West Bengal Assembly: লাইভ সম্প্রচার থেকে নতুন ভবন! বিধানসভায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
West Bengal Assembly: এদিনের অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, সংসদীয় গণতন্ত্রে স্বচ্ছতা ফেরাতে এখন থেকে বিধানসভার সমস্ত কার্যাবলি সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি বা লাইভ সম্প্রচার করা হবে। এর ফলে মানুষ নিজের চোখে বিধায়কদের আচরণ এবং সরকারের কাজের পদ্ধতি দেখতে পাবেন।
West Bengal Assembly: শুরু হলো বাংলার সংসদীয় রাজনীতির এক নতুন অধ্যায়। ১৮তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম অধিবেশন শুধু ‘বন্দেমাতরম’ গানের ঐতিহাসিক সূচনা দিয়েই নয়, বরং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একগুচ্ছ ঘোষণায় চর্চায় থাকল। শুক্রবার কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসু সর্বসম্মতভাবে স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর, তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের সংসদীয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও মর্যাদা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দেন। বিধায়করা কে কী কাজ করছেন, কে বিধানসভায় যাচ্ছেন, সে ব্যাপারে স্বচ্ছতা রাখার কথা আগেই বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপরেই আজ প্রথমদিনের বিধানসভা অধিবেশন থেকেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেন, সাধারণ মানুষের জন্য বিধানসভার কার্যকলাপ লাইভ সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হবে। বিধানসভায় এক নতুন যুগের সূচনা করার বার্তাও দেন তিনি।

এদিনের অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, সংসদীয় গণতন্ত্রে স্বচ্ছতা ফেরাতে এখন থেকে বিধানসভার সমস্ত কার্যাবলি সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি বা লাইভ সম্প্রচার করা হবে। এর ফলে মানুষ নিজের চোখে বিধায়কদের আচরণ এবং সরকারের কাজের পদ্ধতি দেখতে পাবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বিএ কমিটির সিদ্ধান্তগুলি মেনে নিয়ে বিরোধীরা কক্ষের কাজ পরিচালনায় সহযোগিতা করবেন। তবে বক্তব্য রাখতে উঠে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পূর্বতন সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, 'বিরোধী দলনেতাকে ১১ মাস বাইরে রেখে বা কোনও সদস্যকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠিয়ে বিধানসভা চালানোর সংস্কৃতিতে আমরা বিশ্বাসী নই।' স্পিকারের কাছে তাঁর অনুরোধ, বিরোধীদের যেন পর্যাপ্ত মর্যাদা ও কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়।
বিধানসভায় কী কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
১. মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'পুরনো অম্ল-মধুর অভিজ্ঞতা আমি তুলে ধরতে চাই না। পুরনো ত্রুটি-বিচ্যুতি ভুলে যেতে চাই। বিধানসভার নিজস্ব নিয়ম, বহুদলীয়ট গণতন্ত্র মেনেই বিধানসভা চলবে।'
২. বিধায়কদের উপস্থিতি থাকবে, প্রশ্নোত্তর পর্বে বিধায়করা অংশ নেবেন।
৩. মুখ্যমন্ত্রী জানান, 'বিধায়করা কী কাজ করছেন, তা নিয়ে ভোটাররা অন্ধকারে থাকে। আশা করব, এই ঐতিহাসিক বিধানসভায় জনগণের নজরদারি সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে লাইভ সম্প্রচার করা হবে। বিল, বাজেট, জিরো আওয়ার সব টেলিকাস্ট হবে।'
৪. মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমরা চাই না, কোনও বিধায়ককে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হোক। এটা মারামারি করার জায়গা নয়।'
৫. তিনি আরও বলেন, 'আমরা চাই দায়বদ্ধতা, ভাষা প্রয়োগের শালীনতা, আমরা চাই সংবিধানকে মাথায় রেখে বিধানসভা এগিয়ে নিয়ে যেতে।'
৬. সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। ভোটিং-এর জন্য এখনও কাগজে লিখে দিতে হয়। ডিলিমিটেশন হলে বিধানসভার আসন সংখ্যাও বাড়তে পারে। তাই নতুন বিধানসভা ভবনের প্রয়াসও থাকবে।
৭. বিরোধীদের বেশি করে বলার সুযোগ দেওয়া হবে। বিরোধীরা প্রয়োজন হলে মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলবেন। এলাকায় মন্ত্রীরা গেলে বিধায়কদের খবর দেওয়া হবে।
৮. বিরোধীদের উদ্দেশে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'আগে আমরা চিঠি দিলে কেউ উত্তর দিতেন না, এবার আপনারা আমাকে চিঠি দেবেন, আমি উত্তর দেব।'
এদিন অধিবেশনের শুরুতেই ‘বন্দে মাতরম’ গান এবং মুখ্যমন্ত্রীর এই গুচ্ছ ঘোষণা স্পষ্ট করে দিল যে, নব্য বিজেপি সরকার রাজ্যের সংসদীয় কাঠামো ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতিতেও আমূল পরিবর্তন আনতে বদ্ধপরিকর।
E-Paper

