'জয় বাংলা', শঙ্খ বাজিয়ে উলুধ্বনি! বিশাল মিছিল নিয়ে পায়ে হেঁটে মনোনয়নপত্র পেশ মুখ্যমন্ত্রীর
সবটা নিয়েই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র, যা তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাস তালুক, আক্ষরিক অর্থেই ‘মিনি ভারত।’
ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই কেন্দ্রে মুখোমুখি লড়াইয়ে করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ফলে তাঁদের মনোনয়ন পর্ব ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এই আবহে বুধবারই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন সকাল পৌনে ১১টা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে পায়ে হেঁটে মুখ্যমন্ত্রী আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ে পৌঁছোন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিল বিশাল মিছিল। মনোনয়ন পর্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, কাউন্সিলর এবং মুখ্যমন্ত্রীর ভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়, কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, ভ্রাতৃবধূ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের নেতা সন্দীপ বক্সী প্রমুখ। আগেই জানা গিয়েছিল যে, ভবানীপুর কেন্দ্রের ‘কসমোপলিটান’ বা ‘বহুত্ববাদী’ চরিত্রকে সামনে রেখে তাঁর মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকদের তালিকায় প্রতিফলিত হবে ভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব। সেই সূত্র ধরেই মুখ্যমন্ত্রীর মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসাবে স্বাক্ষর করেছেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের স্ত্রী ইসমত (রুবি) হাকিম, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের স্বামী নিসপাল সিং রানে, ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল ব্লক সভাপতি বাবলু সিং এবং ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটির মীরজ শাহের।
ভবানীপুরে যেমন রয়েছে চেতলা অঞ্চলের (৮২ নম্বর ওয়ার্ড) মতো বাঙালি প্রভাবিত এলাকা, তেমনই আছে কলকাতা পুরসভার ৭০, ৭১, ৭৩ নম্বর ওয়ার্ড। এসব এলাকায় গুজরাটি, পাঞ্জাবি, মাড়োয়ারি সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের বসবাস। আছেন জৈন ধর্মের অনুসারী অনেক মানুষ। আবার ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের সংখ্যা বেশি। বিহার, ঝাড়খণ্ডের হিন্দিভাষী বহু মানুষও থাকেন এখানে। সবটা নিয়েই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র, যা তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাস তালুক, আক্ষরিক অর্থেই ‘মিনি ভারত।’ এবার তাঁর মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকদের তালিকায় ফুটে উঠল সেই সম্প্রীতির প্রতিচ্ছবি। মূলত, ভবানীপুরে ভোট রয়েছে আগামী ২৯ এপ্রিল। তার জন্য মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় শেষ দিন ৯ এপ্রিল। তার আগেই বুধবার ৮ এপ্রিল মনোনয়ন জমা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর মনোনয়ন পর্ব ঘিরে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে রাস্তার একাংশ গার্ডরেল দিয়ে ঢেকে দেয় পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রীকে দেখতে রাস্তার ধারে ভিড় জমান বহু মানুষ। মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত জনতার দিকে হাত নাড়তে নাড়তে এগোন। তাঁর পিছনে ছিল তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের লম্বা মিছিল। মিছিল থেকে উঠে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলা কর্মীরা শঙ্খ বাজিয়ে এবং উলুধ্বনি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
E-Paper











