Chandranath Rath Murder Case: আজ থেকেই অ্যাকশনে! শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক খুনের তদন্তে এবার CBI, ৭ সদস্যের সিট গঠন
Chandranath Rath Murder Case: জানা গিয়েছে, ভিনরাজ্যের মোট সাতজন দুঁদে অফিসারকে নিয়ে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন ডিআইজি ব়্যাঙ্কের অফিসার পঙ্কজ কুমার সিং।
Chandranath Rath Murder Case: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে নিল সিবিআই। রাজ্য পুলিশের সুপারিশের ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এই মামলার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সিবিআই সূত্রে জানানো হয়েছে, কলকাতা জোনের যুগ্ম নির্দেশকের অধীনে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করে এই খুনের রহস্যভেদে নামছে তারা। ৭ জনের এই দলে থাকবেন আরও দুজন পুলিশ সুপার মর্যাদার অফিসার। সোমবার মধ্যরাতেই এই সিট গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর সূত্রের।

৭ সদস্যের সিট গঠন সিবিআই-এর
জানা গিয়েছে, ভিনরাজ্যের মোট সাতজন দুঁদে অফিসারকে নিয়ে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন ডিআইজি ব়্যাঙ্কের অফিসার পঙ্কজ কুমার সিং। তাঁর সঙ্গে দলে রয়েছেন, সুভাষ চন্দ্র কুণ্ডু, অনিল কুমার যাদব, বিকাশ পাঠক, অমিত কুমার, কুলদীপ এবং বিবেক শ্রীবাস্তব। জানা গিয়েছে, দিল্লি, পাটনা, রাঁচি, ধানবাদ, লখনউের এই অফিসাররা টিমে রয়েছেন। কলকাতা জোনের জয়েন্ট ডিরেক্টর নজরদারির দায়িত্বে রয়েছেন। প্রয়োজনে আরও অফিসার যুক্ত করা হবে সিট-এ। এমনটাই জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। মধ্যমগ্রাম থানা ও সিআইডি-র হাতে যে নথি রয়েছে তা শীঘ্রই সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও আদালতের নজরদারিতে সিবিআই তদন্তের দাবি জানানো হয়েছিল। সিবিআই জানিয়েছে, তদন্তের প্রয়োজনে কলকাতা জোনের দক্ষ আধিকারিকদের এই বিশেষ দলে নিয়োগ করা হবে। ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে রাজ্য পুলিশ যে সূত্রগুলো সাজিয়েছিল, সেগুলিকে ভিত্তি করেই এখন তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাবে কেন্দ্রীয় সংস্থা। তবে এই হাই-প্রোফাইল খুনের নেপথ্যে বড় কোনও ষড়যন্ত্র বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা, সেটাই খুঁজে বের করা এখন সিবিআইয়ের মূল চ্যালেঞ্জ।
নৃশংস হত্যাকাণ্ড
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয় ৪ মে। তারপর গত ৬ মে (বুধবার) রাতে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় নিজের গাড়িতে করে ফিরছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। সেই সময় একটি সিলভার রঙের নিসান গাড়ি তাঁর গাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পথ আটকায়। সিসিটিভিতে দেখা গিয়েছে, এরপরই দুষ্কৃতীরা গাড়ি থেকে নেমে খুব কাছ থেকে পরপর গুলি চালায়। গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, পাশের দোকানে আশ্রয় নেন স্থানীয়রা। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চন্দ্রনাথ রথ। গুরুতর জখম হন চালক। খুনের পরে বাইকে চেপে দ্রুত এলাকা ছাড়ে আততায়ীরা।
পুলিশের হাতে যে তথ্য উঠে এল…
মধ্যগ্রামের ঘটনার তদন্ত করছিল পুলিশ। সিআইডিও তদন্তে সহযোগিতা করছিল। প্রাথমিকভাবে পুলিশ মনে করছে ৮-৯ জন ঘটনায় যুক্ত ছিল। এখনও পর্যন্ত পুলিশ জানতে পেরেছে দু’টো বাইক ও একটি গাড়ি এই খুনে ব্যবহার করা হয়েছে। একটি বাইকে দু’জন ও অন্য বাইকে তিনজন ছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর। যে বন্দুক দু’টো ব্যবহার করা হয়েছিল, তার মধ্যে একটি বন্দুকের বাজারমূল্য ছিল আনুমানিক ১০ লক্ষ টাকার বেশি। গাড়ি, বন্দুক, খুন করার জন্য রেইকি করা, সার্প শুটার ভাড়া করা সব মিলিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার বেশি খরচ করা হয়েছে বলে তদন্তকারী আধিকারিক সূত্রে খবর। ইতিমধ্যে বিহার এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে রাজ সিং একেবারেই মুখ খোলেনি বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তুলনায় অন্য দু’জন অনেকটা ভেঙে পড়েছে। তবে, পুলিশের কাছে তিনজনই ঘটনায় নিজেদের ভূমিকা কী ছিল তা স্বীকার করেনি এখনও।
E-Paper

