কলকাতা বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় বড় রদবদল! নতুন প্রধানের দায়িত্বে এলেন পদকজয়ী DIG এলকে হাওকিপ
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন হাজার হাজার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যাত্রীর যাতায়াত এবং বিমান চলাচলের নিরাপত্তা বজায় রাখা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ।
কলকাতা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক বড়সড় রদবদল ঘটে গেল। সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (CISF)-এর এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি গ্রুপের (ASG) প্রধান হিসেবে এক অত্যন্ত অভিজ্ঞ এবং পদকজয়ী আইনি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

গত ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (DIG) পদে কর্মরত শ্রী এল. কাইমিনলুন হাওকিপ (Shri L. Kaiminlun Haokip) কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক (NSCBI) বিমানবন্দরের চিফ এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি অফিসার (CASO) হিসেবে আনুষ্ঠানিক দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। কলকাতা বিমানবন্দরের মতো দেশের অন্যতম ব্যস্ত এবং সংবেদনশীল এয়ারপোর্টের সুরক্ষাকে আরও নিশ্ছিদ্র করতে এই প্রবীণ কর্মকর্তার নিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই হাই-প্রোফাইল পোস্টিং এবং নতুন কর্মকর্তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবন নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন হাজার হাজার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যাত্রীর যাতায়াত এবং বিমান চলাচলের নিরাপত্তা বজায় রাখা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ। এই গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য এবার সিআইএসএফ (CISF) তাদের অন্যতম সেরা অফিসারকে কলকাতার নিয়ে এসেছে।
বার্নপুর থেকে সোজা দমদম বিমানবন্দর
কলকাতায় এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বভার গ্রহণ করার আগে শ্রী এল. কাইমিনলুন হাওকিপ পশ্চিম বর্ধমান জেলার বার্নপুরে অবস্থিত ইস্কো স্টিল প্ল্যান্টের (IISCO Steel Plant Burnpur) ডিআইজি (DIG) হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। সেখান থেকে বদলি হয়ে তিনি ১৩ জুলাই কলকাতায় আসেন এবং সিআইএসএফ এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি গ্রুপের ব্যাটন নিজের হাতে তুলে নেন।
বিমান চালনা নিরাপত্তায় দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা (Aviation Security Expert)
শ্রী হাওকিপের নিয়োগের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো এভিয়েশন সিকিউরিটি বা বিমান চালনা নিরাপত্তায় তাঁর দীর্ঘ বছরের অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। দেশের আইন-শৃঙ্খলা এবং বিমানবন্দর সুরক্ষায় তিনি অত্যন্ত পরিচিত একটি নাম। ভারতের মোট ৫টি গুরুত্বপূর্ণ ও বড় বিমানবন্দরে কাজ করার এক বিরল ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। অমৃতসর, আগরতলা, গোয়া, গুয়াহাটি এবং খোদ কলকাতার বিমানবন্দরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি এর আগে সফলভাবে কাজ করেছেন।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, কলকাতা বিমানবন্দর তাঁর জন্য মোটেও নতুন কোনো জায়গা নয়। এর আগেও তিনি দমদম বিমানবন্দরের চিফ এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি অফিসার (CASO) হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব সামলেছেন। তবে তখন তিনি ‘সিনিয়র কমান্ড্যান্ট’ র্যাঙ্কে কর্মরত ছিলেন। এবার পদোন্নতি পেয়ে ডিআইজি (DIG) পদমর্যাদা নিয়ে তিনি পুনরায় কলকাতার বিমানবন্দরের সুরক্ষার হাল ধরলেন।
রাষ্ট্রপতি পদক ও রাষ্ট্রপুঞ্জের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
শ্রী এল. কাইমিনলুন হাওকিপ একজন অত্যন্ত সাহসী এবং কর্তব্যপরায়ণ অফিসার হিসেবে সিআইএসএফ মহলে পরিচিত। তাঁর এই অনবদ্য কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০২৪ সালে তিনি ‘পুলিশ মেডেল ফর মেরিটোরিয়াস সার্ভিস’ (Police Medal for Meritorious Service) বা প্রশংসনীয় সেবার জন্য পুলিশ পদকে ভূষিত হন।
কেবল দেশের গণ্ডির ভেতরেই নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও তিনি ভারতের নাম উজ্জ্বল করেছেন। ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের হাইতিতে রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষ শান্তি রক্ষা মিশন ‘MINUSTAH’ (UN Peace Keeping Mission)-এ কর্মরত থাকার সময় তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে সম্মানজনক ‘ইউএন পিস কিপিং মেডেল’ (UN Peace Keeping Medal)-এ ভূষিত করা হয়েছিল।
বর্তমান ২০২৬ সালের আধুনিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কলকাতা বিমানবন্দরের ক্যাসো (CASO) হিসেবে শ্রী এল. কে. হাওকিপের মতো একজন আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং পদকজয়ী কর্মকর্তার আগমন অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চোরাচালান রোধ এবং যেকোনো ধরণের জরুরি পরিস্থিতি দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে তাঁর এই নতুন ইনিংস দমদম বিমানবন্দরকে আরও সুরক্ষিত করে তুলবে বলেই সকলের বিশ্বাস।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


