CM Mamata Banerjee: 'সৌজন্যের সীমারেখা...,' নাম না করেই আরজি করের নির্যাতিতার মাকে ইঙ্গিতবাহী বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর?

CM Mamata Banerjee: এদিন পানিহাটির মঞ্চে উঠেই প্রথমে দখলদারির রাজনীতি নিয়ে এলাকার কাউন্সিলর, চেয়ারম্যানদের সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Published on: Apr 09, 2026 9:08 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

CM Mamata Banerjee: 'প্রতিপক্ষকে কথা শোনাতেই পারেন, কিন্তু সৌজন্যের সীমা রাখবেন।' নাম না করেই পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী আরজি করের নির্যাতিতার মাকে এমনই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাব্বিশের নির্বাচনে রাজ্যের অন্যতম হটস্পট উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি। আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা এবার এই কেন্দ্র থেকে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী হওয়াই পানিহাটির ভোটযুদ্ধকে আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে, তা বলা বাহুল্য। এখানে তৃণমূলও নতুন প্রার্থী দিয়েছে। অভিজ্ঞ, বিদায়ী বিধায়ক নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ পানিহাটির তৃণমূল প্রার্থী হয়েছেন। তাঁর হয়ে বৃহস্পতিবার পানিহাটির উষুমপুর বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনে প্রচারসভা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

ইঙ্গিতবাহী বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর (@AITCofficial)
ইঙ্গিতবাহী বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর (@AITCofficial)

‘সৌজন্য রাখবেন!’

এদিন পানিহাটির সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আপনার সন্তান, শিক্ষা, ইতিহাস, খাবার, সংস্কৃতি, অধিকার যদি বাঁচাতে হয়, আপনাদের দরকার তৃণমূল সরকার। যে যতই নাটক, ছলনা করুক, একটা কথা বলবেন, ভোটে কেউ প্রার্থী হলে তাঁর নিজের কথা বলার অধিকার রয়েছে। কিন্তু ভোট রাজনীতির অঙ্গ। এক রাজনীতির লোক অন্য রাজনীতিক লোককে বলতেই পারে। কিন্তু আমি কাউকে কটূক্তি করব না। আপনারাও সৌজন্যের সীমারেখা রাখবেন।' মনে করা হচ্ছে, নাম না নিলেও পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী আরজি করের নির্যাতিতার মাকে এই কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছেন পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী। সেই নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে নালিশ জানিয়েছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, পানিহাটির বিজেপি প্রার্থীর মন্তব্য কেবল নিন্দনীয়ই নয়, তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্যও ক্ষতিকর। মনে করা হচ্ছে, সেই প্রসঙ্গ তুলেই বৃহস্পতিবার পানিহাটিতে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

কাউন্সিলর, চেয়ারম্যানদের সতর্কতা

এদিন পানিহাটির মঞ্চে উঠেই প্রথমে দখলদারির রাজনীতি নিয়ে এলাকার কাউন্সিলর, চেয়ারম্যানদের সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল নেত্রীর সাফ কথা, 'আমি শুরুতেই একটা কথা স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছি। কাউন্সিলর, চেয়ারম্যানরা শুনে রাখুন। তৃণমূল দলটা করতে গেলে সবুজ ধ্বংস করা চলবে না, মাঠ দখল করা চলবে না। বেআইনি নির্মাণ চলবে না। এখানে একটা মাঠ দখল করা হচ্ছিল বলে আমার কানে খবর আসে। সঙ্গে সঙ্গে আমি ধরেছি। যদি ভেবে থাকেন, আমি কলকাতায় থাকি বলে পানিহাটিতে কী হচ্ছে, জানব না, মালদহে কী হচ্ছে জানব না, সেটা কিন্তু নয়। সবার সব খবর আমি রাখি।' ঘটনা বছর খানেক আগেকার। সোদপুরের অমরাবতীর মাঠ এলাকার মধ্যে বেশ বিখ্যাত। ২০২৫ সালে এই মাঠের একাংশ দখলের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ ওঠে। এখানে কোনও নির্মাণকাজ হওয়ার কথা ছিল। এতে পানিহাটি পুরসভার পরোক্ষ মদত ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এসব মুখ্যমন্ত্রীর কানে পৌঁছতেই তড়িঘড়ি পদক্ষেপের নির্দেশ দেন তিনি। দ্রুত এই নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর জেরে পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যানও বদল করে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর।

বছর ঘুরে এসেছে বিধানসভা ভোট। অমরাবতীর এই বিতর্ক ভুলে যাননি স্থানীয় বাসিন্দারা। তার প্রভাব যাতে নির্বাচনে কোনওভাবে না পড়ে, প্রচারে এসে গোড়াতেই তা স্পষ্ট করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বললেন, 'মাঠ বা কোনও ফাঁকা জায়গা দখল করে যখন তখন নির্মাণকাজ করব, এসব চলবে না। আমার নজরে এলেই আমি তা বন্ধ করে দেব। তৃণমূল করতে হলে সবুজ ধ্বংস নয়, সবুজ বাঁচাতে হবে।'

নিশানায় প্রধানমন্ত্রী?

পানিহাটির সভা থেকে নাম না করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তীব্র কটাক্ষ করলেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, 'আজ নাকি আমোদী-প্রমোদী বলেছেন, বাংলায় মাছ উৎপাদন হয় না। বিহারে হয়। তুমি তো বিহারে মাছ খেতেই দাও না। এখানে তো সব খায়। আগে হায়দরাবাদ থেকে মাছ আসত। এখন আর লাগে না। পার্টি কানে কানে যা বলছে, তাই বলছো! উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থানে মাছ খেতে দাও না। দোকানও বন্ধ। এখানে বলো, বিহারে এত মাছ হয়।' তিনি আরও বলেন, 'তুমি মাংসও পাঠাও বিদেশে। গোমাংস পাঠাও ওমানে। সৌদ আরবের গলায় যখন কোলাকুলি করো, ভাবো, ও হিন্দু না মুসলমান। দেশের বাইরে এক নীতি, ভিতরে এক নীতি!’