'পাকিস্তানের মন্ত্রী কলকাতাকে নিশানা...,' PM-র নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তদন্তের দাবি মুখ্যমন্ত্রীর
কলকাতার সদ্য প্রাক্তন সিপি সুপ্রতিম সরকারকে তামিলনাড়ুতে বদলি প্রসঙ্গে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তামিলনাড়ুর সরকারের সঙ্গে বিজেপির বোঝাপড়া আছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
'পাকিস্তানের মন্ত্রী কলকাতাকে নিশানা করার কথা বলেন কী করে?' মহানগর নিয়ে পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা আসিফের বিতর্কিত মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নদিয়ার নাকাশীপাড়ার বেথুয়াডহরী জে.সি.এম উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠের জনসভায় মোথাবাড়ির ঘটনা থেকে শুরু করে পাকিস্তানের মন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য-সহ একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো।

মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় প্রধানমন্ত্রী
সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ দাবি করেছেন, 'ভারত যদি এবারও কোনও মিথ্যা অজুহাতে অভিযান চালানোর চেষ্টা করে, তাহলে ঈশ্বর চাইলে, আমরা ব্যাপারটা কলকাতায় নিয়ে যাব।’ আসিফ বলেন, 'ভারত একটি মিথ্যা অজুহাতে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদি নাটকটা মঞ্চস্থ হয়, তবে তা কলকাতা পর্যন্ত পৌঁছাবে।’ কিন্তু এখনও ভারত সরকারের তরফে এই মন্তব্যের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভোটের প্রচারে পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন। তিনিও কিছু বলেননি। মুখ্যমন্ত্রী এই নীরবতাকেই নিশানা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পাকিস্তানের মন্ত্রী কলকাতাকে নিশানা করার কথা বলেন কী করে? কেন মোদী গতকাল এসে কিছু বললেন না? কেন বলতে পারলেন না যে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে? কেন চুপ? পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ করা হল না? ওদের মন্ত্রীকে দিয়ে কে এমন কথা বলিয়েছেন? আমরা তদন্ত চাই। কলকাতাকে আক্রমণের কথা বললে আমরা তা মানব না।’ এদিনের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, আঞ্চলিক ইস্যুর পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের ‘ব্যর্থতা’কেও তিনি নির্বাচনী হাতিয়ার করতে চলেছেন।
মোথাবাড়ির অশান্তি ও বাঙালি
মোথাবাড়ির সাম্প্রতিক অশান্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘মোথাবাড়ির ঘটনার সময় আপনি কোথায় ছিলেন?’ তিনি স্পষ্ট জানান যে তৃণমূল কংগ্রেস কোনো ধরণের হামলা বা হিংসাকে সমর্থন করে না। তবে একইসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, ‘কোনও হামলাকে আমরা সমর্থন করি না। কিন্তু আপনারা ‘মিম’ নামক সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। আসল দোষীদের গ্রেফতার না করে নির্দোষদের হেনস্থা করা হচ্ছে।’ পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলায় কথা বললেই ঘুষপেটিয়া আর রোহিঙ্গা। আপনিও তো এঁদের ভোট পেয়েছেন। তাহলে আপনি আগে পদত্যাগ করুন।’ তিনি আরও বলেন, ‘অযোধ্যা দিয়ে উত্তরপ্রদেশ থেকে সিআরপিএফ নিয়ে আসছে বিজেপি। কিন্তু এটা ২৫ দিনের খেলা। তারপরেই ওরা বুঝবে ঠেলার নাম বাবাজি।’
বিজেপির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের যোগ?
কলকাতার সদ্য প্রাক্তন সিপি সুপ্রতিম সরকারকে তামিলনাড়ুতে বদলি প্রসঙ্গে এদিন তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তামিলনাড়ুর সরকারের সঙ্গে বিজেপির বোঝাপড়া আছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘সুপ্রতিমকে তামিলনাড়ুতে পাঠিয়ে দিলেন। লজ্জা করে না? সব অফিসারকে ওই রাজ্যে পাঠাচ্ছেন। এত ভাব কিসের? নিশ্চয়ই ভিতরে ভিতরে কংগ্রেস আর এমকে স্ট্যালিনের সঙ্গে কোনও বোঝাপড়া আছে।’ সেই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমোর অভিযোগ, বাইরের রাজ্য থেকে টাকার বান্ডিল ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গে ঢোকানো হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘বাইরে থেকে টাকা ঢুকছে। মাদর আর অস্ত্র ঢুকছে। আমরা প্রমাণ ছাড়া কোনও কথা বলি না। সময় মতো ঠিক ভিডিও বার করব।’ সোমবারের সভায় বিজেপির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের যোগের অভিযোগ তোলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। নন্দীগ্রামে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল গিয়েছিলেন রবিবার। নাম না করে তাঁর কথা উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, ‘নন্দীগ্রামে কমিশনার গিয়েছিলেন দেখলাম। সঙ্গে বিজেপির লোকজন ছিল। তা হলে প্রমাণ হয়ে গেল বিজেপির সঙ্গে কমিশনের যোগ আছে।’
মহিলাদের ডাক
এদিন মহিলাদের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘যদি কেউ ভোট আটকায়, মেয়েরা হাতে ঝাড়ু রাখুন। রাস্তা ঝাঁট দিতে দিতে যাবেন। কিন্তু অধিকার ছাড়বেন না। নাম কেটে অধিকার ছেঁটে কিছু করতে পারবে না বিজেপি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএসএফ-এর ডিজি বলেছেন মেয়েদেরও শরীর চেক করা হবে। এত সস্তা? ভোট আগে দেবেন। তারপর যা করার করবেন।’ ইভিএম খারাপ হয়ে গেলে নতুন ইভিএম এনে ভোট করানোর দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া, মহিলাদের লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। তিনি জানিয়েছেন, তৃণমূল সরকার থাকলে লক্ষ্মীর ভান্ডার-এর টাকা কোনও দিন বন্ধ হবে না। এই সভা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, নদিয়ায় তৈরি শাড়ি পরেই তিনি নাকাশিপাড়ার জনসভায় এসেছেন। নদিয়ার তাঁতির হাতে তৈরি তাঁর পরনের শাড়ি। তাঁর কথায়, ‘নদিয়ায় আমি অনেক বার এসেছি। অনেক কিছু করেছি এই জেলার জন্য। এখন বিজেপি তা নিয়ে দালালি করছে।’
E-Paper

