মন্দিরে CCTV-প্রহরী! পুলিশের দায়িত্ব নিয়ে বড় প্রশ্ন শুভেন্দুর, তুঙ্গে বিতর্ক
পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমার থানার দেওয়া একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে সরগরম জেলার রাজনীতি।
জেলাজুড়ে নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করতে উদ্যোগী হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ প্রশাসন। তারই পদক্ষেপ হিসেবে জেলার বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে সিসিটিভি বসানোর জন্য সম্প্রতি পুলিশ-প্রশাসনের পক্ষ থেকে কমিটিগুলির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আর এ নিয়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও পুলিশ সুপারের মধ্যে কার্যত বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। মন্দিরে কেন সিসিটিভি বসাতে হবে? কেনই বা রাখতে হবে সর্বক্ষণের পাহারাদার? পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমার থানার দেওয়া একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে সরগরম জেলার রাজনীতি।

সম্প্রতি নন্দকুমার থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক কার্তিক হাঁসদার সই করা একটি চিঠি পৌঁছয় এলাকার নাড়াদাড়ি শিব মন্দির কমিটির কাছে। চিঠিতে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়, বিগ্রহের সুরক্ষায় মন্দিরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে হবে এবং নিয়োগ করতে হবে একজন স্থায়ী প্রহরী। এই চিঠির ছবি নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি আক্রমণ করেছেন রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। তাঁর প্রশ্ন, রাজ্যে কী তবে মন্দির সুরক্ষিত নয়? যদিও ওই চিঠির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। চিঠিটি পাঠানো হয়েছে নাড়াদাড়ি শিব মন্দির কমিটির উদ্দেশ্যে। সেখানে লেখা হয়েছে-'মহাশয়/মহাশয়া, 'এতদ্বারা আপনাদের মন্দির কমিটিকে জানান যাইতেছে যে, আপনাদের বিগ্রহ সুরক্ষিত রাখার জন্য এবং মন্দিরের দেখভালের জন্য একজন প্রহরী রাখার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে এবং মন্দির এবং সংলগ্ন এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।'
এই বয়ান নিয়েই আপত্তি তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। একই সুর শোনা গিয়েছে মন্দিরের সেবাইত তথা বিজেপি নেতা সন্দীপ চক্রবর্তীর গলাতেও। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, 'আমরা কোন রাজ্যে বাস করছি? এরপর তো বলা হবে মহিলারা নিজেদের পাহারা নিজেরা দিন, সরকার নিরাপত্তা দিতে পারবে না।' এই বিতর্কের মাঝে পূর্ব মেদিনীপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে স্পষ্ট জানান, কোনও নির্দিষ্ট ধর্মস্থান নয়, বরং ব্যাঙ্ক ও অফিসের মতো সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতেই নজরদারি বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সুরক্ষা বজায় রাখাই আমাদের লক্ষ্য। নিরাপত্তা কঠোর করতেই এই সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে, শুভেন্দুর আপত্তি নিয়ে সরব হয়েছেন নন্দকুমারের তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার দে। অভিযোগ উড়িয়ে তাঁর দাবি, 'মন্দিরে চুরি-ছিনতাই করে একদল দুষ্কৃতী তাতে ধর্মীয় রং লাগানোর চেষ্টা হচ্ছে। এই অপরাধীদের রুখতেই নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেছে পুলিশ। বিজেপি অহেতুক মিথ্যে অপপ্রচার চালাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্দিরটির সংস্কার আমি করিয়েছি এবং প্রতি বছর সেখানে যাই। আমরা হিন্দু, সেটা কাউকে প্রমাণ দিতে হবে না।'
E-Paper

