Mahua Moitra: মহুয়া মৈত্রের হামলা মামলায় জরুরি শুনানি নয়, আগের নির্দেশের কথাই মনে করাল হাই কোর্ট

আইনজীবী দাবি করেন, আদালতের নির্দেশ মেনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকার কথা। কিন্তু তেহট্টের ঘটনায় সেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদালত অবশ্য এই মুহূর্তে মামলাটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে শুনতে রাজি হয়নি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান, এই বিষয়ে আদালত আগেই নির্দেশ দিয়েছে।

Published on: Sep 21, 2026, 14:12:11 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে ঘিরে হামলার অভিযোগে করা মামলায় আপাতত জরুরি শুনানি হল না কলকাতা হাই কোর্টে। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে বিষয়টি তোলা হয়। মহুয়ার আইনজীবী আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, সাংসদের নিজের লোকসভা এলাকায় যাওয়ার সময় নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ আগেই দিয়েছিল আদালত। সেই নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ফের তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ এবং হামলার অভিযোগ উঠেছে।

কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে ঘিরে হামলার অভিযোগে করা মামলায় আপাতত জরুরি শুনানি হল না কলকাতা হাই কোর্টে। (Neeraj)
কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে ঘিরে হামলার অভিযোগে করা মামলায় আপাতত জরুরি শুনানি হল না কলকাতা হাই কোর্টে। (Neeraj)

আইনজীবী দাবি করেন, আদালতের নির্দেশ মেনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকার কথা। কিন্তু তেহট্টের ঘটনায় সেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাই নতুন পরিস্থিতিতে মামলাটির দ্রুত শুনানি প্রয়োজন। আদালত অবশ্য এই মুহূর্তে মামলাটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে শুনতে রাজি হয়নি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান, এই বিষয়ে আদালত আগেই নির্দেশ দিয়েছে। তাই আগের আদেশেই প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি স্পষ্ট করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে ১৬ সেপ্টেম্বর। কৃষ্ণনগর লোকসভা এলাকার তেহট্টে একটি দলীয় কর্মসূচিতে গিয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র। সভা শেষ হওয়ার পর তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয় বলে অভিযোগ। বিক্ষোভকারীদের হাতে কালো পতাকা ছিল। ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও দেওয়া হয় বলে মহুয়ার অভিযোগ। এরপর তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার কিছু ছবি এবং ভিডিয়ো পরে সামনে আসে।

মহুয়া মৈত্রের বক্তব্য, ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া আটকানো যায়নি। তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিয়ো প্রকাশ করে ঘটনার বর্ণনা দেন সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের আটকানোর বদলে পুলিশ তাঁকেই দ্রুত গাড়িতে তুলে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেয়। পরে তিনি তেহট্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ঘটনার পর পুলিশও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থলের ভিডিয়ো এবং সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। মহুয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও হয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপির একাংশ এই হামলার সঙ্গে দলের কর্মীদের যুক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, ওই এলাকায় মহুয়ার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ঘটনার সঙ্গে দলের কর্মীদের সরাসরি যোগের দাবি তারা মানছে না। ফলে হামলার প্রকৃত দায় কার, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

এই ঘটনার সঙ্গে আগের একটি আদালতের নির্দেশের প্রসঙ্গও জড়িয়ে রয়েছে। এর আগে মহুয়ার নিরাপত্তা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্ট পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিল। লোকসভা এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গেলে তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। পরে তেহট্টের ঘটনার পর সেই নির্দেশ কার্যকর হয়েছিল কি না, তা নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন ওঠে।

মহুয়া মৈত্র এই ঘটনার পরে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের আগের একটি মন্তব্যও সামনে আনেন। অগস্টে একটি মামলার শুনানিতে বিচারপতি দত্ত মন্তব্য করেছিলেন, রাজনীতিতে থাকলে ডিম ছোড়ার ঘটনায় ভয় পাওয়ার কী আছে, স্বাধীনতা সংগ্রামীরা তো গুলি সামলেছেন। তেহট্টের ঘটনার পরে মহুয়া সামাজিক মাধ্যমে সেই মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান।

তবে সোমবারের শুনানিতে হাই কোর্ট নতুন করে জরুরি নির্দেশ দেয়নি। আদালত জানিয়েছে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে আগেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন নজর থাকবে সেই আগের নির্দেশ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়েছিল এবং তেহট্টের ঘটনার তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে তার দিকে।

অর্থাৎ, মহুয়া মৈত্রের অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। কিন্তু মামলাটি এই মুহূর্তে বিশেষ অগ্রাধিকার পাচ্ছে না। পুলিশের তদন্ত, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভূমিকা এবং হামলার ঘটনায় কারা জড়িত ছিল—এই তিনটি বিষয়ই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More