Abhishek Banerjee: তৃণমূল বিধায়কদের সই বা স্বাক্ষরে বড়সড় জালিয়াতি ও গরমিল ধরা পড়ার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়। দলেরই দুই বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা এই নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতেই বিধানসভার সচিবালয় থেকে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়।
তৃণমূল বিধায়কদের সই বা স্বাক্ষরে বড়সড় জালিয়াতি ও গরমিল ধরা পড়ার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়। দলেরই দুই বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা এই নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতেই বিধানসভার সচিবালয় থেকে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। সেই এফআইআর-এর সূত্র ধরেই কোমর বেঁধে তদন্তে নামে সিআইডি। একে একে শাসকদলের একাধিক বিধায়ককে নোটিস পাঠানোর পর, গত ৩০ মে নোটিস পাঠিয়ে সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১ জুন ভবানী ভবনে তলব করেছিলেন গোয়েন্দারা। তবে সোনারপুরে আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সিআইডির কাছে ১৫ দিন সময় চান। তদন্তকারী সংস্থা ১৫ দিনের আবেদন নাকচ করে মাত্র ৭ দিন সময় বাড়িয়ে ৮ জুন (আজ) হাজিরার নির্দেশ দিয়ে ১ জুন সন্ধ্যায় দ্বিতীয় নোটিস পাঠিয়েছিল। আর সেই হাজিরা এড়ানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোমবার বিকেলে কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে হাজির হন সিআইডি আধিকারিকরা।
সিআইডি সূত্রে খবর, বিধায়কদের সই জালিয়াতির এই মামলার তদন্তে অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি। আধিকারিকরা এদিন ফের তাঁকে আগামী মঙ্গলবার, অর্থাৎ আগামীকাল হাজিরা দেওয়ার জন্য তলব করেছেন। এদিকে, সিআইডি যাতে এই সই-কাণ্ডে তাঁকে গ্রেফতার বা কোনওরকম কড়া পদক্ষেপ না করতে পারে, সেই মর্মে আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে গত বুধবারই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আইনজীবীরা আদালতের কাছে জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত শুনানির আর্জি জানান। কিন্তু বিচারপতি চৈতালী চট্টোপাধ্যায় দাস সেই আর্জি খারিজ করে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনও তাড়াহুড়ো নয়, আগামী ১০ জুন (বুধবার) এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। অর্থাৎ, আদালত থেকেও এখনও কোনও রক্ষাকবচ পাননি অভিষেক। এই পরিস্থিতিতে একদিকে উচ্চ আদালতের শুনানি, অন্যদিকে খোদ বাড়ির দরজায় সিআইডি-র হানা, সব মিলিয়ে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের অস্বস্তি যে সোমবার এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য। পাশাপাশি, দিল্লিতে থাকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শেষপর্যন্ত আগামীকালের তলব মেনে হাজিরা দেন কিনা, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।