'কোনও ধরনের আতঙ্কের পরিবেশ...,' শুভেন্দুর জেলায় গিয়ে ভোটারদের অভয়বার্তা CEO মনোজের
দ্বিতীয় দফায় জেলার ১৬টি বিধানসভা কেন্দ্রের পর্যবেক্ষকদের নিয়েও আলাদা বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।
২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভাগ্য নির্ধারণ হবে রাজ্যের ২৯৪টি আসনের। এই পরিস্থিতিতে বাংলার ভোট উৎসবকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করাই লক্ষ্য। রাজ্যের নিরাপত্তা ও ভোটের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে শনিবার বিকেলে পূর্ব মেদিনীপুরে পৌঁছান রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ কুমার আগরওয়াল। সেখানে গিয়ে ভয় ও হিংসা মুক্ত ভোটে হবে বলে বার্তা তাঁর। একইসঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ নিয়ে সুপ্রিম নির্দেশের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।

এই মুহূর্তে আদর্শ আচরণবিধি চলছে রাজ্যে। জোরকদমে প্রচারে নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা। বিভিন্ন কেন্দ্রে ইতিমধ্যেই প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতেও শুরু করেছেন। এরমধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় অশান্তির খবর সামনে আসছে। সম্প্রতি মালদহের কালিয়াচকে এসআইআর সংক্রান্ত কাজে গিয়ে দীর্ঘ কয়েকঘণ্টা আটক হয়ে থাকতে হয়েছে বিচারকদের। যা নিয়ে উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি। প্রশ্ন উঠছে, আদৌও শাস্তিপূর্ণ ভোট হবে তো? আর এই প্রেক্ষাপটে ঘরে বসে নয়, একেবারে সরজমিনে ময়দানে নেমে ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরে পৌঁছেই বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জেলার শীর্ষ প্রশাসনিক এবং পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠকে বসেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, এডিজি পশ্চিমাঞ্চল বিশাল গর্গ, ডিআইজি মেদিনীপুর রেঞ্জ অরিজিৎ সিনহা, জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, জেলা পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা-সহ জেলার সমস্ত মহকুমা শাসক, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক, সিআই, ওসি, আইসি এবং আরও, এআরওরা।
প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠকে জেলার সামগ্রিক নির্বাচন প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভোট গ্রহণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় জেলার ১৬টি বিধানসভা কেন্দ্রের পর্যবেক্ষকদের নিয়েও আলাদা বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। বৈঠকে জেলার ১৬টি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং বিশেষ করে বিগত নির্বাচনগুলিতে হিংসাপ্রবণ এলাকাগুলির নিরাপত্তা নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ খোঁজ খবর নেন সিইও। রাত ৮টার পর বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সিইও মনোজ আগরওয়াল আসন্ন নির্বাচন নিয়ে কমিশনের কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, 'এই জেলায় ১৬টি বিধানসভা আসন এবং প্রায় ৪০ লক্ষের বেশি ভোটার রয়েছেন। কমিশনের প্রাথমিক লক্ষ্য হল, এখানে সম্পূর্ণ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করা।' তিনি স্পষ্ট করে দেন, 'কোনও ধরনের আতঙ্কের পরিবেশ থাকবে না, প্রত্যেকেই নিজের ইচ্ছামতো ভোট দিতে পারবেন।' বিগত নির্বাচনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, ২০২১ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর জেলার যে সব এলাকায় আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছিল, সেই সব স্পর্শকাতর জায়গাগুলি তিনি নিজে পরিদর্শন করবেন। আগামিকাল (রবিবার) জেলাশাসককে সঙ্গে নিয়ে তিনি সরাসরি সেইসব এলাকায় ‘ফিল্ড ভিজিট’-এ যাবেন। সিইও আরও উল্লেখ করেন, সরকারি অফিসে সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি মাঠে-ঘাটে গিয়ে পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি খতিয়ে দেখবেন তিনি। এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের আশ্বস্ত করবেন যে ভয়ের কোনও কারণ নেই। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করানোর জন্য জেলা প্রশাসন ও কমিশন বর্তমানে অত্যন্ত তৎপর ও সজাগ রয়েছে।
রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হিংসার শিকার হওয়া বুথগুলি পরিদর্শন এবং সাধারণ মানুষের মনোবল বৃদ্ধিতে কমিশনের এই অতি-সক্রিয়তা নির্বাচনকে ঘিরে জেলায় আঁটোসাঁটো নিরাপত্তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
E-Paper

