West Bengal Assembly: ফিরল ২০১৪-র স্মৃতি! প্রথমবার বিধানসভায় CM শুভেন্দু অধিকারী, হিড়িক তৃণমূল বিধায়কদের
West Bengal Assembly: এদিন বিধানসভা চত্বরে ফিরল ২০১৪ সালের সংসদ ভবনের স্মৃতি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে নিজের কনভয় থেকে নামার পর সিঁড়িতে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করে বিধানসভা ভবনে প্রবেশ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
West Bengal Assembly: বাংলায় রাজনীতির নতুন অধ্যায় শুরু হল বুধবার। ১৮ তম বিধানসভার প্রথম অধিবেশন ঘিরে বুধবার সকাল থেকেই সাজ সাজ রব ছিল বিধানসভা চত্বরে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর এই প্রথম নবনির্বাচিত বিধায়করা রাজ্য বিধানসভায় সমবেত হয়েছেন। বুধবার ও বৃহস্পতিবার - এই দু’দিন ধরে চলবে বিধায়কদের শপথ গ্রহণ পর্ব। তবে দিনের সবটুকু আলো কেড়ে নিলেন রাজ্যের নতুন প্রশাসনিক প্রধান তথা ভবানীপুরের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথমবার তিনি বিধানসভার অলিন্দে পা রাখলেন।

এদিন বিধানসভা চত্বরে ফিরল ২০১৪ সালের সংসদ ভবনের স্মৃতি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে নিজের কনভয় থেকে নামার পর সিঁড়িতে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করে বিধানসভা ভবনে প্রবেশ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গার্ড অফ অনার দেওয়ার পরে গণতন্ত্রের মন্দির পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভবনে ঢোকার আগে, মাটিতে পাতা লাল গালিচার উপরেই হাঁটুমুড়ে বসে, মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করেন শুভেন্দু অধিকারী। তারপরেই প্রবেশ করেন বিধানসভা ভবনের অন্দরে। এর সঙ্গেই এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী রইল রাজ্য রাজনীতি। বলে রাখা ভালো, গত সোমবার নবান্নে দায়িত্বভার গ্রহণের দিনও তাঁকে একইভাবে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়েছিল। বিধানসভা ভবনে প্রবেশ করার পর মুখ্যমন্ত্রী নিজের জন্য বরাদ্দ কক্ষে যান এবং সেখানে নিষ্ঠাভরে পুজো দেন।
তবে এদিন সবথেকে বেশি চমক ছিল মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কদের উপস্থিতি। সৌজন্যের খাতিরে হোক বা অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণে, শুভেন্দু অধিকারীর ঘরে একে একে প্রবেশ করতে দেখা যায় হরিহরপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক নিয়ামত শেখ, রঘুনাথগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান এবং সুতির তৃণমূল বিধায়ক ইমানি বিশ্বাসের মতো নেতাদের। বিধানসভার অন্দরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই সৌজন্য বিনিময় নজর কেড়েছে উপস্থিত সকলের। এরপর বেলা ঠিক ১১টা বেজে ২ মিনিটে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার বিধানসভার মূল অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় এবং রাজ্যের নবনিযুক্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক ১১টা ৪ মিনিট, প্রোটেম স্পিকারের উপস্থিতিতে বিধায়ক হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করেন শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পর একে একে শপথ নেন মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা। তালিকায় ছিলেন বর্ষীয়ান নেতা দিলীপ ঘোষ, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু, নিশীথ প্রামাণিক এবং অগ্নিমিত্রা পাল। নতুন সরকারের এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিধানসভা চত্বরে নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী বাকি বিধায়করাও ধাপে ধাপে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করবেন। বাংলার প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নতুন দিশা দেখাতেই যে এই সরকার বদ্ধপরিকর, এদিনের অধিবেশনের মেজাজ থেকেই তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
E-Paper

