CPIM Vs RSP in Rejinagar: রেজিনগরে বাম ঐক্যে ফাটল! 'দাদাগিরি' না মানতে পেরে সিপিএমের বিরুদ্ধে প্রার্থী দিল আরএসপি
আরএসপির অভিযোগ, বামফ্রন্টের বৈঠকে যথাযথ আলোচনা বা ঐকমত্য ছাড়াই সিপিআইএম রেজিনগরে আইনজীবী সায়েদের নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই রেজিনগরে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল আরএসপি।
CPIM Vs RSP in Rejinagar: রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে বাম ঐক্যে বড় ধাক্কা। আসন সমঝোতা নিয়ে সিপিআইএমের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে এবার আলাদা প্রার্থী ঘোষণা করল আরএসপি। রবিবার সন্ধ্যায় আরএসপি জানিয়ে দিয়েছে, রেজিনগরে তাদের প্রার্থী বিকাশ চন্দ্র মিশ্র। ফলে একই আসনে বামফ্রন্টের দুই শরিক দলের প্রার্থী দাঁড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আরএসপির অভিযোগ, বামফ্রন্টের বৈঠকে যথাযথ আলোচনা বা ঐকমত্য ছাড়াই সিপিআইএম রেজিনগরে আইনজীবী সায়েদের নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই রেজিনগরে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল আরএসপি। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহেই রাজ্য বামফ্রন্ট এবং জেলা কনভেনারকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল যে দলটি এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়। বুথস্তরেও সংগঠনের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ভোট ঘোষণা হওয়ার আগে পর্যন্ত বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক আলোচনায় ডাকা হয়নি বলে অভিযোগ আরএসপির।
আরএসপির মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক নওফেল মহঃ সফিউল্লার দাবি, ৬ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচনের ঘোষণা হওয়ার পরও ১০ সেপ্টেম্বর হঠাৎ সিপিআইএম জানায় যে তারাই রেজিনগরে লড়বে। তাঁর বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত আলোচনা বা ঐকমত্যের ভিত্তিতে হয়নি। আরএসপির কাছে বিষয়টি একতরফা সিদ্ধান্ত এবং বামফ্রন্টের রীতিনীতির পরিপন্থী।
রবিবারের রাজ্য বামফ্রন্টের বৈঠকেও দুই শরিকের মধ্যে জট কাটেনি। আরএসপি জানিয়ে দেয়, দীর্ঘ প্রস্তুতির পর এখন আর প্রার্থী প্রত্যাহারের পথে হাঁটা সম্ভব নয়। সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিকাশ চন্দ্র মিশ্রের নাম ঘোষণা করা হয়। তিনি দাদপুর এলাকার বাসিন্দা, রেজিনগর লোকাল কমিটির সম্পাদক এবং জেলা কমিটির সদস্য। আরএসপির দাবি, তিনি এলাকার সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত এবং স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ।
রেজিনগর আসন নিয়ে আরএসপির ঐতিহাসিক দাবিও রয়েছে। ডিলিমিটেশনের আগে বর্তমান রেজিনগর এলাকার পঞ্চায়েতগুলি ভরতপুর, নওদা এবং বেলডাঙা বিধানসভা এলাকার মধ্যে ছিল। এই তিনটি এলাকাকেই নিজেদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে দাবি করে আরএসপি। ২০১১ সালে রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্র তৈরি হওয়ার পর প্রথম দু’টি নির্বাচনে, ২০১১ এবং ২০১৩ সালের উপনির্বাচনে, আরএসপি প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম মণ্ডল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। পরে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট এবং বামফ্রন্টের সমীকরণের স্বার্থে ২০১৬, ২০২১ এবং ২০২৪ সালে দলটি আসনটি ছেড়ে দেয়। ২০২৬ সালেও প্রথমে একইভাবে সমঝোতার পথে ছিল আরএসপি।
দলের অভিযোগ, বারবার আসন ছেড়ে দেওয়াকে সিপিআইএম দুর্বলতা হিসেবে দেখেছে। আরএসপির রাজ্য সম্পাদক তপন হোড়ও এক বিবৃতিতে সিপিআইএমের প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর পরিবর্তে এভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা বামফ্রন্টের প্রচলিত রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অন্যদিকে, সিপিআইএমের অবস্থান এখনও কঠোর। দলের মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা জানিয়েছেন, প্রার্থী ঘোষণা হয়ে গেলেই চূড়ান্তভাবে লড়াই হবে এমন নয়, প্রয়োজনে প্রার্থী প্রত্যাহারও হতে পারে। রাজ্য বামফ্রন্টের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে তাঁর দাবি। ফলে শেষ মুহূর্তে সমঝোতার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে রেজিনগরে বাম ভোট ভাগ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আসনটিতে তৃণমূল ও বিজেপির লড়াইয়ের পাশাপাশি বামেদের দুই শরিকের পৃথক প্রার্থী ভোটের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গীদের মধ্যে এই প্রকাশ্য বিরোধ শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে যায়, সেটাই এখন নজরে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, উপনির্বাচনের আগে বামফ্রন্ট কি ফের ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াইয়ের পথে ফিরতে পারবে, নাকি রেজিনগরেই দেখা যাবে বাম ঐক্যের আরও বড় বিভাজন।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


