CM Suvendu Adhikari: নিশানায় বামেরা! দুর্গাপুজোর স্টলে ‘শারদোৎসব’ লিখলেই কড়া ব্যবস্থা, হুংকার মুখ্যমন্ত্রীর
CM Suvendu Adhikari: মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দুর্গাপুজোয় (Durga Puja) ‘পুজো’ শব্দটি বাদ দিয়ে তথাকথিত বামপন্থীরা যদি স্টলে কেবল ‘শারদোৎসব’ লেখেন, তবে সেই স্টল বাতিল করার জন্য পুজো উদ্যোক্তাদের নির্দেশ দেওয়া হবে।
CM Suvendu Adhikari: গেরুয়া সম্মান মিছিলের পর বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনেও বৃহস্পতিবার বামেদের কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। তিনি জানান, তাঁর সরকার প্রতিটি ধর্মের নিজস্ব আস্থায় বিশ্বাসী। মুসলিম, বৌদ্ধ প্রতিনিধি বিশাল লামা কিংবা আদিবাসী প্রতিনিধি—প্রতিটি ধর্মের মানুষ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজেদের ধর্মপালন করছেন এবং তাতে কেউ বাধা দিচ্ছে না। কিন্তু এর মাঝেই একদল তথাকথিত বামপন্থী অধ্যাপক (Leftist Professors) ছদ্মবেশে বেছে বেছে হিন্দু ও সনাতন ধর্মবিশ্বাসের ওপর আঘাত হানছেন বলে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে পুজোর মরশুমে বামেদের ঐতিহ্যবাহী মার্কসীয় সাহিত্যের বইয়ের স্টল এবং তাদের উৎসব উদযাপনের ভাষা নিয়ে এবার একগুচ্ছ নতুন নির্দেশিকাও দিলেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ৩৪ বছরের বাম শাসনে দুর্গাপুজোকে সার্বজনীন উৎসবের রূপ দিতে চেয়েছিল তৎকালীন সরকার। শারদোৎসব নাম দিয়ে বইয়ের স্টলের মাধ্যমে জনসংযোগ ও আদর্শ প্রচারই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। পালাবদলের পর থেকেই এই সংস্কৃতি নিয়ে শাসক শিবিরের অস্বস্তি ও আপত্তি দানা বাঁধতে শুরু করে। আগেই দিলীপ ঘোষ-সহ একাধিক মন্ত্রী ‘শারদোৎসব’ লেখা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। আর এবার বিধানসভার মঞ্চ থেকে সেই বিষয়েই চূড়ান্ত বার্তা দিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দুর্গাপুজোয় (Durga Puja) ‘পুজো’ শব্দটি বাদ দিয়ে তথাকথিত বামপন্থীরা যদি স্টলে কেবল ‘শারদোৎসব’ লেখেন, তবে সেই স্টল বাতিল করার জন্য পুজো উদ্যোক্তাদের নির্দেশ দেওয়া হবে। তাঁর স্পষ্ট কথা, সনাতন ধর্মকে কালচারাল বা নিছক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে দেখা চলবে না। দুর্গাপুজোকে ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবেই স্বীকৃতি দিতে হবে। পার্ক সার্কাস সহ হাতে গোনা কয়েকটি জায়গায় বামেরা যে লাল শালুতে মোড়া বইয়ের স্টল দেয়, সেই অনুমতি পেতেও এবার সনাতন সংস্কৃতি ও ‘দুর্গাপুজো’ নাম মানতে হবে।
এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে পুজো কমিটিগুলিকে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'একশ্রেণির অধ্যাপক তথাকথিত বামপন্থীদের জামা গায়ে দিয়ে সনাতনীদের আক্রমণ করছেন। বেছে বেছে গেরুয়াকে টার্গেট করতেন। সমস্ত দুর্গাপূজো কমিটির কাছে আবেদন করব কমিউনিস্টরা যে বুকস্টল করেন, সেখানে ‘দুর্গাপুজো’ না লিখে ‘শারদোৎসব’ লিখলে স্টল করতে দেবেন না।' অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী সাফ বার্তা, পুজোয় বইয়ের স্টল দিতে হলে, মানতে হবে দুর্গাপুজো শুধু উৎসব নয়। বরং হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান।
এমনিতে তথাকথিত বামপন্থীরা ধর্ম মানেন না। সরাসরি দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত থাকে না লালপার্টি। কিন্তু পুজোর ভিড়ে জনসংযোগের সুযোগও ছাড়ে না বামেরা। বাম জমানার ৩৪ বছরে পুরো মণ্ডপের সামনে বইয়ের স্টল দেওয়ার সংস্কৃতির বিস্তর চাষবাস হয়েছিল। লাল শালুতে মোড়া মার্কসবাদী সাহিত্যের স্টল পুজোর ভিড়ে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ত। পুজো যত বড় হত, সিপিএমের স্টলও তত বড় হত। সরাসরি পুজো মণ্ডপের ভিতরে গিয়ে বসার ক্ষেত্রে লোকাল কমিটির নেতাদের কুণ্ঠা থাকত। পার্টির নিষেধাজ্ঞাও ছিল। বইয়ের স্টলই ছিল ভরসা। কিন্তু ২০১১-এর পর ছবিটা বদলেছে। অধিকাংশ মণ্ডপের বাইরে আর সেই লাল শালুতে মোড়া চিরাচরিত সিপিএমের বইয়ের স্টল খুঁজে পাওয়া যায় না। অল্প কয়েকটি বাছাই করা জায়গায় এখনও স্টল দেওয়া হয়। ১৯৫৪ সালে পার্ক সার্কাসে মুজফ্ফর আহমেদের উদ্যোগে প্রথম পুজোয় বইয়ের স্টল দেওয়া হয়েছিল। পার্ক সার্কাসে স্টল দেওয়ার ঐতিহ্য এখনও সিপিএম নেতারা ধরে রেখেছেন। এখনও ওই স্টলগুলিতে বিভিন্ন মার্কসীয় সাহিত্য পত্রিকা, বই বিক্রি করা হয়। উদ্দেশ্য, সাহিত্যের আড়ালে নিজেদের আদর্শ প্রচার। মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট করে দিলেন, বই বিক্রিতে আপত্তি নেই। কিন্তু আগে মানতে হবে ধর্মীয় উৎসবেই বই বিক্রি হচ্ছে।
E-Paper

