Sikkim tunnel collapse: সিকিমে সুড়ঙ্গ ধসে মৃত্যুমিছিল! বাংলার শ্রমিক মৃত্যুতে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী, ঘটনাস্থলে ২ বিধায়ক
Sikkim tunnel collapse: মঙ্গলবার সকালে প্রশাসন জানায়, ধসের পর সুড়ঙ্গের ভিতরে বিপজ্জনক মাত্রায় মিথেন গ্যাস জমে রয়েছে। সেই কারণে উদ্ধারকারী দলকে ধাপে ধাপে ভিতরে পাঠানো হচ্ছে। প্রথমে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে বাতাসের গুণমান পরীক্ষা করা হচ্ছে, তারপর উদ্ধারকাজ এগোনোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
Sikkim tunnel collapse: সিকিমের নামচি জেলার সামারদুং এলাকার তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে আচমকা ধসে মৃত্যুমিছিল। যত সময় এগোচ্ছে মৃতের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। সিকিম প্রশাসন সূত্রে খবর, জল-কাদায় ভরা সুরঙ্গে উদ্ধারকাজ রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এনডিআরএফের সদস্যদের কাছে। উদ্ধারকাজে নেমে সুড়ঙ্গের ভিতরে আরও পাঁচ-ছ'জনের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে, তবে তাদের বের করা এখনও সম্ভব হয়নি। ইতিমধ্যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০। এদিকে, সিকিমে টানেল বিপর্যয়ে বাংলার শ্রমিক মৃত্যুর খবরে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তড়িঘড়ি দু’জন বিধায়ককে ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, সিকিমে নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গ দুর্ঘটনায় মৃত শ্রমিকদের মধ্যে ১১ জনই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। তাঁদের বাড়ি জলপাইগুড়ি জেলায়। ৯ জনই মালবাজার এলাকার বাসিন্দা। সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের মধ্যেও থাকতে পারেন বাংলার অনেকে! সিকিমের দুর্ঘটনা নিয়ে আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় উদ্বেগপ্রকাশ করে বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে সিকিমের বিপর্যয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'ইতিমধ্যেই সিকিমের ঘটনাস্থলে নাগরাকাটার বিধায়ক পুনা ভেংরা ও কালচিনির বিধায়ক বিশাল লামাকে পাঠিয়েছি। ওঁরা সম্পূর্ণভাবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখবেন। সমস্ত আপডেট আমি চেয়েছি। উদ্ধারকাজের জন্য সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাংয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি।'
এরপরেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে 'সম্রাজ্ঞী' বলে খোঁচা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'আগে তো রাজ্য সরকারের প্লেন শুধু একজন সম্রজ্ঞী ব্যবহার করতেন। আমরা প্রয়োজনে উদ্ধারকাজের সুবিধার্থে সিকিমে আমাদের সরকারি বিমান পাঠাব বলে জানিয়েছি।' পাশাপাশি তিনি এও জানান, 'মৃত শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। আর্থিক ক্ষতিপূরণ কোনও মৃত্যুর পরিপূরক যদিও নয়। আর্থিক ক্ষতিপূরণ ছাড়াও মৃতের পরিবারের একজনকে সিভিক ভলাস্টিয়ারের কাজ দেওয়া হবে।' সোমবার সিকিমের নামচি জেলার সামারদুং এলাকার তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ টানেলে ধস নামে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, মিথেন গ্যাস লিক করার কারণেই বিষাক্ত গ্যাস লিক করার পরেই সুড়ঙ্গের ভিতরে বিস্ফোরণ হয়। ধসে নেমে সুরঙ্গের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং জানান, মিথেন গ্যাসের বিস্ফোরণ এবং সুড়ঙ্গ ধসের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।সিকিম সরকার মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। কেন্দ্রের তরফেও পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আহতদের দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা।
মঙ্গলবার সকালে প্রশাসন জানায়, ধসের পর সুড়ঙ্গের ভিতরে বিপজ্জনক মাত্রায় মিথেন গ্যাস জমে রয়েছে। সেই কারণে উদ্ধারকারী দলকে ধাপে ধাপে ভিতরে পাঠানো হচ্ছে। প্রথমে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে বাতাসের গুণমান পরীক্ষা করা হচ্ছে, তারপর উদ্ধারকাজ এগোনোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজন উদ্ধারকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও সূত্রের খবর। ঘটনাস্থলে একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স, চিকিৎসক দল এবং জরুরি পরিষেবা মোতায়েন করা হয়েছে। গোটা এলাকা ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। উদ্ধারকারী সংস্থাগুলির লক্ষ্য, বিষাক্ত গ্যাসের ঝুঁকি কমিয়ে যত দ্রুত সম্ভব সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনো। সিকিমের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে পাহাড়ি এলাকায় বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে। এখন সকলের নজর উদ্ধার অভিযানের দিকে-ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকা শ্রমিকদের জীবিত ফিরিয়ে আনা যায় কিনা, সেটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
E-Paper

