CM Suvendu Adhikari: 'আইন ভেঙে...,' মাঝরাস্তায় হঠাৎ ব্রেক কষল মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়, DC-কে বিশেষ বার্তা শুভেন্দুর
CM Suvendu Adhikari: মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ছিল নতুন সরকারের ঠিক নবম দিন। আর এই ক'দিনেই বিগত জমানার পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতি আমজনতার মনে যে পুঞ্জীভূত হতাশার পাহাড় জমেছিল, তা এক ঝটকায় ভেঙে চুরমার করে দিতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
CM Suvendu Adhikari: ঘড়িতে তখন সাড়ে ৬টা বাজবে বাজবে করছে। গোধূলির আলো মেখে রেড রোড হয়ে ময়দানের পিডব্লিউডি টেন্টের দিকে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় মসৃণ গতিতেই এগিয়ে যাচ্ছিল। হাজার হোক রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের কনভয়, তাই সিগন্যাল সবুজ না থাকলেও প্রোটোকল মেনে তড়িঘড়ি গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার তোড়জোড় করছিলেন রেড রোডের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কর্তব্যরত কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার। কিন্তু হঠাৎ ব্রেক কষল মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি। আর পাঁচজনের চেয়ে নিজেকে প্রথম থেকেই ‘স্বচ্ছ’ ও ‘ব্যতিক্রমী’ প্রমাণের যে চেষ্টা শুভেন্দু অধিকারী করে চলেছেন, এ দিনও তার অন্যথা হল না।

সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছ'টা নাগাদ রেড রোড হয়ে পিডব্লিউডি-র ময়দান টেন্টের দিকে যাচ্ছিল মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়। সেখানে একটি বৈঠক ছিল তাঁর। তবে ওই এলাকার ট্র্যাফিক সিগন্যাল সবুজ ছিল না। কিন্তু, প্রোটোকল মানতে গিয়ে তড়িঘড়ি মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়কে বেরিয়ে যাওয়ার বন্দোবস্ত করেছিলেন কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা। ঘটনাস্থলে হাজির ছিলেন ডেপুটি কমিশনার পদ মর্যাদার অফিসারও। কনভয় ও ভাবে ছেড়ে দেওয়ার পদ্ধতি দেখে রাস্তাতেই দাঁড়িয়ে পড়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গাড়ি। এরপরই ওই ডিসি-কে ডেকে পাঠান মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশের ওই পদস্থ আধিকারিককে সামনে পেয়ে অত্যন্ত শান্ত অথচ দৃঢ় গলায় তিনি বলেন, ‘আপনি এরপর থেকে আমি যখনই এই রাস্তা দিয়ে যাব, ট্রাফিক আইন ভাঙবেন না। এটা একদম ঠিক নয়। আমি সেরকম মুখ্যমন্ত্রী নই। দরকার পড়লে প্রোটোকল মেনে আমাকে ঘুরিয়ে অন্য রাস্তা দিয়ে নিয়ে ঢোকাবেন। কিন্তু আইন ভেঙে ট্রাফিক সিগন্যাল উড়িয়ে আমাকে পার করাবেন না।’
পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশ শুধু রেড রোডের ক্ষেত্রেই নয়, সারা শহরজুড়েই মানা হচ্ছে। এই ব্যাপারে প্রত্যেকটি থানা ও ট্র্যাফিক গার্ডকে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ছিল নতুন সরকারের ঠিক নবম দিন। আর এই ক'দিনেই বিগত জমানার পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতি আমজনতার মনে যে পুঞ্জীভূত হতাশার পাহাড় জমেছিল, তা এক ঝটকায় ভেঙে চুরমার করে দিতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নের মসনদে বসার পর থেকেই তিনি পুরোদস্তুর ‘অ্যাকশন মোডে’ রয়েছেন। বলে রাখা প্রয়োজন, রাজ্যে ক্ষমতার মসনদে বসার পর থেকেই একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পুলিশ প্রশাসনের খোলনলচে বদলে ফেলতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। তা যে স্রেফ মুখের কথায় নয়, একের পর এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে গত এক সপ্তাহে আমলাতন্ত্র এবং পুলিশ মহলের চেনা ছক বদলে দেওয়াই তার প্রমাণ।
খোদ পুলিশের গাড়িগুলির ‘ফিটনেস’ নিয়েও ক'দিন আগে উষ্মা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশকে তখনও মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে, সাধারণ মানুষকে আইন শেখানোর আগে পুলিশকে নিজেদের শোধরানোর দরকার। মঙ্গলবার আবারও তিনি শুধরে দিলেন, চেনা ঢঙে, দক্ষ প্রশাসকের মতো করেই। তাঁর এহেন নির্দেশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ নাগরিক সমাজ। অনেকেই বলছেন, মুখ্যমন্ত্রী হলে এমনই হওয়া উচিত।
E-Paper

