Abhishek Banerjee Office Bulldozer: অভিষেকের অফিসে বুলডোজার, ছুটির দিনেই হাইকোর্টে নজিরবিহীন শুনানি

Abhishek Banerjee Office Bulldozer: ডায়মন্ড হারবারের আমতলায় বৈধ প্ল্যান-নথি ছাড়াই আমতলার কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ ওঠে। শনিবার সকালেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয় ঘিরে ফেলে পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনী। বেলা বাড়তেই সেখানে এন্ট্রি নেয় ৩টি বুলডোজার। শুরু হয় কার্যালয় ভাঙার কাজ।

Updated on: Jul 19, 2026, 13:24:47 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Abhishek Banerjee Office Bulldozer: বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে ডায়মন্ড হারবারের রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত দলবদলগুলির একটি হয়েছিল আমতলায়। সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি প্রতিকুর রহমান যখন কাস্তে-হাতুড়ি ছেড়ে তৃণমূলে কংগ্রেসের যোগ দেন, তখন সেই ঘটনাকে রাজনৈতিক শক্তিপ্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত করেছিলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সেই তাঁর আমতলার অফিসে বুলডোজার-কাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর্জি মেনে জরুরি শুনানি হতে পারে কলকাতা হাইকোর্টে। সে জন্য রবিবার জরুরি শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ বসতে পারে।

ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (@AITCofficial)
ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (@AITCofficial)

ঘটনার সূত্রপাত

ডায়মন্ড হারবারের আমতলায় বৈধ প্ল্যান-নথি ছাড়াই আমতলার কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ ওঠে। শনিবার সকালেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয় ঘিরে ফেলে পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনী। গার্ডরেলে ঘিরে ফেলা হয় গোটা এলাকা। বেলা বাড়তেই সেখানে এন্ট্রি নেয় ৩টি বুলডোজার। শুরু হয় কার্যালয় ভাঙার কাজ। কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকে পুলিশ। ভিতরে ঢুকে ভাঙচুর চালায় স্থানীয়দের একাংশ। অভিষেকের কার্যালয় ভাঙা শুরু হতেই উচ্ছ্বাস শুরু হয় বিজেপি কর্মীদের। চলে 'জয় শ্রীরাম' স্লোগানও। তাঁদের অভিযোগ, 'এই কার্যালয় ছিল শাহজাহান, জাহাঙ্গিরের মতো গুন্ডাদের ঘাঁটি। এখান থেকে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছিল, সাত দিনের ব্যবধানে ওই কার্যালয় নিয়ে দু'টি নোটিস দেওয়া হয়। নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈধ প্ল্যান ছাড়াই কার্যালয়টি নির্মাণ হয়েছে। সেই সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদ করতেই অভিষককে জেলা প্রশাসনের দফতরে হাজিরা দিতেও বলা হয়েছিল। নোটিসে এও উল্লেখ আছে, যে জমিতে সাংসদের কার্যালয়টি নির্মাণ হয়েছে, তা লিপস এন্ড বাউন্ডসের নামে কেনা হয়েছিল। সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। পরপর দু'বার নোটিসে সাড়া না দেওয়াতেই বড় পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আদালতের দ্বারস্থ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

কার্যালয় ভাঙার পরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন আইনি উপায়ে লড়াই করবেন। বুলডোজার চালিয়ে আমতলার কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে, অভিযোগ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর আপ্তসহায়ককে শনিবার ইমেল করে জরুরি শুনানির আর্জি জানিয়েছিলেন সাংসদের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য। ইমেলে এ-ও জানানো হয়েছিল যে, প্রয়োজনে রবিবারই আদালত খুলে শুনানি হোক। সেই আবেদনের পরে রবিবার খোলা হতে পারে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর এজলাসে নজিরবিহীন শুনানি স্থির হয়েছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া

রবিবার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে শনিবারের ঘটনা নিয়ে আরও একবার প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লিখেছেন, ‘বাংলায় চরম নৈরাজ্যের পরিস্থিতি স্পষ্ট। বুলডোজার দিয়ে নির্মাণ ভাঙাকে অসাংবিধানিক বলেছে সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট। তার পরেও আমতলায় আমার লোকসভা কেন্দ্রের দফতর ভেঙে ফেলা হয়েছে শনিবার।’ এর পরেই পুলিশকে কটাক্ষ করেছেন সাংসদ। তিনি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেছেন, পুলিশ বিজেপি গুন্ডাদের সঙ্গে মিলে তাঁর দফতর থেকে ল্যাপটপ, কম্পিউটার, প্রিন্টার, নথিপত্র, চেয়ার-টেবিল তুলে নিয়ে গিয়েছে। যদিও হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘এটা শুধু ভাঙচুর নয়, উর্দি পরে চুরি। বিষয়টি যখন হাইকোর্টে বিচারাধীন, তখন এই পদক্ষেপ আইনের অবমাননার শামিল।’ তিনি আরও লেখেন, ‘ধিক্কার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ!’