‘আপনার কমিউনিস্টত্ব নিয়ে...,’ ‘ঘর ভাঙানোর হুমকি’ ইস্যুতে সেলিমকে তোপ হাত শিবিরের
সম্প্রতি জন উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠককে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়িয়েছেন মহম্মদ সেলিম।
প্রদেশ কংগ্রেসের ব্যাটন অধীর চৌধুরী থেকে শুভঙ্কর সরকারের হাতে উঠতেই সিপিএম-র সঙ্গে জোট কার্যত বিশ বাঁও জলে চলে গিয়েছিল। কংগ্রেস একা লড়তে চায়। অন্যদিকে, সিপিএম আর একা লড়াইয়ের ভরসা পাচ্ছে না। একুশে আব্বাস সিদ্দিকির পর এবার হুমায়ুন কবীরের দরবারে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তাতে আরও মুখ ফিরিয়েছে হাত শিবির। এই পরিস্থিতিতে সেলিম কমরেডদের নয়া নিদান দিয়েছেন। সিপিএম কর্মীদের উদ্দেশ্যে পার্টির রাজ্য সম্পাদক বলেছেন, তৃণমূল-বিজেপির বিরুদ্ধে জোট গড়তে ব্লক-বুথ স্তরের কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। সেলিমের এহেন মন্তব্যকে ‘ঘর ভাঙানোর হুমকি’ হিসাবেই দেখছে কংগ্রেস। তাঁর বিরুদ্ধে তোপও দাগলেন প্রদেশ কংগ্রেস মুখপাত্র অশোক ভট্টাচার্য।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অশোক ভট্টাচার্য লিখেছেন, 'জোট না করলে মহম্মদ সেলিম কংগ্রেসের ঘর ভাঙানোর হুমকি দিয়েছেন। কেবল বলব, নিজের ঘরে আপনি যে আগুন লাগিয়েছেন, তা পারলে নেভান। আমাদের কাছে সব খবর আছে। আপনার পার্টির মধ্যে আপনার ‘কমিউনিস্টত্ব’ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ছাত্র -যুবরা। আর আপনার কথার উত্তর আমাদের সাধারণ কর্মীরাই দেবেন। শুভঙ্কর সরকার নয়।' সম্প্রতি জন উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠককে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়িয়েছেন সেলিম। প্রশ্নের মুখে পড়েছেন দলের অন্দরেই। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে যে হুমায়ুন মুর্শিদাবাদে হিন্দুদের ‘ভাগীরথীতে কেটে ভাসিয়ে দেওয়ার’ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, দলের কাছে গোপন রেখে কেন তাঁর সঙ্গে বৈঠক করলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক? শুধু তা-ই নয়, সম্প্রতি নতুন দল গড়ার পর হুমায়ুন বলেছিলেন, বিজেপির সমঝোতা করতেও তাঁর আপত্তি নেই। তার পরেও কেন সেলিম বৈঠকে গেলেন, সেই প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে। স্পষ্ট ভাবে এই প্রসঙ্গ না তুললেও, ‘ঘরে আগুন লাগানো’ বলতে অশোক যে এই ঘটনার কথাই বলেছেন, তাতে সন্দেহ নেই।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার এক টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মহম্মদ সেলিম বলেন, 'শুভঙ্করবাবুর কথা মাথায় রেখে আমি সমস্ত জেলার সব কমরেডকে বলব যেখানে যেখানে কংগ্রেস আছে ব্লকে কেন, বুথ পর্যন্ত তারা কথা বলুক। তারা বিজেপি-তৃণমল বিরোধী শক্তিকে শক্তিশালী করবে, না তৃণমূলের সঙ্গে যাবে। এরপরে কিন্তু বলতে পারবেন না যে, আমি দল ভাঙাচ্ছি। কারণ, আমরা একসঙ্গে লড়েছি। যারা এখনও অধ্যাবসায় সহকারে বিজেপি-তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়ছে, তৃণমূলের কাছে মাথা নোয়াইনি, সেই কংগ্রেস কর্মীদের আমরা শ্রদ্ধা করি। যারা অনেক লোভ-প্রলোভন-মারধর-লাঠি-জেল-জরিমানা, সিপিএম যেমন ভুগেছে, এরাও ভুগেছে। তাঁরা তৃণমূলে যাননি, সেই মর্যাদা দিতে হবে। তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে যদি কংগ্রেসের ব্যবসায়িক বা বাণিজ্যিক বা রাজনৈতিক সম্পর্ক হয়, তার জন্য এঁরা কেন কো-ল্যাটারেল ড্যামেজ হবেন?' মহম্মদ সেলিমের এই বক্তব্যের পাল্টাই অশোক ভট্টাচার্যের পোস্ট বলে মনে করা হচ্ছে।
E-Paper











