Mental health of kids: বাধ্যতামূলক ‘ডিজিটাল ডিটক্স’: স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণে CISCE-র একগুচ্ছ পরামর্শ

Mental health of kids: ভিডিও দেখা, গেম খেলা, বন্ধুদের সঙ্গে চ্যাট করা বা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করা- সব মিলিয়ে ডিজিটাল ডিভাইস এখন পড়ুয়াদের দৈনন্দিন জীবনের বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

Published on: Jun 17, 2026, 19:34:09 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Mental health of kids: বর্তমানে অধিকাংশ মা-বাবাই চিন্তিত কারণ শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্ক্রিনে কাটানো সময়ের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। ভিডিও দেখা, গেম খেলা, বন্ধুদের সঙ্গে চ্যাট করা বা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করা- সব মিলিয়ে ডিজিটাল ডিভাইস এখন পড়ুয়াদের দৈনন্দিন জীবনের বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতা সুনিশ্চিত করতে মোবাইল-ল্যাপটপের ‘স্ক্রিন টাইম’ বা স্ক্রিনের সামনে কাটানো সময় নিয়ন্ত্রণের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে ‘কাউন্সিল ফর দ্য ইন্ডিয়ান স্কুল সার্টিফিকেট এক্সামিনেশনস’ (সিআইএসসিই)।বোর্ডের পক্ষ থেকে সদ্য প্রকাশিত একটি নতুন স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক হ্যান্ডবুকে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণে CISCE-র একগুচ্ছ পরামর্শ
স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণে CISCE-র একগুচ্ছ পরামর্শ

জানা গেছে, এই হ্যান্ডবুকে দৈনিক একটি 'ডিজিটাল ডিটক্স আওয়ার'-এর সুপারিশ করা হয়েছে। এটি মূলত প্রতিদিনের মধ্যে এমন ৬০ মিনিট সময়, যখন পড়ুয়ারা তাদের সমস্ত ডিজিটাল ডিভাইস সরিয়ে রেখে সম্পূর্ণ 'স্ক্রিন-মুক্ত' থাকবে। হ্যান্ডবুকটিতে বলা হয়েছে, 'এই সময়কে বই পড়া, ছবি আঁকা, পরিবারের সঙ্গে কথা বলা কিংবা প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানোর জন্য ব্যবহার করুন।' এর পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই অভ্যাসটি চোখ, মন এবং আবেগকে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিশ্রাম দিতে পারে। ২০২০ ও ২০২১ সালের কোভিড-১৯ অতিমারির সময় পড়ুয়াদের মধ্যে স্ক্রিন টাইম মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল; কারণ সে সময় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোই ছিল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রধান মাধ্যম। তবে অতিমারি-পরবর্তী সময়ে স্ক্রিনের ওপর এই অতিরিক্ত-নির্ভরশীলতা কমানো একটি মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বারবারই অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য এবং সার্বিক সুস্থতার অবনতির গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন।

অধিভুক্ত বা অনুমোদিত স্কুলগুলোতে পড়ুয়াদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে এই হ্যান্ডবুকটি প্রস্তুত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার বিষয়ে পড়ুয়া, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের সচেতন করার জন্য স্কুলের প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা বা আত্মহত্যার চিন্তায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের সহায়তা করার জন্য একটি ২৪x৭ টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম কীভাবে অল্প বয়সীদের মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে, তা তুলে ধরে হ্যান্ডবুকটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে-সোশ্যাল মিডিয়ায় একে অপরের সঙ্গে তুলনা, বন্ধুত্ব-সংক্রান্ত সমস্যা, বুলিং বা হেনস্থা, বডি-শেমিং কিংবা অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে মানসিক স্বাস্থ্যে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এর ফলে একাকীত্ব, উদ্বেগ, বিষাদ, আত্মবিশ্বাসের অভাব, অনিদ্রা বা ঘুমের ব্যাঘাত, মনোযোগের ঘাটতি এবং পারিবারিক বা সামাজিক সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে; যা পরবর্তীতে গভীর উদ্বেগ বা অবসাদের মতো আরও গুরুতর সমস্যার দিকে মোড় নিতে পারে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি স্কুল পড়ুয়াদের এই স্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাসের ওপর কড়া নজরদারি শুরু করেছে। একই সঙ্গে তারা পড়ুয়াদের বিভিন্ন অফলাইন বা মাঠ কার্যকলাপে অংশ নিতে এবং পরিবারের সাথে আরও বেশি সময় কাটাতে উৎসাহিত করছে।

