Food Safety: ফলেও বিষ! স্বাস্থ্যকর খাবেন ভাবছেন? ভয়ংকর রোগের নেপথ্যে থাকতে পারে 'কলা'
Food Safety: খাদ্য সুরক্ষা দফতরের নিয়মানুযায়ী, মূলত কাঁচা কলা বা কোনও ফল পাকানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মাত্রায় ইথানিল ব্যবহার করা যায়। তবে অন্য কোনও রাসায়নিক কিংবা কার্বাইডের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
Food Safety: খাবারে বিষ! শহর থেকে জেলা-প্রতিদিনই খাদ্য সুরক্ষা দফতর অভিযান চলছে। আর সেই অভিযানে নামী-দামি রেস্তোরাঁ থেকে ফুটপাথের দোকান- সব জায়গাতেই পচা মাছ-মাংসের মিলছে রোজ। এই ছবি দেখে আতঙ্কিত রাজ্যের মানুষ। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার কথা ভাবছেন তারা। কিন্তু তাতেও যে বিপদ। খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকদের দাবি, কলাতেও মিশছে বিষাক্ত রাসায়নিক। যা শরীরে বাসা বাঁধা ভয়ংকর রোগের কারণ হতে পারে।

রবিবার দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে চলেছে খাদ্যে ভেজাল রোধে অভিযান। তারকেশ্বর থেকে বসিরহাট— সর্বত্র অভিযান চালিয়েছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর। সেই অভিযানে তারকেশ্বরের বৈদ্যপুর চৌমাথা এলাকায় বেশ কয়েকজন কলা ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দেন খাদ্য সুরক্ষা দফতররের আধিকারিকরা। কলা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানতে চাওয়া হয়, কাঁচা কলা তাঁরা পাকান কীভাবে? পাশাপাশি, ব্যবসায়ীদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তাতে বেশ কয়েকজনের বাড়ি থেকে বিষাক্ত রাসায়নিক বাজেয়াপ্ত করা হয়। কলা বিক্রেতাদের কাছে বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার দেখে হকচকিয়ে যান আধিকারিকরাও।
খাদ্য সুরক্ষা দফতরের নিয়মানুযায়ী, মূলত কাঁচা কলা বা কোনও ফল পাকানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মাত্রায় ইথানিল ব্যবহার করা যায়। তবে অন্য কোনও রাসায়নিক কিংবা কার্বাইডের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। শুধুমাত্র ইথানিল সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার করে কলা পাকানোর ক্ষেত্রে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের ছাড়পত্র আছে। তবে অনেকেই নাকি সে নিয়ম মানছেন না। পরিবর্তে রাসায়নিক ব্যবহার করে কাঁচা কলাকে দ্রুত পাকানো হচ্ছে। এই রাসায়নিক শরীরে ঢুকলে নানা রকমের শারীরিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। পেটে যন্ত্রণা, বমি এমনকী কোলন ক্যানসারের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে তারকেশ্বরের ওই কলা ব্যবসায়ীদের সঠিক নিয়ম মেনে কলা পাকানোর জন্য হাতেকলমে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে। খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিক শুভজিৎ গাঙ্গুলি বলেন, 'একদমই নিয়ম মেনে কলা পাকানো হচ্ছে না। ভীষণ আন-হাইজেনিক পদ্ধতিতে, ডেচকির মধ্যে জল নিয়ে তাতে কীটনাশক, কেমিক্যাল মিশিয়ে কলা পাকানো হচ্ছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কলা পেকে যাচ্ছে, সুন্দর রঙ আসছে। এগুলিই বাজারে যাচ্ছে। এই কলা খেলে মানুষের ক্ষতি হবে।' তাই কেনার আগে ভালো করে পরখ করে নিন। বেশি উজ্জ্বল রঙের কলা ভুলেও কিনবেন না।
বলে রাখা প্রয়োজন, রাজ্যের বিভিন্ন দোকান, হোটেল, রেস্তরাঁর মান ঠিক আছে কিনা, তা পরীক্ষা করতে সম্প্রতি অভিযানে নেমেছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর। গত কয়েকদিনে রাজ্যের প্রায় আড়াই হাজারেরও বেশি জায়গায় হানা দিয়েছেন আধিকারিকরা। কোথাও ফ্রিজে ঠাসা পচা মাংস, কোথাও আলু-বেবিকর্নে ভর্তি ছত্রাক, কোথাও নষ্ট হয়ে যাওয়া ছানা থেকে তৈরি হচ্ছে মিষ্টি। আবার কোথাও খাবারে মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত রং। বিভিন্ন হোটেল, রেস্তরাঁ, দোকানে অভিযানে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়! আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে পার্ক স্ট্রিটের নামীদামি রেস্তরাঁর রান্নাঘরের অবস্থা। করিমস, ডন জিওভানির মতো রেস্তরাঁ খাবার পরীক্ষায় ডাহা ফেল! এত বিখ্যাত সব রেস্তরাঁ, হোটেলের মাঝে পাশ করেছে মোক্যাম্বো, আর্সেলান। কামালগাজি থেকে সোনারপুর, বহরমপুর থেকে আলিপুরদুয়ার, রাজ্যের নানা প্রান্তে একাধিক খাবারের দোকান মানপরীক্ষায় ফেল করায় সিল করে দেওয়া হয়েছে। গড়িয়াহাট বাজারে ফ্রোজেন মাংসেও মিলেছে বিষ। তার ফলে রাজ্যজুড়ে ক্রমশ বাড়ছে উদ্বেগ।
E-Paper

