CM Suvendu Adhikari: 'যাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী...,' সুদীপের বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় মুখ্যমন্ত্রী, খেলেন নয়নার দেওয়া নাড়ু

CM Suvendu Adhikari: এদিন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে লক্ষ্মীপুজোয় যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী তথা চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতি বছর বাড়িতে লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন করেন।

Published on: Oct 25, 2026, 22:01:07 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

CM Suvendu Adhikari: লক্ষ্মীপুজোর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার সাংসদ তথা এনসিপিআই নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে হাজির হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী। চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের আয়োজিত লক্ষ্মীপুজোয় যোগ দিয়ে নারকেল নাড়ুও খান তিনি। প্রধানমন্ত্রী যাকে নিজের বাসভবনে ডেকে প্রাতরাশ করাতে পারেন, তাঁর বাড়িতে লক্ষ্মীপুজোর নিমন্ত্রণ রক্ষা করার মধ্যে কোনও ‘গরমিল’ বা রাজনৈতিক অভিসন্ধি নেই— সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (PTI)
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (PTI)

এদিন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে লক্ষ্মীপুজোয় যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী তথা চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতি বছর বাড়িতে লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন করেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজে হাতে তৈরি দু’টি নারকেল নাড়ু খেয়েছেন তিনি। উত্তর কলকাতার সাংসদের বাড়িতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দেন, সেখানে তিনি মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী হিসেবে নয়, আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবেই এসেছেন। তাঁর কথায়, ‘যে রাজনৈতিক দল আমাকে মুখ্যমন্ত্রী করেছে, সেই বিজেপি দলের কোনও সদস্য বা নেতা বলেননি যে, আমি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছি। আর সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়র তো রাষ্ট্রের স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকারের পাশে আছেন। যাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তথা আমাদের নেতা নরেন্দ্র মোদী ব্রেকফাস্ট করেন তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে আমি এখানে এসেছি। এর সঙ্গে কোনও রাজনীতি খুঁজবেন না। এখানে কেউ মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী হিসেবে সাংসদ বা বিধায়কের বাড়িতে আসেনি।’

পুরভোটে বিজেপি ও এনসিপিআইয়ের সম্ভাব্য জোট নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে চাননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে কোনও রাজনৈতিক কথা বলব না। এ বিষয়ে যা বলার বলবেন আমাদের রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সুনীল বনসল এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।’ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এনডিএর দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক।’ তবে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর যাওয়া নিয়ে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায়। তাঁর বক্তব্য, ‘সুদীপ এখন বিজেপির কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তাই ও নিজের মুখ বাঁচাতে মুখ্যমন্ত্রীকে বাড়ির পুজোয় আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী গিয়ে ওর মুখরক্ষা করেছেন।’

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণ অবশ্য একেবারে শেষ মুহূর্তে আসেনি। বেশ কিছু দিন আগেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে পুজোয় আসার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। শনিবার ফোনে বার্তা পাঠিয়ে সেই আমন্ত্রণের কথা ফের মনে করিয়ে দেন উত্তর কলকাতার সাংসদ। রবিবার মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সংসদে কাজ করেছেন। এই সাক্ষাতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ। তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ২০ জন সাংসদ দল ছেড়ে এনসিপিআইয়ে যোগ দিয়েছেন এবং কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারকে সমর্থন জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে সংসদে এনডিএর সাংসদ সংখ্যা বেড়েছে। অন্যদিকে, দলত্যাগী সাংসদদের পদ খারিজের দাবিতে তৃণমূল লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দ্বারস্থ হয়েছে।