঝবেন কীভাবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতে নিপার দাপট বাড়াতে সাহায্য করে খেজুরের রস। যা সাধারণ মানুষেরও প্রিয়। আবার বাদুড়ের প্রিয়। শীতের আমেজ নিতে অনেকেই ভোরের দিকে খেজুরের রস খেতে চলে যান। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, খেজুরের কাঁচা রস থেকে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা অনেকটাই বেশি। টিভি ৯ বাংলার প্রতিবেদন অনুসারে, চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী বলেন, ‘বাদুড় যে কোনও ফল খায়, এমনটা নয়। এই প্রাণীটিকে সাধারণ ভাবেই কোনও উঁচু গাছে পাওয়া যায়। বিশেষ করে, তাল ও খেজুর। এটা খেজুরের সময় নয়, কিন্তু খেজুরের রসের সময়। তাতে ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভবনা অনেকটা বেশি থাকে।’ তবে খেজুরের রস নিয়ে সমস্যা থাকলেও, গুড়ে তেমন কোনও সমস্যা নেই। শীতের সকালে এক গ্লাস কাঁচা রস নিঃসন্দেহে নস্টালজিয়ার অংশ। কিন্তু প্রশ্নটা হল- স্বাদের লোভে কী অজান্তেই মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে নিচ্ছেন?

অবশ্য, বেশ কয়েকটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফল বা রস থেকেই শুধু নয়, বরং ২৮ শতাংশ রোগী আক্রান্ত হয়েছেন অন্য কোনও নিপা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এসে। এই নিপা ভাইরাস যথেষ্ট ভয়াবহ। বিশ্বের নিরিখে নিপায় গড়ে মৃত্যুহার ৭২ শতাংশ। নিপার সবচেয়ে বড় উৎস হল বাদুড়ের শরীরে থাকা দেহরস। যা শুধুই বাদুড়ের থেকেই হবে এমনটাও নয়। শূকর, কাঠবিড়ালি থেকে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে বলেই জানা গিয়েছে।

নিপা ভাইরাস কী?

নিপা ভাইরাসের নামকরণ হয়েছে মালয়েশিয়ার কাম্পুং সুংগাই নিপা গ্রাম থেকে, যেখানে ১৯৯৮-৯৯ সালে প্রথম বার এই ভাইরাসের খোঁজ মেলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নিপা ভাইরাস একটি জুনোটিক সংক্রমণ, যা প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। এই ভাইরাস হেনিপাভাইরাস গোত্রভুক্ত। এর প্রধান প্রাকৃতিক বাহক হল ফলখেকো বাদুড় বিশেষ করে Pteropodidae পরিবারভুক্ত বাদুড়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে শূকরও মধ্যবর্তী বাহক হিসেবে কাজ করতে পারে।