আরজি কর কাণ্ডে নয়া মোড়! অভিশপ্ত রাতে সেই ভবনে উপস্থিত সকলকে তলব CBI-র
CBI summons RG Kar Hospital staff: সূত্রের খবর, নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ এবং তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আবার ঘটনার দিন ওই বিল্ডিংয়ে থাকা সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং বয়ান রেকর্ডের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিবিআইয়ের নতুন তদন্তকারী দল।
CBI summons RG Kar Hospital staff: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (RG Kar Medical) তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্তে ফের তৎপর হল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI)। ৮ এবং ৯ অগস্টের রাতে আরজি কর হাসপাতালের যে ভবনে নির্যাতিতা কর্মরত ছিলেন, সেখানকার সকল কর্মী, চিকিৎসক, নিরাপত্তা কর্মীকে তলব করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। সেই রাতের কোনও ঘটনা আগের বার তদন্তকারীদের কোনও ভাবে নজর এড়িয়ে গিয়েছিল কিনা, তা নিশ্চিত হতেই আবার জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর, নির্যাতিতার পরিবার তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছিল। অভিযোগ করেছিল, এক নার্সের বয়ানে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তার ভিত্তিতেই আবার শুরু হচ্ছে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, আগের বারে আরজি করের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন সীমা পাহুজার নেতৃত্বাধীন দল। তাঁরা ওই ভবনের নিরাপত্তাকর্মী থেকে শুরু করে চিকিৎসক-সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। ঘটনার রাতে ওই বিল্ডিংয়ে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বয়ান রেকর্ড করা হয়। কিন্তু সেই তদন্তে অসন্তুষ্ট ছিলেন নির্যাতিতার পরিবার। তাঁদের অভিযোগ ছিল যে, বেশ কয়েক জন কর্মীর বক্তব্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সূত্র ছিল, যেগুলিকে গুরুত্ব দেয়নি সিবিআইয়ের সেই সময়কার তদন্তকারীর দল। তাঁদের দাবি, ওই বিল্ডিংয়ের যত জনের বয়ান নেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে ‘উল্লেখযোগ্য’ ছিল এক নার্সের বক্তব্য। নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, ওই নার্স তাঁর মোবাইলে ওই রাতের ‘উল্লেখযোগ্য’ কিছু ঘটনা রেকর্ড করা রয়েছে, যে বয়ান গুরুত্ব দেয়নি সীমার নেতৃত্বাধীন তদন্তকারী দল।এছাড়া বেশ কয়েকজনের বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা গিয়েছিল। তাতে গুরুত্ব দেয়নি সেই সময়কার তদন্তকারী দল।
সূত্রের খবর, নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ এবং তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আবার ঘটনার দিন ওই বিল্ডিংয়ে থাকা সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং বয়ান রেকর্ডের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিবিআইয়ের নতুন তদন্তকারী দল। চলতি এবং আগামী সপ্তাহ জুড়ে ওই কর্মীদের বয়ান রেকর্ড করা হবে। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য দফতর থেকেও পৃথক তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সেখানেও এই কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সিবিআইয়ের নতুন তদন্তকারী দলের কাজেও বিরক্ত কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। আদালতের পর্যবেক্ষণ, তদন্ত সঠিক পথে এগোচ্ছে না, যা যা করা দরকার, সিবিআই তা করছে না। এই মামলায় সিবিআইয়ের নতুন তদন্তকারী দলটি গত ৬ অগস্ট আদালতে রিপোর্ট জমা দেয় এবং তদন্তের জন্য পর্যাপ্ত সময় চায়। তাতেই অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ। আরজি করের ঘটনার তদন্ত প্রথম শুরু করেছিল কলকাতা পুলিশ। তারাই মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে (বর্তমানে দোষী সাব্যস্ত এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত) গ্রেফতার করে। পরে ওই মামলার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় সিবিআইয়ের হাতে। তারা চার্জশিটে সঞ্জয়কেই একমাত্র অভিযুক্ত বলে উল্লেখ করে এবং শিয়ালদহ আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে আজীবন কারাবাসের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সিবিআই বা পুলিশের তদন্তে প্রথম থেকেই অসন্তুষ্ট ছিল নির্যাতিতার পরিবার। তারা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় এবং আদালত কেন্দ্রীয় সংস্থাকে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী নতুন বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছিল সিবিআই।
E-Paper

