Garhbeta Suvendu Adhikari: 'চুলের মুঠি ধরে জেলে...,' গড়বেতার মঞ্চ থেকে সিপিএম ও তৃণমূলকে একযোগে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর

Garhbeta Suvendu Adhikari: গড়বেতার মানুষকে অভিনন্দন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখানকার মানুষ দ্বিতীয় স্বাধীনতার আনন্দ উপভোগ করছেন এবং ‘চোর তৃণমূলকে’ মানুষ শূন্য করে দিয়েছে। তৃণমূল প্রচুর অত্যাচার করেছে এবং কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলে হুঙ্কার দেন তিনি।

Published on: Oct 31, 2026, 21:00:50 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Garhbeta Suvendu Adhikari: একদা বামেদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতায় দাঁড়িয়ে সরাসরি সিপিএম নেতৃত্বকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের (Md Selim) নাম করে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বাম আমলের সমস্ত পুরনো ফাইল এবং অন্ধকার অধ্যায়ের মামলাগুলি পুনরায় খোলা হবে। একই সঙ্গে তৃণমূল ও সিপিএম একে অপরের পরিপূরক হয়ে বাংলায় ফের সেই পুরনো জমানার নৈরাজ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে বলেও তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (PTI)
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (PTI)

শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতায় বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ সভায় উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শাসক তৃণমূলের একের পর ‘রাজনৈতিক আক্রমণের’ তথ্য তিনি তুলে ধরেন বক্তৃতায়। টেনে আনেন ২০২৪ সালে মে মাসে ঝাড়গ্রামের বিজেপি প্রার্থী প্রণত টুডুকে ‘মারধরের’ প্রসঙ্গও। ঝাড়গ্রামে ভোটগ্রহণের দিন তৃণমূলের হামলার শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছিলেন প্রণত। তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরাও জখম হয়েছিলেন বলে অভিযোগ। গড়বেতা হাসপাতালে চিকিৎসার পর পুলিশ এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন বিজেপির চিকিৎসক-প্রার্থী। শনিবার তার এফআইআর কপি চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের দিন প্রণত টুডুর মাথা ফাটিয়েছিল মনে আছে।’ সভায় উপস্থিত প্রণতের দিকে ঘুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওই দিনের এফআইআর কপিটা দেবেন আমাকে। ওই ঘটনায় কতগুলো গ্রেফতার হয়েছে দেখব। যারা গ্রেফতার হয়নি, তাদের প্রত্যেককে চুলের মুঠি ধরে জেলে ঢোকাব। কেশপুরেও একই ভাবে অত্যাচার করেছে।’

একই সঙ্গে গড়বেতার মানুষকে অভিনন্দন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখানকার মানুষ দ্বিতীয় স্বাধীনতার আনন্দ উপভোগ করছেন এবং ‘চোর তৃণমূলকে’ মানুষ শূন্য করে দিয়েছে। তৃণমূল প্রচুর অত্যাচার করেছে এবং কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলে হুঙ্কার দেন তিনি। বিধানসভা ভোটের আগে চন্দ্রকোনায় তাঁর কনভয়ে হামলার কথাও তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘পুরুলিয়া থেকে ফেরার পথে চন্দ্রকোনায় আমি আক্রান্ত হয়েছিলাম। সারারাত থানায় বসেছিলাম। সেদিন অনেকেই আক্রান্ত হয়েছিলেন। আমি সব মনে রেখেছি।’ এরপরেই জনসভা থেকে মহম্মদ সেলিমকে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'আপনার এত বড় সাহস যে আপনি বলছেন, বিজেপি নাকি সিপিএমকে আক্রমণ করতে গিয়েছিল আর জনগণ তার প্রতিরোধ করেছে! আমি প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করে বলে গেলাম, ছোট আঙারিয়া থেকে শুরু করে ২০০৭-এর নন্দীগ্রাম এবং গড়বেতার যে সমস্ত সিপিএম পার্টি অফিস থেকে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নন্দীগ্রামে রক্তাক্ত সূর্যোদয় ঘটাতে গিয়েছিল, সেই সমস্ত পুরনো মামলার ফাইল আমি রি-ওপেন করব। একজনকেও ছাড়া হবে না।'

অতীতে নিজের রাজনৈতিক লড়াইয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, 'আমি এর আগেও ওদের কঠোর ভাষায় জবাব দিয়েছি। এক সময় তপন শুকুর বলেছিল, শুভেন্দু অধিকারী এই এলাকায় ঢুকলে পা ভেঙে দেব। আমি তার ঠিক তিন দিনের মাথায় চন্দ্রকোনা রোডে এসে সুশান্ত ঘোষের বুকের ওপর দাঁড়িয়ে প্রকাশ্য সভা করে গিয়েছিলাম। আজ বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে এটাই স্পষ্ট যে, যাহাই তৃণমূল, তাহাই সিপিএম। দুই দল মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে এবং বাংলায় আবার সেই পুরানো দিনের জঙ্গলরাজ ও নৈরাজ্য ফিরিয়ে আনতে চাইছে।' এদিন পুলিশের কাজ নিয়েও সাবধান করেছেন পুলিশমন্ত্রী। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে জানিয়েছেন, পুলিশ রাস্তায় হাত পেতে টাকা চাইলে, গরুপাচার হচ্ছে কিনা, এ সব লক্ষ্য রাখতে হবে সকলকে। বালি পাচার বন্ধ হয়ে কিনা জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেছেন, আগামী বাজেটে গড়বেতাকে মহকুমার ‘স্বীকৃতি’ দেওয়া হবে।