CM on 21st July File: ২১ জুলাইয়ের আগেই খুলছে ১৯৯৩-এর গুলিকাণ্ডের ফাইল! তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশের ঘোষণা শুভেন্দুর
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকার ২১ জুলাইয়ের ঘটনার তদন্তের জন্য কমিশন গঠন করলেও সেই রিপোর্ট কোনওদিন প্রকাশ করেনি। তাই দীর্ঘদিন ধরে ফাইলবন্দি থাকা সেই রিপোর্ট এবার জনসমক্ষে আনা হবে। তাঁর কথায়, ‘বিকেলে ১০ মিনিট সময় নেব। ২১ জুলাই তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট পড়ে শোনাব।'
২১ জুলাই শহিদ দিবসের ঠিক আগের দিনই বড় রাজনৈতিক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সকালে বিধানসভায় এসে তিনি জানান, বিকেলে বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুর কাছে তিনি ১০ মিনিট সময় চেয়ে বলেন, তিনি নিজেই বিধানসভায় সেই রিপোর্ট পড়ে শোনাবেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকার ২১ জুলাইয়ের ঘটনার তদন্তের জন্য কমিশন গঠন করলেও সেই রিপোর্ট কোনওদিন প্রকাশ করেনি। তাই দীর্ঘদিন ধরে ফাইলবন্দি থাকা সেই রিপোর্ট এবার জনসমক্ষে আনা হবে। তাঁর কথায়, ‘বিকেলে ১০ মিনিট সময় নেব। ২১ জুলাই তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট পড়ে শোনাব। আগের সরকার কমিশন তৈরি করলেও তার রিপোর্ট প্রকাশ করেনি। আজ রিপোর্টে কী রয়েছে, তা জানানো হবে।’
১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত এবং বিতর্কিত একটি দিন। সেদিন সচিত্র পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি বাধ্যতামূলক করার দাবিতে তৎকালীন যুব কংগ্রেসের ডাকে মহাকরণ অভিযান অনুষ্ঠিত হয়। সেই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন যুব কংগ্রেস সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সেই সময় রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় ছিল। অভিযোগ, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তর নির্দেশে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। সেই ঘটনায় ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয় এবং বহু মানুষ আহত হন। এরপর থেকেই ২১ জুলাই দিনটি শহিদ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে তৃণমূল কংগ্রেস।
২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই ঘটনার তদন্তের জন্য বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করেন। কমিশন তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিলেও গত ১৫ বছরে সেই রিপোর্ট আর প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ওই রিপোর্টে কী রয়েছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছিল।
এদিকে, বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, যাঁর বিরুদ্ধে গুলিচালনার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, সেই মণীশ গুপ্তকেই পরে তৃণমূল সরকার বিধায়ক ও মন্ত্রী করেছিল। এই বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ২১ জুলাইয়ের শহিদদের পরিবারের পক্ষ থেকেও প্রকৃত সত্য প্রকাশের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানানো হয়েছে।
এবার সেই ফাইল খুলে তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশের সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ মঙ্গলবার ৩৩তম শহিদ দিবস পালন করবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এবার শুধু একটি নয়, শহরে তিনটি আলাদা রাজনৈতিক শিবির পৃথকভাবে শহিদ স্মরণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এমন পরিস্থিতিতে তার আগের দিন তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশের সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, রিপোর্টে যদি ১৯৯৩ সালের গুলিকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ বা সুপারিশ থাকে, তাহলে তা নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে সেই সময়কার প্রশাসনিক ভূমিকা, পুলিশের পদক্ষেপ এবং দায় নির্ধারণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এখন সকলের নজর বিধানসভায় প্রকাশিত হতে চলা সেই রিপোর্টের দিকে। বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশনের রিপোর্টে ঠিক কী বলা হয়েছে, কার ভূমিকার উল্লেখ রয়েছে এবং ভবিষ্যতের জন্য কী সুপারিশ করা হয়েছে, তা জানার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল, শহিদ পরিবার এবং সাধারণ মানুষ। এই রিপোর্ট প্রকাশের পর রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূচনা হতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


