Suvendu Adhikari in Halisahar: হালিশহর কাণ্ডে পুলিশের গাফিলতি স্বীকার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর; আইও সাসপেন্ড, আইসি ‘ক্লোজ’

শুভেন্দু জানান, পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। নিয়ম মেনেই এই ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত করা হবে। উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পী গৌরীসারিয়াকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

Published on: Aug 10, 2026, 13:21:17 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Suvendu Adhikari in Halisahar: হালিশহরে পুলিশি হেফাজতে তৃণমূলকর্মী বিরজু কেওটের মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ঘটনায় পুলিশের গাফিলতির কথা স্বীকার করেন তিনি। একইসঙ্গে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী আধিকারিককে সাসপেন্ড এবং হালিশহর থানার আইসি-কে ‘ক্লোজ়’ করে পুলিশ লাইনে পাঠানোর ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

শুভেন্দু জানান, পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। (PTI)
শুভেন্দু জানান, পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। (PTI)

শুভেন্দু জানান, পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। নিয়ম মেনেই এই ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত করা হবে। উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পী গৌরীসারিয়াকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে মুখ্যমন্ত্রী এবং মৃতের পরিবারকে জানাতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মৃতের স্ত্রী পুলিশের বিরুদ্ধে তাঁর স্বামীর উপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন বলেও জানান শুভেন্দু। অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে তদন্ত করা হবে এবং ঘটনায় পুলিশের কোনও আধিকারিক বা কর্মীর ভূমিকা প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এদিকে, মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে একাধিক আর্থিক ও চাকরির ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মৃতের স্ত্রীকে প্রথম এক বছর প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। এক বছর পর তাঁকে গ্রুপ-ডি পদে চাকরি দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেন শুভেন্দু। পাশাপাশি পরিবারের দুই শিশুর ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথাও জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, পরিবারের পক্ষ থেকে এই আর্থিক সহায়তার আবেদন করা না হলেও শিশুদের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মৃতের পরিবার সরকারের উপর আস্থা রাখায় তাঁদের ধন্যবাদও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, পরিবার এই মৃত্যুর ঘটনায় বিচার চেয়েছে এবং প্রশাসনের উপর আস্থা রেখেছে। এই আস্থাকে সরকারের কাছে বড় পাওনা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে বিরজু কেওটকে গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে। তিনি কাঁচরাপাড়া পুরসভার পদত্যাগী তৃণমূল কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামী। হালিশহর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করার পর শুক্রবার আদালতে পেশ করে। বিচারক তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। কিন্তু পরদিনই পুলিশি হেফাজতে তাঁর মৃত্যুর খবর সামনে আসে।

এরপর মৃতের স্ত্রী জেনি শর্মা কেওট অভিযোগ করেন, লকআপের ভিতরে পুলিশি মারধরের কারণেই তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনাও তৈরি হয়।

অন্যদিকে, বিরজুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে রবিবার কাঁচরাপাড়ায় যান তৃণমূলনেত্রী মমতা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দোলা সেন। সেখানে বিক্ষোভের মুখে পড়ে তিনি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তীব্র অভিযোগ তোলেন তিনি। এমনকি পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও নিশানা করেন তৃণমূলনেত্রী।

ফলে একই ঘটনায় শাসকদলের দুই শিবিরের প্রকাশ্য অবস্থান ঘিরেও নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু পুলিশের গাফিলতি স্বীকার করে প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন, অন্যদিকে মমতার অভিযোগ, পুলিশ লুম্পেনদের সুরক্ষা দিচ্ছে। এখন ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা স্পষ্ট হবে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More