'স্বামী নন, ঠাকুর!' শ্রীরামকৃষ্ণের জন্মতিথিতে প্রধানমন্ত্রীর কথার ভুল ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী, এল পালটা সমালোচনাও

প্রধানমন্ত্রী মোদীর এক্স পোস্টের বাকিটা মোটামুটি ঠিক থাকলেও, ‘স্বামী’ সম্বোধন নিয়ে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

Published on: Feb 19, 2026, 21:33:25 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

সংসদে দাঁড়িয়ে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তা নিয়ে তুমুল বিতর্কও হয়। এবার প্রধানমন্ত্রীর এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে ‘স্বামী’ বলে সম্বোধন করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঠাকুর রামকৃষ্ণের জন্মতিথিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে এই ভুল রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে। বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এটিকে বাঙালি মনীষীর অপমান হিসেবে দেখছে এবং প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপিকে নিশানা করেছে।

'স্বামী নন, ঠাকুর!' শ্রীরামকৃষ্ণের জন্মতিথিতে প্রধানমন্ত্রীর কথার ভুল ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী, এল পালটা সমালোচনাও (HT_PRINT)
'স্বামী নন, ঠাকুর!' শ্রীরামকৃষ্ণের জন্মতিথিতে প্রধানমন্ত্রীর কথার ভুল ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী, এল পালটা সমালোচনাও (HT_PRINT)

প্রধানমন্ত্রীর এক্স পোস্ট

বৃহস্পতিবার সকালে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মতিথি উপলক্ষ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। হিন্দিতে লেখা সেই পোস্টে তিনি রামকৃষ্ণদেবের নামের আগে ‘স্বামী’ উপসর্গটি ব্যবহার করেন। তিনি লেখেন, 'স্বামী রামকৃষ্ণ পরমহংসজির জন্মজয়ন্তীতে শ্রদ্ধাঞ্জলী। তিনি আধ্যাত্মিক ও সাধনাকে যেভাবে জীবনীশক্তিতে রূপান্তরিত করেছেন, সেটা বহু যুগ মানবতার কল্যাণে কাজে লাগবে। তাঁর আদর্শ এবং বার্তা আগামী দিনে আমাদের প্রেরণা দেবে।'

কী বলছেন মুখ্যমন্ত্রী?

প্রধানমন্ত্রী মোদীর এক্স পোস্টের বাকিটা মোটামুটি ঠিক থাকলেও, ‘স্বামী’ সম্বোধন নিয়ে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদীর রামকৃষ্ণপরমহংসদেবকে শ্রদ্ধা জানানো সেই পোস্টটি রিপোস্ট করেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘আমি আবারও স্তম্ভিত! বাংলার মণীষির প্রতি তাঁর চূড়ান্ত অসংবেদনশীলতার পরিচয় আবারও দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ যুগাবতার শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মতিথি। সেই উপলক্ষে মহান মণিষীকে সম্মান জানাতে গিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যুক্ত করেছেন 'স্বামী' শব্দটি। রামকৃষ্ণদেব সকলের কাছে ঠাকুর হিসেবে পূজিত হন। তাঁর প্রয়াণের পর তাঁর শিষ্যরা তৈরি করেছিলেন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন। সন্ন্যাসীদের স্বামী বলা হলেও আচার্য রামকৃষ্ণদেবকে ঠাকুর হিসেবেই সম্বোধন করা হয়। তাঁর নির্দেশেই শিষ্যদের নামের আগে স্বামী শব্দ ব্যবহার করা হয়।' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, 'তিন জনকে আমরা ঠাকুর-মা-স্বামীজি, এই পবিত্র নামেই ডাকি। ঠাকুর অর্থাৎ শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, মা অর্থাৎ মা সারদা এবং স্বামীজি হলেন স্বামী বিবেকানন্দ।' প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, 'আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি দয়া করে বাংলার নবজাগরণের মণিষীদের নামের আগে এবং পরে নিত্য নতুন শব্দ আমদানি করে বসাবেন না।'

অন্যদিকে, ফেসবুক পোস্টে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ লিখেছেন, 'প্রধানমন্ত্রী পোস্টে লিখেছেন স্বামী রামকৃষ্ণ পরমহংস। স্বামী শব্দটি এখানে ব্যবহারের নয়, বিজেপি জানে না। ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের শিষ্য ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। প্রধানমন্ত্রী আর বিজেপি বাংলা এবং বাংলার প্রণম্যদের সম্পর্কে জানে না। ধারাবাহিক ভুল চলছে, অবিলম্বে পোস্ট সংশোধন করুন প্রধানমন্ত্রী।'

বিজেপির প্রতিক্রিয়া

পাল্টা বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়েপাধ্যায়ের একটি ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করেন। ভিডিও-র ক্যাপশনে অমিত মালব্য লিখেছেন, 'আপনার অজ্ঞতায় আমরাও হতবাক! প্রধানমন্ত্রী শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব, যাঁকে তাঁর শিষ্যরা শ্রী রামকৃষ্ণ এবং 'ঠাকুর' নামেও ডাকতেন, তাঁকে স্বামী রামকৃষ্ণ পরমহংস জি বলে উল্লেখ করে তাঁর জন্মবার্ষিকীতে ভারতের সর্বজনীনভাবে সম্মানিত মহান দ্রষ্টা এবং সন্তকে শ্রদ্ধা জানান। ‘স্বামী’ উপসর্গের ব্যবহার রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসীদের দ্বারা ব্যবহৃত উপাধির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, যারা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ‘স্বামী’-এর বার্তা এবং শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আধ্যাত্মিকতার একটি বৃহত্তর রূপক এবং আধিভৌতিক ধারণা রয়েছে, যা ‘অদ্বৈত বেদান্ত’ নামে পরিচিত, যা ব্যক্তি এবং ঈশ্বরের অদ্বৈতবাদ, যা রামকৃষ্ণ মিশন দ্বারা অনুশীলন এবং প্রচারিত হয়। এটি শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসের অভিজ্ঞতামূলক, রহস্যময় এবং সর্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গির মূল গঠন করে। এই প্রসঙ্গে, 'স্বামী' সেই মহান গুরুকে বোঝায়, যার কথামৃত আজও ততটাই অপ্রতিরোধ্য, বিস্ময়কর এবং মনকে বিমোহিত করে, যতটা তিনি এই নশ্বর জগতে চলার সময় ছিলেন।'