Dilip Ghosh on JU: যাদবপুরে দেশবিরোধী স্লোগান উঠলেই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’! দিলীপের হুঙ্কার, ‘৬ মাস অপেক্ষা করুন’

শুক্রবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক অশান্তি নিয়ে মুখ খোলেন দিলীপ। তিনি বলেন, তিনি ইন্দোরে ছিলেন। তাই ঠিক কী ঘটেছে, তা বিস্তারিত জানেন না। তবে তাঁর বক্তব্য, দেশবিরোধী কোনও কাজ মেনে নেওয়া হবে না।

Published on: Aug 21, 2026, 11:33:17 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তি নিয়ে বিতর্ক থামছে না। বরং রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ছে। বৃহস্পতিবার যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় দেশবিরোধী স্লোগান বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। শুক্রবার সেই সুর আরও চড়ালেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, যাদবপুরে দেশবিরোধী স্লোগান উঠলে ফের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ হতে পারে।

যাদবপুর নিয়ে দিলীপের বক্তব্য, দেশবিরোধী কোনও কাজ মেনে নেওয়া হবে না। (PTI)
যাদবপুর নিয়ে দিলীপের বক্তব্য, দেশবিরোধী কোনও কাজ মেনে নেওয়া হবে না। (PTI)

শুক্রবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক অশান্তি নিয়ে মুখ খোলেন দিলীপ। তিনি বলেন, তিনি ইন্দোরে ছিলেন। তাই ঠিক কী ঘটেছে, তা বিস্তারিত জানেন না। তবে তাঁর বক্তব্য, দেশবিরোধী কোনও কাজ মেনে নেওয়া হবে না।

দিলীপের দাবি, অতীতে যাদবপুরে এমন ঘটনা ঘটেছে। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে দেশবিরোধী কাজ করা কিছু মানুষ প্রশ্রয় পেয়েছেন। সেই প্রসঙ্গ তুলেই তিনি বলেন, এর আগে এবিভিপি ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ করেছে। প্রয়োজনে আবারও এমন পদক্ষেপ হতে পারে।

শুধু তাই নয়। দিলীপের মন্তব্যে উঠে এসেছে আগামী কয়েক মাসের ইঙ্গিতও। তিনি বলেন, ‘ছ’মাস অপেক্ষা করুন, অনেক কিছু হবে।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার রাত থেকেই অশান্তির সূত্রপাত। অভিযোগ, জিবি মিটিং চলাকালীন অরবিন্দ ভবনে ঢুকে পড়েন এবিভিপির কয়েক জন সদস্য। বৈঠক ঘিরে প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। প্রশ্ন ওঠে, যেখানে ছাত্র সংসদই নেই, সেখানে কীসের জিবি বৈঠক?

এই প্রশ্নের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ফেটসুর সদস্যদের সঙ্গে এবিভিপির সদস্যদের বচসা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতিতে গড়ায় বলে অভিযোগ। দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলে। কয়েক জন এবিভিপি সদস্যকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে কর্মসূচির ডাক দেয় বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই। পালটা কর্মসূচি নেয় এবিভিপিও। দুপুরে দুই পক্ষের মিছিল ও জমায়েতকে ঘিরে আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর।

অশান্তির মধ্যেই দেশবিরোধী স্লোগানের অভিযোগ সামনে আসে। যদিও কোন পক্ষ, কী স্লোগান দিয়েছে, তা নিয়ে পালটা দাবি রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এখনও রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে।

এই পরিস্থিতিতেই বৃহস্পতিবার যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় কড়া ভাষায় বার্তা দেন। তাঁর বক্তব্য, দেশবিরোধী স্লোগান বা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। যাদবপুরকে দেশবিরোধী কার্যকলাপের জায়গা হতে দেওয়া যাবে না বলেও দাবি করেন তিনি।

শর্বরীর মন্তব্যের পর দিনই আরও কড়া সুরে দিলীপ ঘোষের বার্তা। তাঁর কথায়, দেশবিরোধী স্লোগান উঠলে যাদবপুরে আবার ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ হবে।

দিলীপের এই মন্তব্য নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরও কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিতই কি দেওয়া হচ্ছে? সেই প্রশ্ন উঠছে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় বহু দিন ধরেই রাজনৈতিক আন্দোলন ও ছাত্র রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ফলে সেখানে কোনও অশান্তি হলেই তা দ্রুত রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে ওঠে। এবারের ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়।

এক দিকে হামলা, পালটা হামলা এবং মিছিল। অন্য দিকে দেশবিরোধী স্লোগানের অভিযোগ। সব মিলিয়ে যাদবপুরে উত্তেজনা এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই দিলীপ ঘোষের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও রাজনৈতিক করে তুলেছে।

এখন নজর, আগামী দিনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে। আর রাজনৈতিক দলগুলির এই পালটা হুঁশিয়ারির পর যাদবপুরে পরিস্থিতি শান্ত হয়, নাকি নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More