CJP Protest in Bankura: বাঁকুড়ায় ফের আন্দোলনে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, বাবার নামে স্কুলের দাবিতে জেলাশাসকের দপ্তর ঘেরাও

সোশাল মিডিয়ায় এই কর্মসূচির কথা জানিয়েছেন শেখ আবদুল হাফিজ নিজেই। পিতৃহারা হাফিজ তাঁর বাবার নামে স্কুল তৈরির দাবি আদায়ে আন্দোলনে সাধারণ মানুষকে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, শেখ মাফিকের স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে বাস্তবে একটি স্কুল গড়ে তুলতে হবে।

Published on: Sep 7, 2026, 13:36:44 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

নিট-দুর্নীতির প্রতিবাদ থেকে শুরু করে একাধিক ইস্যুতে আন্দোলনের পর এবার বাঁকুড়ায় ফের পথে নামতে চলেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। মঙ্গলবার বাঁকুড়া জেলাশাসকের দপ্তর ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি। মূল দাবি একটাই—ইন্দাসের সিজেপি সমর্থক শেখ আবদুল হাফিজের প্রয়াত বাবা শেখ মাফিকের স্মৃতিতে একটি সরকারি স্কুল তৈরি করতে হবে। রাজ্য সরকার এই দাবি মেনে না নিলে জেলাশাসকের দপ্তর ঘেরাও করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

নিট-দুর্নীতির প্রতিবাদ থেকে শুরু করে একাধিক ইস্যুতে আন্দোলনের পর এবার বাঁকুড়ায় ফের পথে নামতে চলেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। (Hindustan Times)
নিট-দুর্নীতির প্রতিবাদ থেকে শুরু করে একাধিক ইস্যুতে আন্দোলনের পর এবার বাঁকুড়ায় ফের পথে নামতে চলেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। (Hindustan Times)

সোশাল মিডিয়ায় এই কর্মসূচির কথা জানিয়েছেন শেখ আবদুল হাফিজ নিজেই। পিতৃহারা হাফিজ তাঁর বাবার নামে স্কুল তৈরির দাবি আদায়ে আন্দোলনে সাধারণ মানুষকে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, শেখ মাফিকের স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে বাস্তবে একটি স্কুল গড়ে তুলতে হবে।

এই দাবির নেপথ্যে রয়েছে ইন্দাসের একটি ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা। গত অগস্টের গোড়ায় নিট দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে দিল্লিতে সিজেপির অবস্থান-বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন বাঁকুড়ার যুবক শেখ আবদুল হাফিজ। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সরব হন তিনি। সেই আন্দোলনে পুলিশের বাধা ও মারধরের মুখেও পড়তে হয়েছিল তাঁকে বলে দাবি সংগঠনের।

পরবর্তী সময়ে সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবিতেও সিজেপির কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন হাফিজ। নিজের এলাকা ইন্দাসে একটি স্কুল পরিদর্শন করেও বিভিন্ন বিষয়ে সরব হন তিনি। তাঁর পরিবার ও সিজেপির অভিযোগ, এই রাজনৈতিক সক্রিয়তাই স্থানীয় বিজেপি নেতাদের একাংশের বিরাগভাজন করে তোলে তাঁকে। এরপরই তাঁর পরিবারের উপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ।

পরিবারের দাবি, ছেলেকে রক্ষা করতে গিয়ে গুরুতরভাবে আক্রান্ত হন শেখ মাফিক এবং পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে অগস্টের মাঝামাঝি সময়ে ইন্দাসের সংশ্লিষ্ট গ্রামে উত্তেজনা ছড়ায়। হাফিজের পাশে দাঁড়াতে দিল্লি থেকে সিজেপির প্রতিনিধিরাও বাঁকুড়ায় পৌঁছন। তাঁদের মধ্যে আশুতোষ রাঙ্কাও ছিলেন বলে দাবি সংগঠনের।

এরপর থেকেই হাফিজ ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়াত শেখ মাফিকের নামে একটি উচ্চমানের সরকারি স্কুল তৈরির দাবি ওঠে। তাঁদের দাবি, স্কুলটি শুধু ইন্দাসেই নয়, রাজ্যের যে কোনও উপযুক্ত জায়গায় তৈরি করা যেতে পারে। মূল উদ্দেশ্য হবে শেখ মাফিকের স্মৃতিকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা এবং এলাকার পড়ুয়াদের জন্য উন্নত শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা।

এবার সেই দাবিকে সামনে রেখেই বড়সড় আন্দোলনের পথে হাঁটছে সিজেপি। মঙ্গলবার বাঁকুড়া জেলাশাসকের দপ্তর ঘেরাওয়ের কর্মসূচিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছে জেলা পুলিশ। প্রশাসনের আশঙ্কা, ঘেরাও কর্মসূচির আড়ালে অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

জেলার রাজনৈতিক মহলে অবশ্য এই কর্মসূচিকে অন্য চোখে দেখা হচ্ছে। অনেকের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম দৃশ্যমান থাকার পর ফের রাস্তায় নামার মাধ্যমে সাংগঠনিক সক্রিয়তা বাড়াতে চাইছে সিজেপি। বাবার নামে স্কুল তৈরির আবেগঘন দাবিকে সামনে রেখে তারা কতটা জনসমর্থন আদায় করতে পারে, সেটাই এখন দেখার।

অন্যদিকে, মঙ্গলবারের কর্মসূচিকে ঘিরে প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে কোনও সংঘাত তৈরি হয় কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে। সব মিলিয়ে শেখ মাফিকের নামে স্কুল তৈরির দাবিকে কেন্দ্র করে বাঁকুড়ায় ফের রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More