West Bengal Assembly: মমতার নামে ইস্যু ১৯টি রবি ঠাকুরের বই! 'ফেরত' নিয়ে নতুন জটিলতা বিধানসভার গ্রন্থাগারে : Report

West Bengal Assembly: একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও। তাঁর নামে ১২টি বই বা নথি ইস্যু রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সেগুলিও স্পিকারের দফতরে রয়েছে।

Published on: Aug 23, 2026, 23:23:34 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

West Bengal Assembly: বিধানসভার গ্রন্থাগার থেকে বইগুলি নেওয়া হয়েছিল অনেক দিন আগে। তার পর সময় গড়িয়েছে। রাজ্যে সরকার বদলেছে, বদলে গিয়েছে বিধানসভার নেতৃত্বও। কিন্তু গ্রন্থাগারের খাতায় বেশ কিছু বই এখনও ‘ফেরত’ আসেনি। সেই তালিকায় রয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নামে ইস্যু হওয়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৯টি বই। ফলে কিছুটা আতান্তরে পড়েছেন গ্রন্থাগারের কর্মীরা।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (MAMATA BANERJEE SOCIAL MEDIA)
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (MAMATA BANERJEE SOCIAL MEDIA)

বিধানসভা সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে মোট ১৯টি বই ইস্যু করা রয়েছে। তার মধ্যে ১৮টি রবীন্দ্র রচনাবলীর বিভিন্ন খণ্ড। অন্য বইটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সঞ্চয়িতা।’ এমনিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্য চর্চা এবং শিল্প সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসার কথা সকলের জানা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নিজে লেখেন, ছবি আঁকেন, গানও গান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বইগুলিও তিনি মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন বিভিন্ন সময়ে নিয়েছিলেন পড়ার জন্য। গত ৪ মে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। নিজের কেন্দ্রেও পরাজিত হয়েছেন। ফলে তিনি আর বিধানসভার সদস্যও নন। অথচ গ্রন্থাগারের নথি বলছে, তাঁর নামে ইস্যু হওয়া এই ১৯টি বইয়ের কোনওটিই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত আসেনি।

কয়েকটি সূত্র মারফত খবর, দিনের পর দিন বই ফেরত না পেয়ে বাধ্য হয়ে বিধানসভার গ্রন্থাগারের কর্মীরা যোগাযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একেবারে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বইগুলি তাঁর বাড়িতে নেই। বরং রয়েছে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর নিজস্ব চেম্বার। যেই চেম্বার কিনা এখন শুভেন্দু অধিকারীর হাতে। হিসেব বলে, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর চেম্বারে বইগুলি থাকা সত্ত্বেও সেই সব বই যতদিন না পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রন্থাগারে ফিরে যায়, ততদিন সেগুলিকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে গণ্য করা হবে না। এদিকে, গ্রন্থাগারের কর্মীরা যে মুখ্যমন্ত্রীর চেম্বারে ঢুকে বইগুলি নিয়ে আসবেন সেই অধিকারও তাঁদের নেই। সেজন্য আবার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর অনুমতির প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নেওয়া বই নিয়ে বেশ সংকটের মধ্যে কর্মীরা। কীভাবে গ্রন্থাগার থেকে বেরিয়ে যাওয়া বইগুলি ফিরিয়ে আনা যায় তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আলোচনা।

একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও। তাঁর নামে ১২টি বই বা নথি ইস্যু রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সেগুলিও স্পিকারের দফতরে রয়েছে। ফলে সেগুলিও এখনও গ্রন্থাগারে ফেরত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ব্যতিক্রমও রয়েছে। সদ্য প্রয়াত প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার পরিবর্তনের পরই বিধানসভার গ্রন্থাগারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। পরে তাঁর এক সহযোগী এসে তাঁর নামে ইস্যু হওয়া বইগুলি ফেরত দিয়ে যান। গ্রন্থাগারের আধিকারিকদের মতে, সবাই যদি একইভাবে বই ফেরত দিয়ে দেন, তাহলে এই ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয় না।