Akra-Santoshpur Slum Fire: পুড়ে খাক '১৬ বিঘা বস্তি!' আক্রা-সন্তোষপুরে বিধ্বংসী আগুন, বজবজ-শিয়ালদহ লাইনে বন্ধ ট্রেন চলাচল

Akra-Santoshpur Slum Fire: যেহেতু বস্তিটি শিয়ালদহ-বজবজ লাইনের একেবারে কাছেই, তাই আগুনের আঁচ সরাসরি লাগে রেলের পরিকাঠামোয়। আগুনের তাপে রেলের ওভারহেড তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বজবজ লাইনে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। 

Published on: Apr 25, 2026, 15:49:35 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Akra-Santoshpur Slum Fire: শনিবার ভরদুপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী থাকল দক্ষিণ ২৪ পরগনার আক্রা-সন্তোষপুর এলাকা। ভয়াবহ আগুনের গ্রাসে চলে গেল আক্রা-সন্তোষপুর এলাকার ১৬ বিঘা বস্তি। রেললাইনের ধারের একটি বস্তিতে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠা আগুনের লেলিহান শিখায় মুহূর্তের মধ্যে ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে প্রায় ৪০টি ঝুপড়ি ঘর। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, তার গ্রাসে চলে আসে রেললাইনের ওভারহেড তারও। এই ঘটনার জেরে বজবজ-শিয়ালদহ শাখায় আপাতত ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন হাজার হাজার নিত্যযাত্রী।

আক্রা-সন্তোষপুরে বিধ্বংসী আগুন
আক্রা-সন্তোষপুরে বিধ্বংসী আগুন

ভস্মীভূত ৪০টি ঝুপড়ি, সর্বস্বান্ত বাসিন্দারা

স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার দুপুরে হঠাৎ আক্রা সন্তোষপুরের ওই বস্তি এলাকায় আগুনের শিখা নজরে আসে। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ার পাশাপাশি বস্তিতে প্রচুর পরিমাণে দাহ্য বস্তু মজুত থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে সময় নেয়নি। একের পর এক ঝুপড়ি চোখের পলকে পুড়ে ছাই হয়ে যেতে থাকে। প্রায় ৪০টি ঝুপড়ি পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। বাসিন্দারা প্রাণ বাঁচাতে শিশুদের নিয়ে রেললাইনের ওপর আশ্রয় নেন। এদিকে, স্থানীয়রা প্রথমে আগুন নেভানোর কাজে হাত দিলেও পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে খবর দেওয়া হয় দমকলে। খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ৪টি ইঞ্জিন। তবে ঘিঞ্জি রাস্তার কারণে প্রথমে এলাকায় ঢুকতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় দমকলকর্মীদের। পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাওয়ায় পরবর্তীতে আরও বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন সেখানে পাঠানো হয়।

অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট না হলেও, দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই বিপত্তির সূত্রপাত। ঘিঞ্জি এলাকা এবং ঝুপড়িগুলোতে প্রচুর দাহ্য বস্তু থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এমনকী আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত রেললাইনের দিকে ধেয়ে যায়।

বিপর্যস্ত রেল পরিষেবা

যেহেতু বস্তিটি শিয়ালদহ-বজবজ লাইনের একেবারে কাছেই, তাই আগুনের আঁচ সরাসরি লাগে রেলের পরিকাঠামোয়। আগুনের তাপে রেলের ওভারহেড তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বজবজ লাইনে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এর ফলে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে লোকাল ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রেল পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করতে ময়দানে নেমেছে পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক (সিপিআরও) শিবরাম মাজি জানিয়েছেন, 'যে কোনও আপৎকালীন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে রেল কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ইতিমধ্যেই বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।' রেলের টেকনিক্যাল টিম ক্ষতিগ্রস্ত ওভারহেড তার পরীক্ষা করে তা সারানোর কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে রাজনৈতিক প্রার্থীরা

অন্যদিকে, চোখের সামনে ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ১৬ বিঘা বস্তির বাসিন্দারা। এলাকার আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে। এদিকে, ভোটের আবহে এই বিপর্যয়ের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছান মহেশতলা বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী শুভাশিস দাস। তিনি বলেন, 'আমরা এখানে আছি। কীভাবে আগুন লেগেছে এখনই বলা যাচ্ছে না। আমরা মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি। কিন্তু পারছি না। এখানে দমকলের দুটো ইঞ্জিন এসেছে। আরও গাড়ি আসছে। তবে বিশাল আগুন লেগেছে।' সিপিএম প্রার্থী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ও ঘটনাস্থলে পৌঁছাচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'ঘটনা যখন ঘটেছে, মানুষ ছোটাছুটি করছেন তখন প্রশাসনের কোনও দেখা নেই। আমরা এখন ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।'

ভোটের আবহে এই ভয়াবহ বিপর্যয় ও ট্রেন চলাচল বন্ধ হওয়ায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার একটি বড় অংশে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।