'লজ্জা রাখার জায়গা...,' ধর্নামঞ্চ থেকে BJP-কমিশনকে 'নির্লজ্জ' তোপ মুখ্যমন্ত্রীর, পাশে সুমন-জয়
এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নামঞ্চে হাজির হন রাজ্যের প্রাক্তন ডিজি এবং তৃণমূলের রাজ্যসভার মনোনীত প্রার্থী রাজীব কুমার, আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী।
'লজ্জা রাখার জায়গা নেই।' এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ৬০ লক্ষ নাম 'বিচারাধীন' রয়েছে। এই আবহে বিজেপি যখন পরিবর্তন যাত্রা বার করেছে, ঠিক তখন বৈধ ভোটারদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে শুক্রবার থেকে কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে ধর্নায় বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলাগুলি থেকে তৃণমূল বিধায়কেরা লোকজন নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন মঞ্চে। শুধু তাই নয়, ধর্নামঞ্চে হাজির হন কবীর সুমন, কবি জয় গোস্বামী, রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের প্রেসিডেন্ট।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্না মঞ্চে উপস্থিত হয়েই নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে একহাত নেন। তিনি বলেন, 'প্রচুর মানুষ আসবেন। যে ২২ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু তাঁরা জীবিত, তাঁদের আমি মঞ্চে হাজির করব। এসআইআরের জন্য মারা গিয়েছেন এমন আট পরিবার, যারা দিল্লি গিয়েছিল, তারাও এখানে বসবে। কিন্তু যারা বসে আছে, অথচ মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে... লজ্জা রাখার জায়গা নেই। নির্লজ্জ বিজেপি পার্টি এবং তাদের দালাল নির্বাচন কমিশন।' এরপরেই এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে খোঁজ রাখি। তাঁদের আমরা প্যারেড করাব। দেখুন, এঁরা মৃত এসআইআর প্রক্রিয়ায়। কিন্তু তাঁরা ভাল ভাবে বেঁচে। আমরা তাঁদের দীর্ঘায়ু কামনা করি।' এরমধ্যেই মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গান গাওয়ার নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নামঞ্চে হাজির হন রাজ্যের প্রাক্তন ডিজি এবং তৃণমূলের রাজ্যসভার মনোনীত প্রার্থী রাজীব কুমার, আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। সকলের মধ্যে থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ধর্মতলায় ধর্না চলবে। এমন অনেক ভোটার রয়েছেন, যাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু তাঁরা বেঁছে আছেন। তাঁদের আগামিদিনে হাজির করবেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, 'আমি যেখানে থাকি, সেখানে একজন থাকেন, তিনি বেঁচে আছেন। তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁকে আগামিকাল নিয়ে আসব।' তিনি জানান, প্রথমে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য রাখবেন। তারপর কবীর সুমন গান গাইবেন। এরপর সুমন এবং কবি জয় গোস্বামীকে উদ্দেশ্য করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ওঁরা কষ্ট করে এসেছেন... কবীর সুমন, জয়দা যে এত কষ্ট করে এসেছেন, আমার ওঁদের দেখে নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর আন্দোলনের কথা মনে পড়ছে। তখনও ওঁরা ছিলেন।’ তিনি বলেন, রাজনীতির ময়দান ছাড়াও নানা ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা হাজির হয়েছেন মঞ্চে।
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নামঞ্চে উপস্থিত হয়েছিলেন রামকৃষ্ণ মিশনের এক প্রেসিডেন্ট। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর কাছে প্রয়োজনীয় কাগজ থাকা সত্ত্বেও তাঁর নাম ওঠেনি ভোটার তালিকায়। তিনি আরও জানিয়েছেন, ১৪ বছর তিনি মিনাখা রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম ও মঠের দায়িত্বে রয়েছে। এ জাতীয় আরও অনেক মানুষ উপস্থিত রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর ধর্নামঞ্চে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নামঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন সদ্যোই দলবদলু প্রতীক উর রহমান।
E-Paper