‘দ্য হেরিটেজ স্কুল’-এর প্রিন্সিপাল সীমা সাপ্রু জানান, 'আমাদের কাউন্সেলররা শিশুদের জন্য ‘লাইফ স্কিল’ ক্লাস নিয়ে থাকেন। সপ্তাহে একবার এই ডবল-পিরিয়ডের ক্লাসটি নেওয়া হয়, যেখানে পড়ুয়ারা কীভাবে তাদের সময়কে আরও ভালো ও গঠনমূলক কাজে লাগাতে পারে, সেই বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়। আমরা তাদের শেখাই যে, কেবল সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা বা রিলস দেখার পরিবর্তে কীভাবে ইন্টারনেটকে অর্থপূর্ণ ও উদ্দেশ্যমূলক কাজে ব্যবহার করা যায়। আমরা প্রতি দুই থেকে তিন দিন অন্তর তাদের এমন কিছু প্রজেক্টের কাজ দিই, যা তাদের স্কুলেই শেষ করতে হয়। আমরা সবসময় তাদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস করতে এবং পরিবারের সঙ্গে, বিশেষ করে বাবা-মা ও ঠাকুরদা-ঠাকুরমা বা দাদু-দিদিমার সঙ্গে সময় কাটাতে উৎসাহিত করি। এর পাশাপাশি আমরা অভিভাবকদেরও সময়ে সময়ে মনে করিয়ে দিই, যাতে একটি নির্দিষ্ট বয়সের আগে তাঁরা সন্তানদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য মোবাইল ফোন না দেন।' অন্যদিকে, ‘ন্যাশনাল ইংলিশ স্কুল’-এর প্রিন্সিপাল মৌসুমী সাহা বলেন, 'সিআইএসসিই-র ‘স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা’ উদ্যোগের সঙ্গে সংগতি রেখে, মোবাইল আসক্তি দূর করতে এবং পড়ুয়াদের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে আমরা নীতিশিক্ষা ক্লাসে বোর্ডের দায়িত্বশীল ডিজিটাল অভ্যাসের মডিউলটি চালু করেছি। বাড়িতেও যাতে সুস্থ ডিজিটাল পারিপার্শ্বিকতা বা গণ্ডি বজায় থাকে, তা নিশ্চিত করতে এই মডিউলটি স্কুলের অভিভাবকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলোতেও শেয়ার করা হয়েছে।'

স্কুল কাউন্সেলর শোভনা মুখার্জি জানান, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম পড়ুয়াদের মনোযোগ, ঘুমের ধরণ, মানসিক সুস্থতা এবং শিক্ষাগত পারফরম্যান্সের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, 'এটি শারীরিক সক্রিয়তা এবং অর্থপূর্ণ সামাজিক যোগাযোগকে সীমিত করে দেয়, যা সুস্থ বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। সার্বিক বৃদ্ধি এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ডিজিটাল ডিভাইসগুলোর দায়িত্বশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবহার প্রচার করা এখন সময়ের দাবি।' উল্লেখ্য, বিশ্বের বহু দেশ ইতিমধ্যেই শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। বেশ কয়েকটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অ্যাক্সেস ব্লক করে, ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যান করা বিশ্বের প্রথম দেশ হয়ে উঠেছে অস্ট্রেলিয়া। চিন ইতিমধ্যেই শিশুদের স্ক্রিন টাইমের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে এবং অ্যাপ-নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম চালু করেছে; অন্যদিকে ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস এবং ব্রিটেনও খুব শীঘ্রই এই ধরনের একই রকম পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।