Cpim candidate Sabina Yasmin: ‘সেদিন সঙ্গে নিয়ে...,' তামান্নার স্মৃতি আঁকড়েই কালীগঞ্জে মরণপণ লড়াইয়ে মা সাবিনা

Cpim candidate Sabina Yasmin: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে সেই কালীগঞ্জ কেন্দ্রেই বামফ্রন্টের বাজি তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময় বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু তাঁকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন ‘শহিদকন্যার মাতা’ হিসেবে।

Published on: Apr 29, 2026, 15:19:10 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Cpim candidate Sabina Yasmin: ২০২৪ সালের ২৩ জুন দিনটি আজও ভোলেনি নদিয়ার কালীগঞ্জ। বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশের দিন যখন তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয় মিছিলের আবহে এলাকা উৎসবমুখর, তখনই এক মর্মান্তিক বোমাবাজিতে প্রাণ হারিয়েছিল ছোট্ট তামান্না খাতুন। সেই ঘটনার রেশ পৌঁছেছিল খোদ নবান্ন পর্যন্ত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে অভিযুক্তরা দ্রুত গ্রেফতার হলেও, এক মায়ের বুক যে চিরতরে খালি হয়ে গিয়েছিল, তা পূরণ হওয়ার নয়। আবার ভোট এসেছে, কিন্তু তামান্না নেই। ভোটের দিন মেয়েকে নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার দিনটা আজও দাগ কেটে আছে মা সাবিনা ইয়াসমিনের মনে। তামান্নাকে হাত ধরে নিয়ে গিয়ে ভোট দিতে গিয়েছিলেন তিনি। এবার তামান্না পাশে না থাকলেও ভোট তো দিতে যেতেই হবে, কিন্তু সেই দিনটা কিছুতেই ভুলতে পারছেন না তার মা তথা, কালিগঞ্জের সিপিএম প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন।

তামান্নার স্মৃতি আঁকড়েই কালীগঞ্জে লড়াইয়ে মা (সৌজন্যে টুইটার)
তামান্নার স্মৃতি আঁকড়েই কালীগঞ্জে লড়াইয়ে মা (সৌজন্যে টুইটার)

সেদিনের কথা বলে চলেছেন তামান্নার মা

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে সেই কালীগঞ্জ কেন্দ্রেই বামফ্রন্টের বাজি তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময় বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু তাঁকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন ‘শহিদকন্যার মাতা’ হিসেবে। আজ, দ্বিতীয় দফার ভোটের সকালে বুথে যাওয়ার সময় যেন বারবার অতীতে ফিরে যাচ্ছিলেন সাবিনা। ধরা গলায় তিনি বলেন, ‘সেদিন সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলাম। পুলিশকে বললাম, ওকে কোথায় রাখব। পুলিশ বলল, বাইরে রেখে যান।’ সেদিনের কথা ঝরঝর করে বলে চলেছেন সাবিনা। তিনি আরও বলেন, ‘ওই জায়গাটায় দাঁড়ালে এখনও মনে হয় তামান্না আছে। ওখানে কাউকে যেতে দিই না। ঘিরে রেখেছি।’ তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী আলিফা আহমেদের বিরুদ্ধে প্রচার করেছেন সাবিনা। রাস্তায়ও নেমেছেন। কিন্তু আজ ভোটের দিন মাঝে মাঝে ভুলে যাচ্ছেন যে তিনি প্রার্থী। শুধুই স্মৃতি আঁকড়ে থাকতে চাইছেন আজ।

অন্য এক সাবিনা ইয়াসমিন

মেয়েকে হারানোর পর সাবিনা ইয়াসমিনের কান্না দেখেছিল গোটা বাংলা। কিন্তু এবারের নির্বাচনী প্রচার পর্বে দেখা গিয়েছে এক অন্য সাবিনাকে। সেখানে চোখের জলের বদলে ঝরেছে লড়াইয়ের আগুন। প্রচারের ময়দানে তিনি ছিলেন ইস্পাত কঠিন। যে মেয়েকে কোলেপিঠে করে বড় করেছিলেন, তার বিচার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই যেন তাঁর রাজনৈতিক লড়াইয়ের জ্বালানি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোটের সকালে কালীগঞ্জের বিভিন্ন বুথে যখন রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে, সাবিনা তখন তামান্নার স্মৃতি আঁকড়ে ধরছেন। বাড়ির যে জায়গায় পড়েছিল তামান্নার দেহ সেই জায়গাটা ঘিরে রাখা হয়েছে। যেন এক স্মৃতিসৌধের মতো। শেষ বার্তায় সাবিনা বললেন, ‘তামান্নার সেই স্মৃতি নিয়ে বাঁচতে চাই।’ সাধারণ ভোটারদের একাংশ মনে করছেন, এই লড়াই কেবল ক্ষমতার নয়, বরং এক শোকার্ত মায়ের বিচার চাওয়ার লড়াইও বটে। প্রচারের ‘ঝোড়ো ব্যাটিং’ শেষে এখন দেখার, ব্যালট বক্সে কালীগঞ্জের মানুষ এই ‘শহিদকন্যার মা’-কে কতটা সমর্থন জোগায়।