বিধানসভার শৌচালয়ে রহস্যমৃত্যু! দরজা ভেঙে উদ্ধার ক্যান্টিন কর্মীর দেহ

মৃতের নাম উমেশচন্দ্র দাস (৬২)। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বিধানসভার ক্যান্টিনে কাজ করছিলেন তিনি। কী ভাবে তাঁর মৃত্যু হল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

Published on: Nov 2, 2026, 11:32:02 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

খোদ রাজ্য বিধানসভার ভিতরেই রহস্যমৃত্যু। সোমবার সকালে বিধানসভার ক্যান্টিনের শৌচালয় থেকে উদ্ধার হল এক কর্মীর নিথর দেহ। মৃতের নাম উমেশচন্দ্র দাস (৬২)। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বিধানসভার ক্যান্টিনে কাজ করছিলেন তিনি। কী ভাবে তাঁর মৃত্যু হল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান তদন্তকারীদের। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিয়ে নিশ্চিত হতে চাইছে না পুলিশ।

বিধানসভা
বিধানসভা

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভার ক্যান্টিন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে একটি ঠিকাদার সংস্থা। সেই সংস্থার অধীনেই কাজ করতেন উমেশচন্দ্র। তাঁর বাড়ি কলকাতার তিলজলা এলাকায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে বিধানসভার ক্যান্টিনেই থাকতেন তিনি। সেখানেই খাওয়াদাওয়া এবং রাতের ঘুমের ব্যবস্থা ছিল। ফলে কর্মস্থলই কার্যত তাঁর বাসস্থান হয়ে উঠেছিল।

দীর্ঘক্ষণ শৌচালয় থেকে বেরোননি

সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ শৌচালয়ে যান উমেশচন্দ্র। কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ পেরিয়ে গেলেও তাঁকে বাইরে আসতে দেখা যায়নি। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে বিশেষ সন্দেহ হয়নি সহকর্মীদের। পরে অন্য কর্মীরা শৌচালয়ে যাওয়ার জন্য সেখানে পৌঁছন। দেখেন, দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। বার বার ডাকাডাকি করেও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।

এর পর সন্দেহ বাড়ে। কোনও দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, তা বুঝতে দরজা ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন সহকর্মীরা। দরজা খুলতেই দেখা যায়, শৌচালয়ের মেঝেতে পড়ে রয়েছেন উমেশচন্দ্র। তাঁর কোনও সাড়াশব্দ নেই। সঙ্গে সঙ্গে বিধানসভার সচিব এবং মার্শালকে বিষয়টি জানানো হয়। খবর দেওয়া হয় হেয়ার স্ট্রিট থানাতেও।

প্রাথমিক অনুমান হৃদরোগ

পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে। পরে সেটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। প্রাথমিক তদন্তে মৃতের শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ সূত্রে খবর। বয়সজনিত কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান তদন্তকারীদের। তবে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ফরেনসিক পরীক্ষার সাহায্য নেওয়া হবে।

ঘটনার কথা জানানো হয়েছে বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুকে। বিধানসভার মার্শাল দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ও বিষয়টি তাঁকে জানিয়েছেন। পুলিশ আপাতত যে শৌচালয় থেকে দেহ উদ্ধার হয়েছে, সেটি এবং সংলগ্ন এলাকা ঘিরে রেখেছে। তদন্তের প্রয়োজনে ওই জায়গা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সোমবার বিধানসভায় কোনও অধিবেশন ছিল না। ফলে সাধারণ দিনের তুলনায় কর্মী ও অন্যদের যাতায়াত ছিল অনেকটাই কম। সেই কারণে ঘটনার পরেও বিধানসভার স্বাভাবিক পরিবেশে তেমন বিঘ্ন ঘটেনি।

এক জন কর্মীর মৃত্যু ঘিরে রাজ্যের প্রশাসনিক কেন্দ্রের ভিতরেই তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। এটি নিছক স্বাভাবিক মৃত্যু, নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় পুলিশ। পাশাপাশি উমেশচন্দ্রের মৃত্যুর আগে তাঁর শারীরিক অবস্থা কেমন ছিল, সে বিষয়েও সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন তদন্তকারীরা।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More