CM Suvendu Adhikari: নতুন জেলা হবে কাকদ্বীপ! সুন্দরবনের দ্বীপ জুড়তে ‘মডেল’, CAA নিয়েও বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

Kakdwip New District Announcement: বর্তমানে কাকদ্বীপ একটি মহকুমা। এর আওতায় রয়েছে কাকদ্বীপ, নামখানা, পাথরপ্রতিমা ও সাগর—এই চারটি ব্লক।

Published on: Oct 24, 2026, 21:15:26 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Kakdwip New District Announcement: দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রশাসনিক মানচিত্রে বিরাট বদলের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে সরকারি কর্মসূচি থেকে তিনি ঘোষণা করেছেন, আগামী দু’বছরের মধ্যে কাকদ্বীপকে (Kakdwip) নতুন জেলা করা হবে। একই সঙ্গে সুন্দরবনের দ্বীপগুলিকে যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্ত করে ‘সুন্দরবন মডেল’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর অধীনে শংসাপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক ও কাকদ্বীপের মহকুমাশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ( Saikat Paul)
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ( Saikat Paul)

বর্তমানে কাকদ্বীপ একটি মহকুমা। এর আওতায় রয়েছে কাকদ্বীপ, নামখানা, পাথরপ্রতিমা ও সাগর—এই চারটি ব্লক। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সুন্দরবন বিষয়ক দফতরের উদ্যোগে সুন্দরবনের মানুষের সার্বিক উন্নতিকল্পে বিশেষ জনপরিষেবা প্রদান কর্মসূচি ছিল শনিবার। কাকদ্বীপ স্টেডিয়ামে ওই কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কাকদ্বীপকে পৃথক জেলা করা হবে। তবে এই পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও পরিকাঠামো গড়ে তুলতে সময় লাগবে। তাঁর কথায়, ‘প্রশাসনিক ভাবে যখন বিভক্ত করা হবে... দু’বছর পরে হলেও কাকদ্বীপকে জেলা করব। সুন্দরবনকে মডেল করব এবং সবগুলো দ্বীপকে জুড়ে দেব।’ সুন্দরবনের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দ্বীপাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলি রয়েছে, সেগুলি কমাতে দ্বীপগুলিকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তাঁর ঘোষিত ‘সুন্দরবন মডেল’-এর লক্ষ্য, এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ও উন্নয়নমূলক কাজকে আরও সুসংহত করা। তবে এই পরিকল্পনার বিস্তারিত রূপরেখা, প্রকল্পের পর্যায় এবং নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও স্পষ্ট নয়।

এদিনের সভা থেকে গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার উন্নয়ন নিয়ে একগুচ্ছ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে বিগত সরকারের আমলের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ তোলেন যে, অতীতে উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করা হলেও তা সঠিকভাবে খরচ করা হত না এবং বরাদ্দের সিংহভাগ টাকাই তৎকালীন শাসকদলের নেতাদের পকেটে চলে যেত। এই প্রসঙ্গে পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গত সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। কাজ করেছিল মাত্র ২০০ কোটির। তার ৮০ ভাগ টাকা আবার চুরি হয়ে গিয়েছে! আমরা আট মাসের বাজেটে ১২০০ কোটি টাকা আপনাদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ করেছি। প্রথম দফায় ৫৫৩টি কাজের টেন্ডার হয়েছে। বর্ষা চলে গিয়েছে। এ বার সবগুলো কাজের শুভ সূচনা হচ্ছে। দ্বিতীয় দফায় আরও ২৬৫০টি কাজ হবে।’ সুন্দরবনের নদীবাঁধগুলি সুরক্ষিত করতে তাঁর সরকার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে এবং আগামী ২০২৯ সালের মধ্যেই বহু প্রতীক্ষিত মুড়িগঙ্গা সেতুর উদ্বোধন করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

কাকদ্বীপের সভা থেকে সিএএ শংসাপত্র নিয়েও প্রশাসনকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় বা জীবনরক্ষার কারণে ভারতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ নয়, ‘শরণার্থী’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে যাঁরা প্রাণ আর ধর্ম বাঁচাতে এসেছেন, তাঁরা কিন্তু অনুপ্রবেশকারী নন। তাঁরা শরণার্থী। তাঁদের সবাইকে... ডিএম দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং এসডিও কাকদ্বীপকে বলে গেলাম, অতি দ্রুত সিএএ সার্টিফিকেট দিতে। আমি ডিসেম্বরের ১০ তারিখের পর সাগরে আসছি। তার পর ১০ জানুয়ারি আসব সাগরমেলার প্রস্তুতি দেখতে। তার আগে সকল শরণার্থী যাতে সিএএ সার্টিফিকেট পান, তা সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব ডিএম এবং এসডিও-কে নিতে হবে। হোম সেক্রেটারি ম্যাডাম এটা দেখে নেবেন। সার্টিফিকেট পাওয়ার পর জানুয়ারি মাসে ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদনও করতে পারবেন ওই ব্যক্তিরা। কোনও সমস্যা হবে না।’

সভায় পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের পাশাপাশি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাগুলিও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। যাঁরা সেই সময় আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাঁদের নতুন করে এফআইআর দায়ের করার পরামর্শ দেন তিনি। নির্যাতিতদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন করে এফআইআর করুন। সবগুলোকে জেলে ঢোকাব। আমি কথা দিয়ে গেলাম, ’২১-এর ভোটের পরে যারা অত্যাচার করেছে, তাদের একজনকেও ছাড়ব না। আর যারা আমফান, মনরেগার টাকা লুট করেছে, তাদেরও ছাড়ব না।’