CM Suvendu Adhikari: 'দফতরে বসে কাজ করুন!' মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা ও শারদ্বতকে বিশেষ ‘পরামর্শ’ মুখ্যমন্ত্রীর
CM Suvendu Adhikari: এদিনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে কাজের গতি বাড়ানোর জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্র অনুযায়ী, দফতর ধরে ধরে নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত সমস্যার দ্রুত সমাধান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
CM Suvendu Adhikari: বুধবার নবান্নে রাজ্য মন্ত্রিসভার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দুই মন্ত্রীকে বড়সড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, রাস্তায় নেমে অতিরিক্ত সক্রিয়তা না দেখিয়ে দুই মন্ত্রীকে নিজ নিজ দফতরে বসে কাজে মন দেওয়ার স্পষ্ট ‘পরামর্শ’ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সূত্রের খবর, ওই দুই মন্ত্রী হলেন অগ্নিমিত্রা পাল এবং শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। বুধবার নবান্নে সব মন্ত্রীদের নিয়ে ক্যাবিনেট বৈঠক হচ্ছিল। সেই সময় শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ও অগ্নিমিত্রাপালের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তখনই তাঁদের রাস্তায় নেমে অতিসক্রিয়তা দেখানোর পরিবর্তে দফতরে বসে কাজে মনোনিবেশ করতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শহরকে আরও স্বচ্ছ ও পরিষ্কার রাখতে প্রতিদিনই ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। কখনও বেআইনি পার্কিং দেখলে বকাঝকা করেন, কখনও আবার রাস্তাকে আরও সুন্দর করে তোলা যায় সেই পরামর্শ দেন। এই নিয়ে যেমন তিনি প্রশংসা কুড়িয়েছেন তেমনই আবার কয়েকটি ক্ষেত্রে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। ফুটপাথে এক মহিলা সন্তানের দুধ গরম করছিলেন, তাঁকে ধমকানোর অভিযোগ ওঠে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। পরে যদিও অগ্নিমিত্রা পাল জানান, এভাবে রাস্তায় আগুন জ্বাললে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়ে। গোটা বিষয় পরে মুখ্যমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
আবার দোকানের সামনে সাইকেল দাঁড় করানো কিংবা রাস্তা দিয়ে না হাঁটার পরামর্শ দিতেও দেখা গিয়েছিল অগ্নিমিত্রা পালকে। মন্ত্রী যদিও বলেছিলেন, ফুটপাথ ব্যবহার করে হাঁটলে দুর্ঘটনা কম ঘটবে। তবে এই সব কিছু ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। আবার রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীকে ফুটপাথবাসীদের রাখি পরাতে, উপহার বিলোতেও দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি, স্বাস্থ্য মন্ত্রীও কলকাতা হোক কিংবা জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে ঘুরে সবটা পরিদর্শন করেন। নানা পরামর্শ দেন। ঘটনাচক্রে, বুধবারই বিধাননগরের বিজেপি বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে তাঁর ‘বিধায়ক দরবারে’ আচমকাই পড়শি রাজারহাট-নিউটাউন কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়ার সঙ্গে জনসমক্ষে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। তার পরেই নবান্নের বৈঠকে অগ্নিমিত্রা পালের পাশাপাশি তাঁকেও দফতরের কাজে ‘ফোকাসড’ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এদিনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে কাজের গতি বাড়ানোর জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্র অনুযায়ী, দফতর ধরে ধরে নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত সমস্যার দ্রুত সমাধান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি দফতরে গড়ে প্রায় দশ হাজার কর্মী নিয়োগ করে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত পরিসেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কলকাতা পুলিশে ২,০০০ এবং রাজ্য পুলিশে ৬,০০০ কর্মী নিয়োগের বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন থাকলেও, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন। পাশাপাশি, মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা— সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনামাফিক বাজেটের বরাদ্দের সঠিক সদ্ব্যবহার করতে হবে। তা না হলে আগামী দিনে বাজেটে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে বড়সড় সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন।
E-Paper

