দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিতে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতি? এবার ধৃত ইন্দ্রনীলের ঘনিষ্ঠ ‘মাস্টারমাইন্ড’ ধ্রুবজ্যোতি
দুর্নীতির অভিযোগে এবার পুলিশের জালে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভ। ইন্দ্রনীল সেন গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই তদন্তকারীদের নাগালের বাইরে ছিলেন তিনি। অবশেষে বুধবার রাতে কলকাতার পোদ্দার কোর্টের কাছ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে লালবাজারের বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT।
দুর্গাপুজোর নাম করে ইউনেস্কোর লোগো ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে এবার পুলিশের জালে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভ। ইন্দ্রনীল সেন গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই তদন্তকারীদের নাগালের বাইরে ছিলেন তিনি। অবশেষে বুধবার রাতে কলকাতার পোদ্দার কোর্টের কাছ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে লালবাজারের বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT। তদন্তকারীদের দাবি, এই দুর্নীতি চক্রের অন্যতম প্রধান মাথা ছিলেন ধ্রুবজ্যোতি। তিনি ইন্দ্রনীলের ঘনিষ্ঠ সংস্থা ‘মাস আর্ট’-এর সচিব পদেও ছিলেন। তাঁর গ্রেপ্তারির পর এবার গোটা দুর্নীতি চক্রের আর্থিক লেনদেন এবং আরও প্রভাবশালীদের যোগ নিয়ে নতুন করে তদন্তের গতি বাড়াতে চাইছে পুলিশ।

এই মামলার সূত্রপাত দুর্গাপুজোর বিশেষ প্রবেশপত্র এবং প্রিভিউ শোয়ের পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছে বিশেষ পুজো পরিক্রমা এবং মণ্ডপে প্রবেশের পাস বিক্রি করা হয়েছিল। মানুষের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি করা হয়েছিল যে, এই উদ্যোগের সঙ্গে ইউনেস্কোর প্রত্যক্ষ অনুমোদন বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। সেই সুযোগে বিপুল পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ। অথচ ইউনেস্কোর সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যবহারের কোনও অনুমোদিত চুক্তি ছিল কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনায় প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন এবং মাস আর্টের একাধিক কর্মকর্তার নাম সামনে আসে।
গত ২৮ অক্টোবর ইডির দপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদের পর কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন ইন্দ্রনীল সেন। তার পর থেকেই উধাও হয়ে যান ধ্রুবজ্যোতি। তদন্তকারীদের দাবি, পুজোর পাস বিক্রির গোটা প্রক্রিয়ায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সম্প্রতি কলকাতা হাই কোর্টে তাঁর আগাম জামিনের আবেদনও খারিজ হয়ে যায়। এরপর গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার সন্ধ্যায় পোদ্দার কোর্ট সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এবার ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইন্দ্রনীলের সঙ্গে তাঁর আর্থিক লেনদেন এবং মাস আর্টের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ কোথায় গিয়েছে, তা জানার চেষ্টা করবেন তদন্তকারীরা।
তবে শুধু পুজোর পাস বিক্রিই নয়, ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে সরকারি টেন্ডার নিয়েও আরও বড় দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারীদের দাবি, পর্যটন দপ্তরের টুরিস্ট লজ সংস্কার, বইমেলা, গানমেলা এবং চলচ্চিত্র উৎসবের মতো বিভিন্ন সরকারি কাজের টেন্ডার ঘনিষ্ঠ সংস্থাগুলিকে পাইয়ে দিয়ে বিপুল পরিমাণ কাটমানি নেওয়া হয়েছিল। এই সূত্রে প্রায় ৩০০ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তে মাস আর্ট সোসাইটি, গিডি ক্রিয়েশন, থার্ড আই ক্রিয়েশন এবং রূপকার নামে একাধিক সংস্থার নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ, এই সংস্থাগুলির মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি কাজের বরাত দেওয়া এবং আর্থিক লেনদেন চালানো হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, প্রায় ২০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকার লেনদেন হয়েছে। এমনকী, ইন্দ্রনীলের নিজের পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সদস্যদের অ্যাকাউন্টেও অর্থ যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই এই দুর্নীতি চক্রের সঙ্গে যুক্ত তিনজনের গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে বলে আদালতে জানিয়েছে পুলিশ।
ধ্রুবজ্যোতির গ্রেপ্তারির পর মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। তাঁর দাবি, কোটি কোটি টাকা চুরি করা হয়েছে। ইন্দ্রনীলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, একজন ধরা পড়েছে, এবার আরও বড় দুর্নীতির পর্দাফাঁস হবে। সব মিলিয়ে ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের ঘিরে তদন্ত এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া এখনও বাকি। ধ্রুবজ্যোতিকে জেরা করে পুজোর পাস বিক্রি থেকে সরকারি টেন্ডার—সমস্ত আর্থিক লেনদেনের মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটাই এখন তদন্তকারীদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


