Dengue Cases: পুজোর আগে মাথা ব্যাথা বাড়াচ্ছে ডেঙ্গি! রাজ্যজুড়ে আক্রান্ত প্রায় ৪ হাজার, শীর্ষে কোন ওয়ার্ড?
Dengue Cases: ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানিয়েছেন, মাঝ অক্টোবর পর্যন্ত কড়া নজর রাখবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আশাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জ্বরে আক্রান্তদের খোঁজ নেবেন।
Dengue Cases: রাজ্যজুড়ে ফের মারাত্মক রূপ নিয়েছে ডেঙ্গির (Dengue) প্রাদুর্ভাব। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ক্যালেন্ডার বছর তথা বর্তমান বর্ষায় রাজ্যে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার। তিনদিনের 'স্বচ্ছতা সে স্বাগত' ডেঙ্গি (Dengue) নিধন যজ্ঞ শেষে কলকাতা পুরসভা জানিয়েছে, জ্বরের রোগী বেশি শ্যামবাজার-হাতিবাগান-শোভাবাজারে। মশা গিজগিজ করছে ঢাকুরিয়া-টালিগঞ্জ-নিউআলিপুরে। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর, কলকাতা পুরসভার সঙ্গে যৌথভাবে শুরু করেছে এই সরেজমিনে তদন্ত।

ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানিয়েছেন, মাঝ অক্টোবর পর্যন্ত কড়া নজর রাখবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আশাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জ্বরে আক্রান্তদের খোঁজ নেবেন। যদি তাঁরা বাড়ি গিয়ে দেখেন কারও দু'দিনের বেশি জ্বর রয়েছে। যাদের শরীরে ডেঙ্গির মতো উপসর্গ রয়েছে, তাদের দ্রুত নিয়ে আসতে হবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। তেমন তদন্ত করতে গিয়েই দেখা গেছে, কলকাতা পুরসভার ২ নম্বর বরোয় ৩৫ জন জ্বরে আক্রান্ত। এটা সর্বাধিক। এরপর ৯ নম্বর বরোয় জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা ৩১। কলকাতা পুরসভার ৯ নম্বর বরো অর্থাৎ আলিপুর, একবালপুর, চেতলা, মোমিনপুর। তৃতীয় স্থানে বরো আট। অর্থাৎ ভবানীপুর, গড়িয়াহাট, রাসবিহারী। সেই সূত্র ধরে পুরসভার কর্মীরা তল্লাশি করেছেন মশার লার্ভারও।
রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোথাও জল জমতে দোয়া যাবে না। যত্রতত্র ফেলে দেওয়া আইসক্রিমের কাপ, পরিত্যক্ত টায়ার, ফেলে দেওয়া ভাড়ে জমা জল-মশার লার্ভার হদিশ মিলেছে। মশার লার্ভা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গিয়েছে কলকাতা পুরসভার ১০ নম্বর বরোয়। এখানে ৩২৬টি জায়গায় মিলেছে মশার লার্ভা। নিউআলিপুর, টালিগঞ্জ, কসবা, রথতলা, ঢাকুরিয়া, গড়ফা, লেক গার্ডেন্স, কাটজুনগর, টালিগঞ্জ বিজয়গড় এই ১০ নম্বর বরোর মধ্যে পড়ে। কলকাতা পুরসভার ১০ নম্বর বরোর মধ্যে রয়েছে ৮১, ৮৯ এবং ৯১ থেকে ১০০ পর্যন্ত সবকটি ওয়ার্ড। মশার প্রাদুর্ভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতা পুরসভার বরো ১১। সেখানে ২১৭ টি জায়গা থেকে পাওয়া গিয়েছে মশার লার্ভা। অন্যদিকে, ১৪ নম্বর বরো রয়েছে তৃতীয় স্থানে। এখানে ১৪৬ টি জায়গা থেকে মিলেছে মশার লার্ভা। এছাড়াও তল্লাশিতে কলকাতায় ৭৬ টি এমন নির্মাণস্থল চিহ্নিত করা হয়েছে যেখানে জল জমে রয়েছে। চিহ্নিত করা হয়েছে ৫৬ টি ফাঁকা জমি। যেগুলি অবিলম্বে পরিস্কার করতে হবে। এছাড়াও ২৮ টি আবর্জনায় ভরা পুকুর-জলাশয় মিলেছে।
এর আগে রাজ্যে টানা ভারী বৃষ্টির মধ্যে ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও অত্যন্ত ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছয়নি বলে জানিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর দাবি ছিল, চলতি বর্ষায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হলেও গত বছরের বর্ষার তুলনায় তা এখনও অনেকটাই কম।
E-Paper

