Dilip Ghosh on CJP: 'বামেরাই আরশোলারা তৈরি করে', আশুতোষ রাঙ্কার পাশে শতরূপকে দেখে বিস্ফোরক দিলীপ
দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, আন্দোলনের নামে সমাজে অশান্তি ছড়ানোর প্রবণতার পিছনে রয়েছে বামপন্থী রাজনীতির প্রভাব। তাঁর বক্তব্য, ‘রাতারাতি আরশোলারা আর কোথা থেকে আসবে? এসবই তো কমিউনিস্টদের তৈরি। তারাই আরশোলা, ছারপোকাদের তৈরি করে। বামপন্থীদের হাত ধরে দেশদ্রোহী তৈরি হয়। যারা আন্দোলনের নামে সমাজে অশান্তি বাঁধায়।’
‘কমিউনিস্টদের হাত ধরেই দেশদ্রোহী তৈরি হয়’—গেরুয়া শিবিরের তরফে এমন অভিযোগ নতুন নয়। তবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি-র সঙ্গে সিপিএম ও এসএফআইয়ের সাম্প্রতিক যোগাযোগকে কেন্দ্র করে সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার সকালে কলকাতার ইকো পার্কে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সরাসরি নিশানা করেন বামপন্থীদের।

দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, আন্দোলনের নামে সমাজে অশান্তি ছড়ানোর প্রবণতার পিছনে রয়েছে বামপন্থী রাজনীতির প্রভাব। তাঁর বক্তব্য, ‘রাতারাতি আরশোলারা আর কোথা থেকে আসবে? এসবই তো কমিউনিস্টদের তৈরি। তারাই আরশোলা, ছারপোকাদের তৈরি করে। বামপন্থীদের হাত ধরে দেশদ্রোহী তৈরি হয়। যারা আন্দোলনের নামে সমাজে অশান্তি বাঁধায়।’
মন্ত্রীর এই মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে বাঁকুড়ার ইন্দাসের সাম্প্রতিক ঘটনা। সেখানে সিজেপি-র সমর্থক শেখ আবদুল হাফিজের বাড়িতে হামলার ঘটনায় তাঁর বাবার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর সোমবার দিল্লি থেকে হাফিজের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বাঁকুড়ায় যান সিজেপি-র অন্যতম মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা-সহ বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি।
সেই সফরেই তাঁদের সঙ্গে দেখা যায় সিপিএমের তরুণ নেতা শতরূপ ঘোষ এবং ময়ূখ বিশ্বাসকে। করিশুন্ডা গ্রামে হাফিজের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সময় আশুতোষদের পাশে ছিলেন বাম নেতারাও। পরবর্তীতে সাংবাদিক বৈঠকেও তাঁদের একসঙ্গে দেখা যায়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে সিজেপি-র সঙ্গে বামেদের সম্পর্ক নিয়ে।
শুধু তাই নয়, হাফিজের বাবা শেখ মাফিকের মৃত্যুর প্রতিবাদে সোমবার রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ডাক দেয় এসএফআই। করিশুন্ডা গ্রামে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সময় শতরূপ ঘোষও সিজেপি প্রতিনিধিদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেন। ফলে সিপিএম-এসএফআই এবং সিজেপি-র এই প্রকাশ্য ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সংগঠনের অন্দরেও কিছুটা বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সিজেপি-র একাংশের আশঙ্কা, বাংলায় এভাবে সরাসরি সিপিএম নেতৃত্বের পাশে দাঁড়িয়ে সাংবাদিক বৈঠক করলে তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন জি-র মধ্যে ভুল বার্তা যেতে পারে। তাঁদের বক্তব্য, এর ফলে আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য এবং সংগঠনের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটেই দিলীপ ঘোষ ফের কমিউনিস্টদের কাঠগড়ায় তোলেন। তাঁর দাবি, ছাত্র আন্দোলনের নামে বামপন্থীরা অশান্তির পরিবেশ তৈরি করছে এবং দিল্লির সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিও তার উদাহরণ। তিনি বলেন, ‘কমিউনিস্টদের হাত ধরেই তো রাতারাতি আরশোলা, ছারপোকা তৈরি হয়েছে আর সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে। এসব বামপন্থীদের মাথা থেকেই বেরচ্ছে। এরা ছাত্র আন্দোলনের নাম করে অশান্তি করছে।’
দিলীপ ঘোষ আরও দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত। তাঁর কথায়, দিল্লিতে যা ঘটেছে, বাংলায় সেই ধরনের অশান্তির চেষ্টা হলে তা সফল হতে দেওয়া হবে না। ‘আমাদের রাজ্য সরকার সতর্ক। এখানে ওই ধরনের অশান্তি করতে চাইলে কেউ সফল হবে না। রুখে দেওয়া হবে,’ বলেন তিনি।
ফলে বাঁকুড়ার একটি ঘটনার সূত্র ধরে সিজেপি ও বামেদের ঘনিষ্ঠতা যেমন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে, তেমনই দিলীপ ঘোষের মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। কমিউনিস্টদের ‘দেশদ্রোহী তৈরির কারখানা’ হিসেবে চিহ্নিত করার তাঁর মন্তব্য আগামী দিনে রাজনৈতিক তরজা আরও বাড়াতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


