‘এর শেষ আমাকে দেখতেই হবে..’, আরজি কর নির্যাতিতাকে স্মরণ,কী বললেন শুভেন্দু?
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘২ বছর আগে এই দিনটার কথা আমাদের সকলের মধ্য়ে জাগ্রত হলে বা স্মরণ করলে বিচলিত হই। আমাদের হৃদয় ব্যথাতুর হয়ে পড়ে। চোখ থেকে জল পড়তে শুরু করে। কোনও সভ্য সমাজে বর্বরোচিত ঘটনা ঘটতে পারে, একটা সুরক্ষিত জায়গায় সভ্য ভারতবর্ষে কেউ ভাবতে পারিনি।’
আরও এক ৯ আগস্ট। ২০২৪ সালের এই দিনেই আরজি কর কাণ্ডের নারকীয় ঘটনা আজও শহরে যেন দগদগে ক্ষত! এদিকে, আজ পানিহাটিতে নির্যাতিতার স্মরণে এক সভায় যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই নির্যাতিতার মৃত্যুর তদন্ত ঘিরে বড় বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী।

সভামঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী, আরজি করের নির্যাতিতার সৎকারের সময় শ্মশানঘাটে কী হয়েছিল, তা বারাকপুরের সিপিকে খতিয়ে দেখার নির্দেশও দেন। উল্লেখ্য, সেদিন তড়িঘড়ি সৎকার নিয়ে অভিযোগ ওঠে নির্মল ঘোষ সহ অনেকের বিরুদ্ধে। আজ ৯ আগস্ট আরজি কর নির্যাতিতার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। নির্যাতিতার ঘটনা স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘২ বছর আগে এই দিনটার কথা আমাদের সকলের মধ্য়ে জাগ্রত হলে বা স্মরণ করলে বিচলিত হই। আমাদের হৃদয় ব্যথাতুর হয়ে পড়ে। চোখ থেকে জল পড়তে শুরু করে। কোনও সভ্য সমাজে বর্বরোচিত ঘটনা ঘটতে পারে, একটা সুরক্ষিত জায়গায় সভ্য ভারতবর্ষে কেউ ভাবতে পারিনি।’ এরই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ ৯ আগস্ট, ২০২৪ – তার পরের বছর ৯ আগস্ট, ২০২৫ রাখিপূর্ণিমায় অরাজনৈতিক নবান্ন অভিযান ছিল সেই সময় আমাদের ‘দিদি’, ডাক্তার বোনের মায়ের মাথায় পুলিশের লাঠি, এত বড় ফোলা আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। কী ভয়ংকর অত্যাচারী শাসকের হাতে ছিল বাংলা। ভর্তি করাতে দেয়নি। হাসপাতালের এমার্জেন্সিতে ফেলে রেখেছিল।’ উল্লেখ্য, এদিন পানিহাটির বিধায়ক তথা আরজিকর নির্যাতিতার মা রত্নাদেবীর অনুরোধে এই স্মরণসভা অনুষ্ঠানে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন,‘আমি ভুলিনা। যা করণীয় কাজ করছি, আগামিদিনেও করব। এর শেষ আমাকে দেখতেই হবে।’ শুভেন্দু বলেন, ‘রাজ্য় সরকার ঘোষিত ১১টা থেকে ১১টা ০২ মিনিট পর্যন্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মৌনতা পালন দেখছিলাম। আর দু’চোখ থেকে জল বয়ে যাচ্ছিল। স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসক, নার্সকে নয়। সব বেসরকারি হাসপাতাল, চিকিৎসাকেন্দ্র, মেডিক্যাল কলেজে মাথানত করে ২ মিনিট বোনকে স্মরণ করেছিল।’নির্যাতিতার মায়ের প্রতি বার্তা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘মাতৃসমা দিদিকে বলব, চন্দ্র, সূর্য যতদিন ততদিন বোনের কথা সবাই মনে রাখবে। কেউ ভুলবে না।’ তাঁর বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারী সাফ বলেন, এই ধরনের ঘটনায় রাজনীতি, ধর্ম, সম্প্রদায়ের কথা ভাবব না। ‘স্বজনপ্রীতি দেখাব না, দুর্বলতা প্রকাশ করব না, ব্যক্তি সম্পর্ক থেকে দূরে থাকব। চোখ বন্ধ করে যত কঠোর শাস্তি দেওয়া যায়, তা-ই দেব।’
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট শহরের বুকে আরজি কর-র মতো নামি হাসপাতালের অন্দরে সেখানের চিকিৎসক তরুণীকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে ধর্ষণেরও। এরপর সঞ্চয় রাই নামে এক ব্যক্তিকে ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়। পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার নেয় সিবিআই। সঞ্জয়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয় আদালত। অভয়ার মা বাবার দাবি, এই ঘটনায় আরও অনেকে যুক্ত। নতুন করে হাইকোর্টও এই মামলায় বড় বার্তা দিয়েছে। তদন্তে সিবিআই-র ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সদ্য কলকাতা হাইকোর্টও। এরপর এই মামলার তদন্ত কোনদিকে যায়, সেদিকে তাকিয়ে অনেকেই।
ABOUT THE AUTHORSritama Mitraশ্রীতমা মিত্র হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন চিফ কনটেন্ট প্রোডিউসার। ২০২১ সাল থেকে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদের পাশাপাশি শ্রীতমার আগ্রহের জায়গা ক্রিকেট। এছাড়াও তিনি জ্যোতিষ বিভাগ দেখাশোনা করেন এবং জীবনযাপন সংক্রান্ত প্রতিবেদন লিখতেও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। পেশাদার জীবন: পেশাদার জীবনের শুরুতে শ্রীতমা আকাশবাণী, শান্তিনিকেতনে উপস্থাপিকা হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১০ সালে তিনি ইটিভি নিউজ বাংলায় কপি এডিটর হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ওয়ানইন্ডিয়া-সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করার পর তিনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগ দেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: শ্রীতমা মিত্র ইংরেজিতে স্নাতক (বি.এ.) এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তিনিকেতন থেকে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগে স্নাতকোত্তর (এম.এ.) ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: সাংবাদিকতার বাইরে শ্রীতমা একজন সাহিত্যপ্রেমী, ভ্রমণও তাঁর অন্যতম নেশা। ছুটির দুপুরগুলো তাঁর কাটে গল্পের বই নিয়ে। একটু লম্বা ছুটি পেলে তিনি দেশের ভিতর বা কখনও সখনও দেশের বাইরেও বেড়াতে যেতে ভালোবাসেন। তবে তাঁর প্রতিটা বেড়ানোর পিছনেই কাজ করে কোনও না কোনও বই বা সিনেমা থেকে তৈরি হওয়া কৌতূহল। অজানাকে জানার আগ্রহই তাঁকে বার বার নিয়ে গিয়ে ফেলে নানা অচেনা শহরে। সেই সব অভিজ্ঞতাকে লেখার রূপ দিতেও পিছপা হন না শ্রীতমা।Read More
E-Paper


