Debangshu Bhattacharya: তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারিতে ‘আনন্দ’ প্রকাশ দেবাংশুর, বিস্ফোরক চুঁচুড়ায় হেরে যাওয়া প্রার্থী

তৃণমূলের যুব নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্যের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একাধিক তৃণমূল নেতার গ্রেফতারির ঘটনায় তিনি যে ‘আনন্দ’ পাচ্ছেন, তা প্রকাশ্যে জানিয়ে পোস্ট করেন। তাঁর সেই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক আলোচনা।

Published on: Jun 7, 2026, 12:05:59 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একের পর এক তৃণমূল নেতা ও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং গ্রেফতারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহল। এই আবহেই তৃণমূলের যুব নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্যের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একাধিক তৃণমূল নেতার গ্রেফতারির ঘটনায় তিনি যে ‘আনন্দ’ পাচ্ছেন, তা প্রকাশ্যে জানিয়ে পোস্ট করেন। তাঁর সেই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক আলোচনা।

তৃণমূলের যুব নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্যের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
তৃণমূলের যুব নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্যের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

দেবাংশু ভট্টাচার্য, যিনি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে চুঁচুড়া কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন, নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরও প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে কোনও ক্ষোভ উগরে দেননি। তবে সাম্প্রতিক গ্রেফতারির ঘটনাগুলি নিয়ে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ বার্তা পোস্ট করেছেন।

পোস্টে তিনি লেখেন, কিছু চোর-ডাকাত-তোলাবাজের গ্রেফতারির ঘটনায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তাঁর দাবি, এমন কিছু নেতা নিজেদের জেলা বা অঞ্চলকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে মনে করতেন এবং প্রশাসন ও পুলিশের উপর অযাচিত প্রভাব খাটাতেন। দেবাংশুর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ধরনের ব্যক্তিরাই সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করে নিজেদের ক্ষমতার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন এবং দলের সাংগঠনিক ক্ষতির অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছিলেন।

তিনি আরও দাবি করেন, জেলার পর জেলা তৃণমূলের ভরাডুবির পিছনে এই ধরনের নেতাদের ভূমিকা ছিল। তাঁর মতে, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার অন্যতম কারণও এঁরাই। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ হওয়াকে তিনি ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।

তবে একইসঙ্গে দেবাংশু তাঁর পোস্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণও তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেফতারির অভিযোগ থাকলেও, সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই কিছু প্রকৃত অপরাধী, তোলাবাজ এবং হুমকিবাজ ব্যক্তিও আইনের জালে ধরা পড়ছেন। এটিকে তিনি 'Blessing in disguise' বা আপাত নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যে ইতিবাচক ফলাফল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

পোস্টে তিনি আরও বলেন, যাঁরা সৎভাবে রাজনীতি করেছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে কোনও দুর্নীতি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁদের কেন কিছু অসাধু ব্যক্তির দায় বহন করতে হবে? তাঁর মতে, কোনও রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকলে সুযোগসন্ধানী এবং স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিদের ভিড় বাড়ে। তাই দলের উচিত অভ্যন্তরীণ তদন্তের মাধ্যমে এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতের জন্য সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে দেওয়া।

দেবাংশুর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে একাধিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য কি দলের অতীত কার্যকলাপের সমালোচনা? তিনি কি ইঙ্গিত দিতে চেয়েছেন যে ক্ষমতায় থাকাকালীন দলের মধ্যে দুর্নীতিগ্রস্ত বা তোলাবাজ নেতাদের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছিল? নাকি এটি সংগঠনের আত্মসমালোচনার একটি প্রচেষ্টা? এই প্রশ্নগুলিই এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

দেবাংশুর পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর তা নিয়ে দলীয় মহল থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর মন্তব্য যে রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আগামী দিনে এই বিষয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More